রাবি শিক্ষক আকতার জাহান জলির আত্মহত্যার চিরকুট পেয়েছে পুলিশ

৩৭ বার পঠিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আবাসিক ভবন থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির মরদেহ উদ্ধারের পর তার ঘর থেকে চিরকুট পেয়েছে পুলিশ। ওই ঘরের টেবিলে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে ‘আত্মহত্যাদর’ কথা জানিয়ে ‘কেউ দায়ী নয়’ বলা হলেও নিজের সন্তানের গলায় ‘ছুরি ধরার’ অভিযোগ আনা হয়েছে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। ডায়েরির সঙ্গে মিলিয়ে পুলিশ বলেছে, আকতার জাহানের হাতের লেখার সঙ্গে মিলে গেছে তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, যে সুইসাইড নোট আমরা পেয়েছি, সেটা উনার ডায়েরির সঙ্গে মিলিয়ে গেছে, হাতের লেখা একই মনে হয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জুবেরী ভবনে আকতার জাহানের কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তার জীবন সম্পের্কে কিছু কথা:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ১৯৯৭ সালে শিক্ষক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন আকতার জাহান। চাকরিতে যোগ দেয়ার আগেই তার বিয়ে হয় তানভীর আহমেদের সঙ্গে, যিনি বর্তমানে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। জানা গেছে, তানভীরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে ২০১২ সালে জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষে ওঠেন আকতার জাহান। স্কুলপড়ুয়া ছেলে তখন বাবার সঙ্গে থাকলেও মাঝেমাঝে মায়ের কাছে আসত। এরমধ্যে গত বছরের শেষ দিকে তানভীর আবার বিয়ে করেন। এরপর চলতি বছরের শুরুতে ছেলেকে ঢাকায় তার নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আকতার জাহান।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ায় সহকর্মীদের ধারণা ছিল আকতার জাহান ঢাকায় তার বাবার বাড়িতে গেছেন। কিন্তু তার ছেলে শুক্রবার কয়েকজন শিক্ষককে ফোন করে জানায়, বুধবার সন্ধ্যায়র পর থেকে সে তার মাকে ফোনে পাচ্ছে না। এরপর শিক্ষকরাও ফোন করে না পেয়ে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানায়। সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর বলেন, জুবেরী ভবনে গিয়ে ঘরের দরজায় নক করে সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আর পুলিশ এলে দরজা ভেঙে তাকে ওই কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় বের করা হয়। সহযোগী অধ্যাপক আ. আল মামুন বলেন, জলি আপা শান্ত অবস্থায় এক হাত অন্য হাতের উপর দিয়ে শুয়ে ছিলেন— সব কিছু সাজানো গোছানো, পাশে একটা গোছানো ব্যাগও ছিল।

‘সুইসাইড নোট’

মরদেহ উদ্ধারের পর শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ওই ঘরে তল্লাশি চালানোর সময় টেবিলে ল্যা পপটের নিচে চাপা দেয়া একটি চিরকুট পায় পুলিশ। চিরকুটে যা লেখা আছে, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যাব করলাম। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, চিঠিতে সই না থাকলেও হাতের লেখা আকতার জাহানের বলেই তাদের মনে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, যে সুইসাইড নোট আমরা পেয়েছি, সেটা উনার ডায়েরির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। হাতের লেখা একই মনে হয়েছে। সাবেক একজন সহপাঠী জানান, আকতার জাহানের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তিনি ঢাকায় থাকেন। গত কয়েক মাস ধরে ঢাকায় থেকেই একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়ছে এই শিক্ষকের ছেলে।

চিরকুটে লেখা হয়েছে, সোয়াদকে যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে— যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যে কোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্যে করতে পারে। মৃতদেহ ঢাকায় না পাঠিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিতেও অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিরকুটে।

সাংবাদিকের তানভীর আহমেদ বলেন:

তানভীর বলেন, সোয়াদ তো অনেকদিন আমার কাছেই ছিল। কিছুদিন আগে সে নানুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওর মা চাচ্ছিল ঢাকাতেই ও লেখাপড়া করুক। একজন মানুষ মরে যাওয়ার আগে কেন এরকম নোট লিখে গেল তা আমার বোধগম্যা নয়। রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবার বা বিশ্ববিদ্যা্লয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী আমরা ব্যনবস্থা নেব। আকতার জাহানের মৃতদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী পৌঁছালে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে বিভাগের শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com