টানা বর্ষণে লক্ষ্মীপুরে জনদূর্ভোগ, ক্ষতির আশংকা আমন ও সবজির

১৯ বার পঠিত

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় নাডা’র প্রভাবে গত ৫দিন থেকে টানা বৃষ্টির কারণে লক্ষ্মীপুরে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরমে দূর্ভোগ পৌঁহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীসহ লাখো মানুষকে। শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাব্ধতা দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরী জীবিরাও। টানা বৃষ্টির কারনে লক্ষ্মীপুর বাজারে অধিকংশ দোকান পাট বন্ধ থাকলেও কিছুকিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খুললেও অলস সময় পার করছেন মালিকরা। বাস-স্ট্র্যান্ড গুলোতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনা মুলক কম। অপরদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে জেলায় আমন ধানসহ সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষক। অনেক ফসলী ধানের জমির ধানের চারাগুলো ইতিমধ্যেই বৃষ্টি ও বাতাসে মাটিতে পড়ে গেছে। গত কয়েক দিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কৃষকরা এ ক্ষতির সম্মুখিন হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের পিটিআই সংলগ্ন কলেজ রোডের রাস্তা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পৌর-শহরের বিভিন্ন সড়কও। ফলে দূর্ভোগে পড়েছে স্কুল কলেজ পড়–য়া হাজার-হাজার ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ জনগণ। দক্ষিণ তেমুহনী আলম হোটেল ও ট্রাক-অফিসের সামনে রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারনে মানুষ চলা-চলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, জেলার বিভিন্নস্থানে প্রবল বাতাসে ফসলের মাঠে আমন ধান পানিতে পড়ে বিনষ্ট হওয়ার পথে। মাটিতে গড়িয়ে গেছে ধানের চারাগুলো। অপরদিকে আমন ধানের পাশাপাশি জেলার সদর, কমলনগর, রায়পুর, রামগঞ্জ উপজেলার অনেক কৃষক শাকসব্জির চাষ করেন। অতি বৃষ্টিতে শাক সব্জির গুড়ায় পানি জমে মরে যাচ্ছে। এতে সাধারণ কৃষকরা লাভের চিন্তা না করে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। অনেকেই সবজি চাষ করতে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। এখন তাদের মাথায় হাত।

লক্ষ্মীপুর বাজারের আনন্দ ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ী মো: জামাল উদ্দিন বলেন,  টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে আমাদের ব্যবসা-বানিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাজারে কোন ক্রেতা নেই। সকাল থেকে বসে আছি। বৃষ্টি আর জলবদ্ধতার কারনে আমরা ব্যপক  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ইতিমধ্যে সদর উপজেলার বেশ কিছু বেড়ী বাঁধ অপসারণ করা হলেও এখনো কিছু অসাধু চক্র বাঁধ দিয়ে জলাব্ধতা সৃষ্টি করছে। অচিরেই এসকল বাঁধ অপসারণ করা হবে বলে সাধারণ মানুস আশাবাধ ব্যক্ত করেছেন।

কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামের জামাল প্রায় ৫ বিঘা জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা, কুমড়াসহ বিভিন্ন জাতের শাক-সব্জির চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত পাঁচদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে ৫ বিঘা জমির শাক সব্জির প্রায় সব গাছ মরে যাচ্ছে। এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে অশংকা করছেন। লরেঞ্চ ইউনিয়নের উত্তর লরেঞ্জ  গ্রামের কাশেম জানান, তার প্রায় ৪ বিঘা ধানের জমিতে প্রায় ১২০ মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অতি বৃষ্টি ও ঝড়ের ফলে ধানের চারা গাছ পড়ে যাওয়ায় প্রায় অর্ধেকের চেয়ে কম উৎপাদন হবে বলে আশংকা করছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি #

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি। মোবাইলঃ 01714-953963, ইমেইলঃ kkumar3700@gmail.com

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com