সংশোধনী আসছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের

৩৫ বার পঠিত
রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়াল সড়ক) নির্মাণ কাজে সংশোধনী আনা হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার।  পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিপরীতে এয়ারপোর্ট রোডের কাওলা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত সংযোগ সড়কসহ ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এক্সপ্রেসওয়েটি।  প্রকল্পটি আগামী একনেক বৈঠকে সংশোধনী এনে নতুন করে পাস করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা।

সব খাত মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে মূল প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৬ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং ২ হাজার ২৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ড (ভিজিএফ) হিসাবে বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। তৃতীয় ধাপে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণে সরকার ২ হাজার ৭৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংস্থান করতে পেরেছে। বাকি ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য নিতে চায়।  

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়,  প্রথমে ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল স্বপ্নের এ প্রকল্পটি। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন খাতে তৃতীয়বারের মতো ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রাক্কলন, ইউটিলিটি রিলোকেশন এবং পরামর্শক খাত বাবদ প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ২১৪ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল।  পরে এসব খাতে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। তৃতীয় ধাপে একই খাতে আবারও ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে করা প্রস্তাবে এ খাতে ৪ হাজার ৮৮৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে।  

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণে বিকল্প সড়ক সৃষ্টি হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি হেমায়েতপুর-কদমতলি-নিমতলি-সিরাজদিখান-মদনগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-মদনপুরে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ পূর্বাঞ্চল এবং পদ্মাসেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ না করে সরাসরি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করবে। উত্তরাঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলো ঢাকাকে বাইপাস করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সরাসরি যাতায়াত করতে পারবে। এর ফলে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অংশে যানজট দূর হবে।

প্রকল্পের রুটগুলো হচ্ছে- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল- বনানী-মহাখালী- তেঁজগাও- মগবাজার-কমলাপুর-সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ি-ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী)। বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী যেতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ২০ মিনিট। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি)  কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস যমুনা নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের  প্রকল্পটি তৃতীয় সংশোধনের জন্য আগামী একনেক বৈঠকের কার্যতালিকায় উঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি পাস করলে  নতুন করে কার্যক্রম শুরু হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণে বিকল্প সড়ক সৃষ্টি হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com