আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

লক্ষ্মীপুরের আমন মাঠে সর্বোচ্চ ফলন, বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় জাত

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন কৃষকরা। ধানকাটা ও মাড়াই শুরু হওয়ার প্রাক্কালেই কৃষকরা প্রত্যাশা করছেন এবার সর্বোচ্চ ফলন ঘরে তুলবেন তারা। আমনের ফলন ভালো হলেও দেশীয় প্রজাতি ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় প্রাণের সে সব জাতের জন্য অনুশোচনা ও করছেন তারা।

গত সপ্তাহ থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, লক্ষ্মীপুর সদর এবং কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, ধান কাটার সঙ্গে কৃষক বধূরাও থেমে নেই। ধান কেটে বাড়ি আনা, ধান মাড়াই, শুকিয়ে ঘরে তোলা, এ কাজ করছেন কৃষকদের সাথে কৃষাণ-কৃষাণীরাও।

জেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলার রামগতিতে আমনের চাষ হয়েছে ২৪ হাজার হেক্টর, লক্ষ্মীপুর সদরে ২১ হাজার ৫শ ৫০, কমলনগরে ২০ হাজার ৪শ ১০, রায়পুরে ৯ হাজার ও রামগঞ্জে ৩৩শ হেক্টর। তবে জেলায় এবার দেশীয় ধানের চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে।

কমলনগর উপজেলার উত্তর চর লরেঞ্চ গ্রামের কৃষক মনির আহমেদ জানান, তিনি ২ একর জমিতে আমন ধান আবাদ করে এবার সর্বোচ্চ ফলন হবে বলে আশা করছেন। একই গ্রামের মোঃ দুলাল মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে এবার তিনি ১ একর জমিতে আমন চাষ করেছেন। তার ক্ষেতের ফলন ভাল হয়েছে। ধানে চিটা নেই বললেই চলে। তবে গত নিম্নচাপ না হলে ফলন আরো ভাল হতো।

কমলনগর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন পলাশ এবং রফিক উল্লাহ মুরাদ জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। ফলে আমনের ফলন ভালো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোতাহের হোসেন জানান, জেলার ৫টি উপজেলার শতকরা ৯০ ভাগ কৃষক চলতি মৌসুমে হাইব্রিড ও ব্রি ধান চাষ করেছেন। হাইব্রিড ও ব্রি ধান দেশীয় প্রজাতির তুলনায় তিনগুণ ফলন দেয় এবং সময়ও কম লাগে। এতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। হাইব্রিড ও ব্রি ধান চাষ বেড়ে যাওয়ায় ক্রমে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশী নানা বাহারি নামে ধানের।

এদিকে কৃষকরা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং রোগ বালাই কম হওয়ায় আমন আবাদে ভালো ফলন হয়েছে। তবে দিন দিন নতুন নতুন জাতের আমন ধান কৃষককে উজ্জীবিত করছে। যার ফলে দেশীয় বৈচিত্র্যময় ধানের জাতগুলো ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে। তারা আরো জানান, ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় বিখ্যাত ধান গিগজ, লোহাচুরা, কাজল শাইল, রাজা শাইল, কার্তিক শাইল, মধুমালতি, কুটিয়া মনি, ধলামোডা, বালাম, মইশা মিরা, পাটজাত, দেশীয় পাইজামের মতো কয়েকটি ভালো জাত বিলুপ্ত হতে চলছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি এ সব জাত টিকে রাখার দাবিও তাদের।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৮ হাজার ২শ ৬০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৩ হাজার ৩শ ২৩ হেক্টর। উৎপাদিত এ সকল জমি থেকে এ বছর লক্ষ্মীপুরে ১ লাখ ৮৩ হাজার ১শ ৬৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন জেলা কৃষি অফিস।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com