লক্ষ্মীপুরে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগে মামলা, ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

৪৮ বার পঠিত

কিশোর কুমার দত্ত,লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেহেরাজ হোসেন রিফাত নামের অষ্টম শ্রেনির এক ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম মাষ্টারের বিরুদ্ধে। আহত ছাত্র রিফাত একই এলাকার চর সামছুদ্দিন গ্রামের মৃত আবি আবদুল্লাহ বাবুলের ছেলে। এ ঘটনায় সোমবার (২৯ আগষ্ট) রিফাতের মা পারভিন বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি আর-৩২৮/১৬ইং। পরে এই ঘটনায় ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে কমলনগর থানার (ওসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত বছরের জেএসসি ইংরেজী ২য়পত্র বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সময় একই স্কুরের শিক্ষক সুমন বিএসসি পরীক্ষার খাতায় একটি প্রশ্নের উত্তর লিখে দেওয়ার অভিযোগে তাকে বহিস্কার করা হয়। চলতি বছরে স্কুল কমিটির সিদ্ধান্তে তাতে আবার স্কুলে ভর্তি করেন। গত ২৭ জুলাই এডমিট কার্ড ও রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে প্রধান শিক্ষক রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা বোর্ড যান এবং পরেরদিন আসে। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাতকে কিল, ঘুষি, থাপ্পড় ও রড দিয়ে আঘাত করে মেরুদন্ড ভেঁঙ্গে তাহার সমস্ত শরীরে জখম করে। পারভিন বেগম রিফাতকে মারধরের বিষয়টি লোকমুখে শুনে প্রধান শিক্ষকের বাড়ি থেকে রিফাতকে আহত অবস্থা উদ্ধার করে এবং এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উক্তেজিত হয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি ও কোথায়ও বিচারের জন্য গেলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন। পরে রিফাতকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করেন। এতে তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে এবং পরেরদির তাকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এম.আই.আর করায় এবং পঙ্গু হাসপাতারে সিট না পেয়ে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রিফাতের মা পারভীন বেগম তার ছেলেকে নির্মমভাবে নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি মিথ্যা এবং আমার যাহা বলার কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছি।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির আহম্মদ জানান, স্কুল ছাত্র নির্যাতনের মামলাটির তদন্ত চলছে। আশা করি ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com