ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি ও এএসআই’র বিরুদ্ধে মামলা

১৩ বার পঠিত

আদিত্ব্য কামাল স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈনুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অলিখিত স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। শহরের মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা মো. নাছিম মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বুধবার আদালতের বিচারক শরাফ উদ্দিন আহমেদ মামলাটি আমলে নিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হক সরকারের ছেলে ফাহাদকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বাদী মো. নাছিম মিয়ার অভিযোগ করেন, তার ভাগিনা ফাহাদ জমি কিনতে ৩০ লাখ টাকা ধার নিয়ে তাকে ব্যাংকের একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকের ওই একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে তিনি ভাগিনা ফাহাদের বিরুদ্ধে আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন।
এ মামলা দায়েরের পর ভাগিনা ফাহাদ তাকে (বাদীকে) হয়রানি করতে সদর থানার ওসি মো. মাঈনুর রহমান ও এএসআই মো. মেহেদী হাসানকে ম্যানেজ (ঘুষ প্রদান) করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর এএসআই মেহেদী গত ৬ এপ্রিল বাদীকে ফোন করে রত্না নামে কোনো মেয়েকে চেনেন কিনা জানতে চান। তিনি এ নামে কাউকে চেনেন না জানালে মেহেদী পরদিন দুপুরে তাকে থানায় আসতে বলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, কথামতো বাদী নাছিম মিয়া পরদিন বিকেল তিনটার দিকে থানায় গেলে তাকে ওসির কক্ষে নিয়ে যান এএসআই মেহেদী। এরপর ওসি মাঈনুর তাকে ফাহাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা চেকের মামলাটি উঠিয়ে চেকসহ অন্যান্য কাগজপত্র থানায় জমা দিতে বলেন। নাছিম মিয়া টাকা না পেয়ে মামলা উঠাবেন না জানালে এএসআই মেহেদী তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং হাত পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

নাছিম মিয়ার অভিযোগ, এ সময় তাকে অলিখিত একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলেন। স্বাক্ষর না দিলে খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়ে তাকে চালান করারও হুমকি দেওয়া হয়। স্বাক্ষর না করায় তাকে রাত অনুমান আটটা পর্যন্ত ওসির কক্ষেই আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে তিন পৃষ্ঠার একটি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করা হয়। পরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে নিয়ে রেকর্ডবুকেও তার নাম-ঠিকানা লিখে স্বাক্ষর রাখা হয়। এরপর এএসআই মেহেদী তাকে জানান, ফাহাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা চেকের মামলাটি উঠিয়ে আদালতের কাগজপত্র জমা দিলে তার স্বাক্ষরযুক্ত স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হবে বলে অেভিযোগ করা হয়।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, ওসির কক্ষে থাকার সময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন সেট ও প্রাইভেটকারের চাবি জব্দ করে এএসআই মেহেদী। স্বাক্ষর করার পর চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়। পরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার, পৌরসভার মেয়রসহ শহরের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। এরপরও বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী রাসেল বলেন, বিচারক মামলাটি আমলে নেওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈনুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আদিত্ব্য কামাল, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি #

Adithay Kamal House#412, Alhampara, Bhadughar 3400 Brahmanbaria, Bangladesh Mobile : 01713-209385

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com