সিলেট মাসুকগঞ্জবাজারে ইয়াবার থাবায় হুমকির মুখে তরুন প্রজন্ম

৯৫ বার পঠিত

সিলেট শহরতলীর কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাসুকগঞ্জবাজার, সুজাতপুর, বাছিতপুর সহ ভিবিন্ন এলাকায় গাজা ও ফেন্সিডিল সহ বিভিন্ন ধরনের মাধক বেচা-কেনার বাণিজ্য। এই মাধক ব্যবসার মধ্যে দিন দিন অন্যতম হয়ে ওঠেছে ইয়াবা ব্যবসা। ইয়াবার নেশায় ভাসছে মাসুকগঞ্জ বাজার তরুনরা। গোলাবী বা হালকা লাল রংয়ের ছোট এ ট্যাবলেট। এখানকার মাধকসেবনকারী ও বিক্রেতারা সংক্ষিপ্তভাবে আকার-ইঙ্গিতে বুঝানোর জন্য এই ট্যাবলেটকে “বাবা” সম্বোধন করে থাকে। এই “বাবা” শব্দটি প্রচলিত হয়ে যাওয়ায় আবার তাঁরা আকার-ইঙ্গিতে এটাকে “হর্স পাওয়ার” বা “গুটি” নামে আদান-প্রদান এবং ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। আধুনিক নেশা হিসাবে তরুণ-তরুণীদের কাছে বেশ পরিচিত ইয়াবা নামক মাদকদ্রব্য। তাদের কাছে এই নেশাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই নেশা কেউবা শখেরবশে আবার কেউ কেউ নেশায় আসক্ত হয়ে অন্ধকার জগতে পা দিচ্ছেন।

সিলেট শহরতলীর ভিবিন্ন স্থানের চেয়ে মাসুকগঞ্জ বাজারে দিন দিন এই ইয়াবা প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন ইয়াবা সেবনের জন্য একনাগাধে মার্কেট তৈরি হয়েছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, অনায়াশেই এই মরণ নেশা এখন যে কোন যায়গায় পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইলে অর্ডার দিলেই হোম সার্ভিসে মুহূর্তেই হাতে চলে আসছে ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা। এ ছাড়া এখন পাওয়া যাচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু টং ও মুদি থেকে শুরু করে বড় দোকানগুলোতেও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় চলছে এ মাদক ব্যবসা। এই ব্যবসার সাথে তরুণ-তরুণী ও মহিলারাও জড়িয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী মহলের কয়েকজন স্থানীয় পুলিশের সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় তারা নিশ্চিন্তভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সমাজের তরুন-তরুনী, স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, রিক্সাচালক, সিএনজি চালক সহ সাধারণ জনগন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকের শুরুতে ‘ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি’ নামের একটি সংগঠন মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় কারখানা স্থাপন করে ইয়াবা তৈরি শুরু করে। ওই সময় বাংলাদেশে ইয়াবার তেমন পরিচিতি ছিল না। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে মাদকদ্রব্যটি বাংলাদেশের একশ্রেণির উচ্চাভিলাষী সেবনকারীর প্রিয় হয়ে ওঠে; যার সূত্র ধরে টেকনাফের হাজী বশরের ছেলে বহুল আলোচিত একটেল রমজান ও বার্মাইয়া শুক্কুর নামের দুজন হুন্ডি ব্যবসায়ী ২০০০ সালের গোড়ায় বাংলাদেশে ইয়াবা আনা শুরু করেন। তাদের হাত ধরে সম্প্রসারিত হয় বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার।

এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার অসি আকতার হোসেন জানান, এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও মাধকসেবনকারীকে আটক করা হয়েছে। এসব অপরাধীদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী যে কোন ধরণে প্রভাবশালী হউক না কেউ তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com