গুলশানে রেস্তোরাঁয় অস্ত্রধারীদের ভয়াবহ হামলা, ওসি সালাউদ্দিন নিহত

২৭ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক # গুলশানের কূটনৈতিকপাড়ায় একটি রেস্টুরেন্টে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। তাদের গুলি, গ্রেনেড ও বোমা হামলায় বনানী থানার ওসি নিহত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কিছু আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অস্ত্রধারীরা রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থানরতদের আটকে রেখেছে। বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য রেস্টুরেন্টসহ পুরো এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে। রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ভেতরে যারা রয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। ভেতরে যাদের জিম্মি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ২৫ জন বিদেশী নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং আরবের কিছু দেশে এরূপ ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এমন সন্ত্রাসী ঘটনা এটাই প্রথম।

গত রাত পৌনে ৯টায় গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর রোডের হলি আর্টিজান বেকারি ও চিকেন রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। কূটনৈতিকপাড়ার এই রেস্টুরেন্টে সাধারণত বিদেশীরাও খাওয়া দাওয়া করে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, পৌনে ৯টায় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৮-১০ জন সন্ত্রাসী ওই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে গোলাগুলি শুরু করে। একই সাথে তারা গ্রেনেড হামলা ও বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটায়। গুলি, গ্রেনেড ও বোমার বিস্ফোরণে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সদস্য ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্যরাও সেখানে যান।

এ দিকে সন্ত্রাসীরা ওই রেস্টুরেন্টে ঢুকে গোলাগুলি শুরুর পর সেখান থেকে কিছু লোক বাইরে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। বাকি যারা ছিলেন তাদের আটকে রাখে অস্ত্রধারীরা। সেখানে কত সংখ্যক লোক আটকা পড়েছেন তা জানা যায়নি। তবে যাদের আটকে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে আনুমানিক ২০ জন বিদেশী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজা। তিনি বলেন, রাত পৌনে ৯টায় আট থেকে ১০ জন যুবক অতর্কিতে আর্টিজানে ঢুকে পড়ে। তাদের একজনের হাতে ছিল তলোয়ার, বাকিদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র। ঢুকেই তারা কয়েকটি ফাঁকাগুলি করে এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করে। তখন ভেতরে ২৫ জনের মতো বিদেশী নাগরিক ছিলেন।

সুমন নিজে ও আর্টিজানের আরেকজন কর্মী (ইতালির নাগরিক) দোতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে বাইরে আসেন। সুমন বলেন, ‘আমি ছাদে ছিলাম। ওরা যখন বোমা মারতে ছিল, তখন বিল্ডিং কাঁপছিল। ওরা ১০-১২টা বোমা মারছে। মারতেই আছে, মারতেই আছে। ওরা সামনের দিকে স্টেপ নিচ্ছিল মনে হচ্ছিল। তখন ছাদ থেকে লাফ দিই।’ সুমন রেজা বলেন, ‘ভেতরে থাকা আমাদের কর্মীরা ফোন ধরছে না। আমাদের স্টাফদের মধ্যেও দু’জন বিদেশী। এর মধ্যে ইতালির নাগরিক বের হতে পারলেও আর্জেন্টাইন কর্মীর কোনো খোঁজ নেই।’

সর্বশেষ রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ভেতর থেকে অস্ত্রধারীরা পরপর দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বেশ কয়েকটি গুলি ছোড়ে। এ সময় চার দিকে ঘিরে থাকা র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা দৌড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। একজন প্রত্যদর্শী জানান, বেকারির সামনে আহত অবস্থায় পুলিশের পোশাকধারী কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পৌনে ১১টায় আবার গুলির শব্দ পাওয়া যায়। তার কিছুণ আগে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিনসহ আহত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে কনস্টেবল আলমগীর (২৬), প্রদীপ (২৮) ও পথচারী আব্দুর রাজ্জাক রানাকে (৩০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নূর-এ আলম সিদ্দিকী, বিশেষ প্রতিনিধি #

নূর-এ-আলম ছিদ্দিকী, পিতা: হাজী মোঃ ওয়ায়েদ উল্লাহ, মাতা: মোসাঃ খোদেজা বেগম। জন্ম : ২ জুন, ১৯৭২, ৬৭/১, পাওয়ার হাউজ রোড, শিমরাইল কান্দি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া। বর্তমানে অবস্থান : বাড়ী নং #১১২, ব্লক-সি, ওয়ার্ড নং- ২, কান্দিপাড়া, মিজমিজি, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। মোবাইল নম্বর : ০১৭১১-৩৯৬০৪৮, ০১৮১৯-৪৪৪০২২, ই-মেইল : rezveahmed121@gmail.com জাতীয় পরিচয় পত্র নং: ১৯৭২১২১০৪৬৮২২০৬০৩

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com