সিলেট দরগাহ এলাকায় বিকল্প রাস্তা নির্মান করছে সিসিক

সিলেট মহানগরীতে নতুন এক রাস্তার আবির্ভাব হবে কিছুদিনের মধ্যেই। শাহজালাল (রহ.) মাজারের মিনারের পাশ দিয়ে চলমান যানবাহন ইচ্ছে করলেই বিকল্প রাস্তা দিয়ে এক মিনিটেই চলে আসতে পারবে রিকাবীবাজারের ভিআইপি রোডের বড় রাস্তায়। মাদার কেয়ার হাসপাতালের পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তাটি শুরু হবে। এই রাস্তাটি উত্তরমুখী হয়ে সংযুক্ত হবে মাজারের মিনারের পাশের রাস্তায়। দরগাহ’র পশ্চিমের ছড়ার (চশমা ছড়া) উপর বক্স কালভার্ট দিয়ে নির্মাণাধীন এই রাস্তার কাজ শেষ হলে পায়রা-দর্শনদেউরী এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যারও নিরসন হবে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানায়, দরগাহ’র মিনার সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে দক্ষিণদিকে প্রায় ২শ ফুট লম্বা জায়গা ভরাট থাকায় চশমা ছড়ার সাথে মাদারকেয়ার অভিমুখী ছড়ার সংযুক্তি হচ্ছিল না। রোববার থেকে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য এই জায়গাটিকে খনন করে চশমা ছড়ার সাথে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এই অংশের কাজ সম্পন্ন হলে চশমা ছড়ার পানি সহজেই মাদার কেয়ারের পাশ দিয়ে দাড়িয়াপাড়া অভিমুখে চলে যেতে পারবে।

অন্যদিকে এই জায়গা খনন করার পর এর উপরিভাগে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করার পরপরই মাদারকেয়ার অভিমুখী অর্ধকিলোমিটার রাস্তাটিও চালু করা যাবে বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে ভরাট হওয়া জায়গায় খননকাজ পরিদর্শন করতে যান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।

এসময় তিনি জানান, মাজারে আসা দর্শনার্থীদের যানবাহনের কারণে যে যানজট হয় এই বিকল্প রাস্তাটি নির্মিত হলে সেই যানজট কমবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সংযোগ না থাকায় দরগাহ’র পশ্চিমের চশমা ছড়া কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছিল। নতুনভাবে খনন করে ছড়ার সংযোগ ঘটানোর ফলে এখন এই এলাকার পানি নিস্কাশনের ক্ষেত্রে আর কোন অসুবিধা হবে না।

এই কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিশেষ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এনামুল হাবীব। ২০১৬ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী জানান, কিছুদিন আগেও এই ছড়াটির প্রশস্ততা ছিল মাত্র ৭/৮ ফুট। এখন ছড়াকে প্রশস্ত করে ২০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। একইসাথে ছড়ার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার স্বার্থে আজ (রোববার) থেকে প্রায় ২শ ফুট লম্বা জায়গায় খননকাজ শুরু করা হয়েছে। এই কাজটি সম্পন্ন হলে এলাকাবাসী দুটি সুবিধা ভোগ করবেন। বিকল্প এই রাস্তার কারণে এলাকার যানজট যেমন কমবে ঠিক তেমনি পানি প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় পায়রা-দর্শণদেউরী এলাকার জলাবদ্ধতাও অনেকাংশে কমে যাবে বলে জানান কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী।

এই ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর আজিজুর রহমান, এই কাজে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২৩ বার পঠিত

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Leave a Reply