২০১৬ -তে যেকারণে আলোচিত সিলেট

৪৬ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সফর দিয়ে সিলেটবাসীর সম্ভাবনার বছর ২০১৬ শুরু হয়। আর বিশ্ব ইজতেমার অংশ হিসেবে জেলা ইজতেমার মধ্য দিয়ে বছর শেষ হয়েছে। তবে খুনোখুনি আর অনাকাংখিত ঘটনার ছড়াছড়ি ছিলো পুরোটা বছর জুড়ে। আবার বিশ্ব ইজতেমা ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে দিয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টার প্রেরণা।

২০১৬ সালে সিলেটে সংঘটিত বেশ কিছু ঘটনার খন্ড চিত্র :

রাজন হত্যা : এই বছরে সিলেটে ঘটেছে আলোচিত শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনা। ৮ই জুলাই সিলেট নগরীর টুকেরবাজারে ঘটে আলোচিত শিশু রাজন হত্যা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া ২৮ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেশের ভেতরেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই খুনের ঘটনার পলাতক আসামি কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। আর আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় ঘোষণা করা হয় মাত্র ১৭ কার্য দিবসে। সিলেটের শিশু সাঈদ হত্যা মামলার আগে রাজন হত্যা মামলার রায় ছিল সিলেটের ইতিহাসে কোনো হত্যা মামলার স্বল্পতম বিচারের রায়। ৮ই নভেম্বর বিচার শেষ হয়েছে। আর বিচারে প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ ৪ আসামির ফাঁসির দণ্ড হয়েছে।

রাজনকে আটকে রাখার পর ওয়ার্কশপের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে টানা ৫ ঘণ্টা পেটানো হয়। নির্মম নির্যাতনের সময় রাজন এক ফোটা পানির জন্য আর্তনাদ করলেও তাকে পানি দেয়া হয়নি। এমনকি পানি দেয়ার নাম করে তাকে শরীরের ঘাম খাওয়ায় ঘাতকরা। বারবার বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল রাজন। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য অনেকের কাছে চেয়েছে প্রাণভিক্ষা। কিন্তু রাজনকে বাঁচতে দেয়া হয়নি। নির্মম নির্যাতনের কষ্ট সইতে না পেরে শিশু রাজন এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আর ঘটনার দিন রাজনের লাশ মাইক্রোবাস যোগে গুম করতে যাওয়ার পথে লাশসহ গ্রেপ্তার হয় প্রধান আসামি কামরুল ইসলামের ভাই মুহিত আলম। এই রায়ে সন্তুষ প্রকাশ করেন রাজনের পিতা আজিজুর রহমান ও মা লুবনা বেগম। সন্তুষ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। ন্যায়বিচার পান সিলেটবাসীও। স্বল্পতম বিচারের রেকর্ড করে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত।

খাদিজার ফিরে আসা : ২০১৬ সালের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিলো সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের উপর নৃশংস হামলা। গত ৩ অক্টোবর বিকেলে সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। খাদিজাকে কোপানোর দৃশ্য ফেইসবুক সহ বিভিন্ন সমাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও উঠে আসে খাদিজা ইস্যু। হামলার পর খাদিজার বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় ছিলো। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোটে থাকা খাদিজার উন্নত চিকিৎসা শেষে অলৌকিকভাবে ফিরে আসা ছিলো বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুক মিয়ার মেয়ে।

অন্যদিকে বদরুল আলম ঘটনার পর আটক হয়। তার বাড়ি ছাতক উপজেলার মনিরগাতি গ্রামে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আদালতে খাদিজা হত্যা মামলার বিচার চলছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে তার পরিবার। স্কয়ার হাসপাতালে দুমাস চিকিৎসার পর বর্তমানে সাভারের পক্ষাগাতগ্রস্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) তাকে থেরাপী দেয়া হচ্ছে।

প্রাণঘাতি বজ্রপাত : সারাদেশের মত সিলেট জুড়ে ২০১৬ সালের বর্ষা মৌসুমে আতংকের নাম ছিল বজ্রপাত। কেবল মে ও জুন মাসে সিলেট বিভাগে বজ্রপাতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এই তথ্যের বাইরেও রয়ে গেছে অনেক মৃত্যু। ৩ অক্টোবর বিনা বর্ষণে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে দুই ব্যক্তি বজ্রপাতে নিহত হন।

নিহতরা হলো- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া চাদনী ঘাটের তাজ উল্লাহর ছেলে টিপু সুলতান (৩৫) ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সোনালী বাংলাবাজারের বাউয়াল জেনী গ্রামের সুনাফর আলীর ছেলে একদুছ আলী (৩০)। এ বছরের ১৫ মে ৮ জন ও ১৩ মে ৪ জনের মৃত্যু জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। গত ১২ মে বজ্রপাতে সিলেটের হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রতাপপুর গ্রামের হাবিব মিয়া (২৫), গত ১৩ মে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের কলকলি ইউনিয়নের আমির উদ্দিন (৩) উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের আবদুস সামাদ (৯), একই দিন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বজ্রপাতে শামসুল ইসলাম, ১৫ মে সকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রাউটি বিলে বজ্রপাতে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়।

ইমরান হোসেন (১৪), সেলিম উদ্দিন (১৫) ও হোসেন খান (১৫), সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের লাকুয়াপাড়া হাওরে রুবেল আহমদ (১৬) নামক আরেক কিশোরের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে। পুরো বর্ষা মৌসুম আতংকের আরেক নাম ছিলো বজ্রপাত।

পটকা মাছ খেয়ে মৃত্যু ও কৌতুহল : ২০১৬ সালের শেষের দিকে সিলেটবাসীর জন্য অন্যতম কৌতুহলের কারণ ছিলো পটকা মাছ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা। ৬ ডিসেম্বর জৈন্তাপুরে বাজার থেকে পটকা মাছ কিনে নিয়ে খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। এরা সকলেই জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের উত্তর মহালগ্রামে দু’টি পরিবারের সদস্য ছিলেন।

নিহতরা হলেন-একই পরিবারের আব্দুর রহিম (৬৫), তার পুত্র সোলেমান মিয়া (৩০) ও লোকমান হোসেন (২৮), পাশর্^বর্তী বাড়ির প্রবাসী আনিসুল হকের পুত্র প্রথম শ্রেণীর ছাত্র রাহিম আহমদ (৬) ও মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মনি বেগম (৮)।

একই দিনে থুবাং লামাপাড়া গ্রামের আব্দুল মুতলিবের স্ত্রী সফাতুন বেগমও পটকা মাছ খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পটকা মাছ খেয়ে একই দিনে আরো ২৬ জন অসুস্থ হন। সকলেই সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর উপজেলার সর্বত্র সতর্কতা জারি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। বিষয়টি কেবল সিলেট নয় সারা দেশে আলোচিত ছিলো।

সম্ভাবনার সিলেট : বছরের শুরুতে সিলেট সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে সিলেটে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের। উদ্বোধন করা হয় বেশ কটি স্থাপনার। এর মধ্যে রয়েছে-শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স, জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, এপিবিএন’র ব্যারাক ভবন, ওসমানী নগর থানা ভবন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত হোস্টেল ভবন, মাছিমপুর এলাকার সুরমা নদীর তীরে নির্মিত ওয়াকওয়ে, এম সি কলেজের মাঠের সীমানা প্রাচীর ও কলেজের প্রধান ফটক, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালে রূপান্তর এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবন উদ্বোধন।

সিলেট আলীয়া মাদরাসা মাঠে দেন ঐতিহাসিক ভাষণ। অন্যদিকে, বছরের শেষের দিকে ২৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করার কথা ছিলো। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশংকায় মাজার জিয়ারত ও নির্দিষ্ট কর্মসূচী ছাড়া সমাবেশ বাতিল করা হয়। ফলে উদ্বোধন হয়নি অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো। তবে, ওইদিন তিনি জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ১১ পদাতিক ব্রিগেডসহ ৯টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এছাড়া ঢাকা সিলেট মহাসড়কে চারলেনে উন্নীতকরণ চীনের সাথে সওজের চুক্তি স্বাক্ষর, সিলেট আদালতে ডিজিটালাইজডসহ বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড রয়েছে সিলেটবাসীর জন্য।

সড়ক দূর্ঘটনা : সারাদেশের মত সিলেটেও সড়ক দুর্ঘটনা ছিলো বেদনার বিষয়। সিলেট অঞ্চলের পথে পথে ঘটেছে দুর্ঘটনা। আর চলে গেছে অসংখ্য প্রাণ। এর মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয় নগর উপজেলার শশই নামক এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর ও বরের বাবাসহ একই পরিবারের ৫ জনসহ ৮ জনের মৃত্যু ছিল চরম বেদনাদায়ক। তাদের সকলেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারী শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রাইভেট কার চালানো শেখার চেষ্টার বলি হন বিশ^বিদ্যালয় দেখতে আসা স্কুল শিক্ষক ও তার মেয়ে। এছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই প্রাণ হরান মানুষ। যা প্রতিনিয়ত কষ্ট দিয়েছে মানুষকে।

অন্যান্য আলোচিত বিষয় : উপরে উল্লেখিত ঘটনা ছাড়াও সিলেটে বেশ কিছু বিষয় আলোচিত ছিলো। এর মধ্যে রয়েছে এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের বন্দুক যুদ্ধ, ২৮ মার্চ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ১৫ দিনের জন্য মুক্তি, ১২ জুলাই রাতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলার আসামী মাকু রবি দাসের ফাঁসি কার্যকর, ২১ জুলাই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির জের ধরে কারারক্ষী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ২ সেপ্টেম্বর নগরীর কাজলশাহ এলাকায় ইসকন ভক্ত ও মসজিদের মুসল্লীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ২৬ অক্টোবরসহ চলতি বছরের কয়েক দফা পরিবহন ধর্মঘট, ১২ নভেম্বর কাজিটুলায় ইউনিলিভারের ৭০ লাখ টাকা ছিনতাই ও কয়েক ঘন্টা পর তা উদ্ধার, ১৬ নভেম্বর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল আটক, একই দিনে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯ কেজি স্বর্ণ আটকের বিষয়টি সিলেটে বেশ আলোচিত ছিলো।

এছাড়াও গত ২৩ জুলাই সিলেটের বরেণ্য শিক্ষাবিদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড, সদরুদ্দিন চৌধুরী ও ২৫ ফেব্রুয়ারী সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এবং গত ২৫ জুলাই সিলেটের প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক আব্দুর রহমানের ইন্তেকাল ব্যথিত করে সবাইকে। অন্যদিকে বছরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও শেষ দিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনও ছিল জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত ঘটনা।

জেলা ইজতেমা : ২০১৬ সাল একেবারেই শেষ তিনটি দিন ছিলো সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ছিলো প্রেরণার। ইজতেমা এনে দিয়েছিলো সিলেটবাসীকে আমলিন প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ। দীর্ঘ ৩২ বছর পর সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় তাবলীগ জামাতের তিনদিন ব্যাপী জেলা ইজতেমা। এতে ঢল নেমেছিলো কয়েক লাখ মুসল্লীর। ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট।

বিশ্ব ইজতেমার অংশ হিসেবে এই ইজতেমায় বয়ান, হৃদয়গ্রাহী আলোচনা আর আমলি প্রেরণায় উজ্জীবিত হন লাখো মুসল্লী। জিকির আজকার, তা’লিম তরবিয়ত, দাওয়াতি মেহনত ও ইবাদতে মশগুল হন তারা। প্রতি বছর রাজধানীর তুরাগ তীরে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও এবার দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ক-সংলগ্ন খিদিরপুর ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এই ইজতেমা। ২০১৬ সালের শেষে দিনেই শেষ হয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এই সম্মেলন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com