২০২১ সালে রফতানি আয় হবে ৬০ বিলিয়ন ডলার

১২১ বার পঠিত
আগামী ২০২১ সালে দেশের রফতানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। একই সঙ্গে এই সময়ে পোশাক শিল্পের রফতানি ১৮ বিলিয়ন ডলার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) গ্যাপেক্সপো-২০১৭ এর ৮ম আন্তর্জাতিক শিল্প মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সজিবিশন প্রা. লি. ইন্ডিয়া ও জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।  
 
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে। আজ আমাদের সবক্ষেত্রে উন্নয়নের বিস্ময়। গার্মেন্টস শিল্প ১২ হাজার মিলিয়ন ডলার রফতানি দিয়ে শুরু হয়েছিল। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে গার্মেন্টসসহ সব সেক্টরে ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্য রয়েছে। যেখানে গার্মেন্টস শিল্পে লক্ষ্য ১৮ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালে মাত্র ৩৩৮ মিলিয়ন ডলারে ২৫টি পণ্য রফতানি করা হয়েছিল। অথচ বর্তমানে রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। গত ৮ বছরে রফতানি আয় বেড়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার। এখন আমরা খাদ্যও রফতানি করতে পারছি। তিনি আরো বলেন, আমরা ২১ সালে গার্মেন্টস শিল্পে ১৮ বিলিয়ন ডলার রফতানি করতে পারবো। এটা কম কথা নয়। ২০০৫ সালে যখন কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয় তখন অনেকেই গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে অনেক কথা বলেছিলেন। কিন্তু সময় সাপেক্ষে আজ আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
 
এছাড়া শুল্কমুক্ত সুবিধা নেই তারপরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রধান পণ্য রফতানির দেশ। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেন, দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও এক্সেসরিজ রফতানি করছে বাংলাদেশ। এতে বুঝা যাচ্ছে দেশ কতটা এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকে বলেছিল রফতানিতে কোটা উঠে গেলে গার্মেন্টস শিল্প থাকবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু কোটা বাতিল হওয়ার পর এই শিল্প আরো বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো হবে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আজ বিশ্ব বাজারে স্থান দখল করে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আজ বিশ্বে বাংলাদেশ একটি উদাহরণ। আর এ উদাহরণ হচ্ছে, গার্মেন্টস শিল্পে নারী বিপ্লব ও অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়নের কারণে। রানা প্লাজা সবাইকে সচেতন করেছে উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে আমাদের শিল্প সেক্টরে কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেড়েছে। তবে দুর্বিষহ ঘটনার স্মৃতি কখনেই ভুলে যাওয়া যায় না।
 
সেসব কষ্টগুলোকে ধরে আমরা সামনের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, এবার মেলায় দেশি-বিদেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে মোট ৮টি হলে ৬০০টি স্টলসহ ৮০০টি বুথ রয়েছে। শিল্প মেলায় ভারত, চীন, পাকিস্তান, তাইওয়ান, জার্মানি, থাইল্যান্ড, জাপান, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, হংকংসহ মোট ৩০টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। স্টলগুলোতে মেশিনারিজসহ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্যের মেশিনারিজ, কাঁচামাল এবং গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যসহ ইয়ার্ন ও ফেব্রিক্স প্রদর্শিত হচ্ছে। যা চলবে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।   বিজিএপিএমইএ এর সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর এস কে সুর চৌধুরী, এফবিসিসিআই এর প্রথম সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ, এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সজিবিশন প্রা. লি. ইন্ডিয়ার পরিচালক নন্দ গোপাল কে প্রমুখ।
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com