পদ্মা-মেঘনায় অবস্থিত ইলিশ অভায়শ্রমে দু’মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে

১২১ বার পঠিত

ইয়াসিন মাহমুদ আরাফাত, চাঁদপুর # “জাটকা রক্ষা করবো মেঘনার চর গড়বো”, এ স্লোগানকে সামনে রেখে মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রম আগামীকাল থেকে শুরু হবে। এ অভয়াশ্রম চলাকালে চাঁদপুর সহ দেশের ৫টি জেলার নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো, চাঁদপুর, ভোলা, লক্ষীপুর, পটুয়াখালি ও শরীয়তপুর। মৎস্য আইনে এ সময়ের মধ্যে মেঘনা পদ্মার বিস্তৃর্ণ এলাকায় কোনো প্রকার জাল ব্যবহার ও কোনো প্রজাতির মাছ শিকার করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভয় আশ্রমের দুই মাস মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরবিহন, মজুদ ও নিষিদ্ধ। কেউ আইন অমান্য করে জটকা নিধন করলে তিন বছররের কারাদন্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের অস্তিত্ব যখন বিলীন হওয়ার পথে, ঠিক সেই সময় ২০০৬ সালে ইলিশ বিজ্ঞানীদের সুপারিশে সরকার চাঁদপুরের ৬০ কিলোমিটার নদীকে জাটকা মাছের অভয় আশ্রম ঘোষণা করে জাল দিয়ে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। ওই বছর সাফল্য আসায় পরবর্তীতে দেশের আরো চারটি অঞ্চলকে জাটকার অভয় আশ্রম ঘোষণা করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও জাটকা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরসহ সারা দেশের পাঁচটি অভয় আশ্রমের সাড়ে সাত হাজার বর্গকিলোমিটার নদীতে দুই মাস নিষিদ্ধ থাকবে মাছ ধরা।

চাঁদপুর জেলায় ইলিশ শিকারে নিয়োজিত লক্ষাধিক জেলে পরিবার রয়েছে। সরকারি হিসেবে তালিকাভুক্ত এ সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫শ’ ৫ জন। এর মধ্যে ৩০ হাজার জেলে পরিবারকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তালিকার বাইরে থাকা সাড়ে ছয় হাজার জেলে পরিবারের খাদ্য সহায়তা পাওয়া এখনও অনিশ্চিত। যার কারণে পেটের দায়ে এসব জেলে পরিবারগুলোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা শিকার করার আশঙ্কা রয়ে গেছে।গবেষকরা বলছেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে যে কোনো মূল্যে জাটকা রক্ষা কার্যক্রম সফল করতে হবে। বন্ধ করতে হবে জাটকা নিধন। মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটর গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, সঠিকভাবে জাটকা রক্ষা করা সম্ভব হলে আগামি মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।

অন্য দিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে এ বছর জাটকা রক্ষা কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। কোনো জেলে যাতে নদীতে মাছ ধরতে না পারে সে জন্য সচেতনতার পাশাপাশি নদীতে টাক্সফোর্স গঠন করা হয়েছে জেলাপ্রসাশন, কোস্টগার্ড, পুলিশ বাহিনী, নৌ-পুলিশ থাকবে এ টাক্সফোর্সের আওতায়।

তিনি আরো জানান, সারা দেশেই কঠোর থাকবে মৎস্য বিভাগের অভিযান। চাঁদপুরের ৪১ হাজার ১শ ৭৯ জেলে পরিবারকে এ বছর প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া আরো দুই হাজার জেলে পরিবারকে দেওয়া হবে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী, সেলাই মেশিনসহ কৃষি উপকরণ। এ ছাড়া তালিকাভূক্ত সাড়ে ছয় হাজার জেলেদেরকেও সহায়তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্ধ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বাদ পড়া জেলেদেরকেও সহায়তার করা হবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল জানান, জাটকা রক্ষা কার্যক্রম সফল কারার জন্য এ বছর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যে সব জেলার নদীতে জাটকা ইলিশের বিচরণক্ষেত্র রয়েছে ওই সব এলাকায় জাটকা রক্ষা কার্যক্রম তদারকির করবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এছাড়াও এবার জেলে নৌকা চিহ্নিত করার জন্যে একটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।

তিনি বলেন, জেলেদের নৌকাগুলো রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং নাম্বার প্লেট থাকবে। চাঁদপুরের নৌকাগুলোতে নির্দিষ্ট কালার হলুদ থাকবে। রেজিস্ট্রেশন করবে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ। এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এজন্যে যে, অন্য জেলা থেকে কোনো নৌকা আসলে সহজেই যাতে চিহ্নিত করা যায়। মৎস্য আইন অনুযায়ী জাটকা ইলিশের পাঁচটি অভয় আশ্রমে সবচেয়ে বড় এলাকাটি চাঁদপুরের মতলবের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত। অথচ প্রতি বছরই এই সময়ে শুরু হয় জাটকা ও কিশোর ইলিশ নিধণের মহোৎসব। আর এ বছর আগে থকেই অসাধু জেলেরা নির্বিচারে নিধন করছে জাটকা।

পদ্মা-মেঘনা নদীর পাড়ের চাঁদপুর, শরীয়তপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ভোলারসহ অন্যান্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে অস্থায়ী আড়ত গড়ে উঠেছে। সচেতন জেলেরা এসব এলাকায় অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। জাটকা নিধনের প্রতিরোধে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদীর তীরবর্তি এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ও সেমিনার করা হচ্ছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com