রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা : তদন্তপূর্বক ব্যবস্থার নির্দেশ

৪৮ বার পঠিত
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে আনা নালিশি অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অনুমোদন নিয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ (রোববার) দুপুরে ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন। আজ সকালে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আইনজীবী আবদুল মালেক ওরফে মশিউর মালেক এ আবেদন করেন।
 

আদেশে বলা হয়েছে,‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক এরূপ অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্ব অনুমতি গ্রহণ করা আবশ্যক। তবে ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে আনীত অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক সরকারের অনুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে মামলায় বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নহে এমন কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হলো।’

 

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামির মন্তব্য মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের অবমাননার শামিল। তার মন্তব্য বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসের বিরুদ্ধে নিন্দাবাদ, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্রের অপরাধের শামিল। ওই মন্তব্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করে, বঙ্গবন্ধুর অবদান ও ভূমিকাকে মিথ্যা অপবাদে প্রশ্নবিদ্ধ করে, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির বিরুদ্ধে নিন্দাবাদ করে আসামি দণ্ডবিধির ১২৩ (ক) ধারায় অপরাধ করেছেন।

 

ঘটনা তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিতে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন আবেদনকারী। একই সঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তাকে বিচারের মুখোমুখি করারও আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com