রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা

শাহীন হাওলাদার : রমজানকে সামনে রেখে বাড়ছে চাল, চিনি ও ছোলার দাম। গত এক মাসে এসব পণ্যের দাম যে যে হারে বেড়েছে তা বিগত ৫ বছরের ইতিহাসকে হার মানিয়েছে। মাসজুড়ে দেখা যায় এসব পণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে রমজান শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের পণ্য। শুক্রবার রাজধানীর পাইকারি বাজার ও খুচরা বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।  রাজধানীর কাওরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে পাইজাম চাল ৪৮-৫০ টাকা, বাসমতি ৫৮ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬-৭৮ টাকা, হাস্কি নাজির চাল ৪১ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণ ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল কেজি প্রতি ৪৫ টাকা, পারিজা চাল ৪৪-৪৫ টাকা, মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৬ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২-৫৪ টাকা, বিআর২৮ ৪৮-৫০ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা ও উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কথা হয় কা্ওরান বাজার রেলওয়ে চাউল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক কুমিল্লা রাইস এজেন্সির মালিক সোহরাব হোসেন এর সঙ্গে। তিনি যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, ‘হাওরাঞ্চলে বন্যায় ধান নষ্ট হওয়ায় গোটা দেশে এর প্রভাব পড়েছে। এখন দেশে চাহিদা অনুযায়ী চাল নেই । তাই চাল আমদানি না করলে চালের বাজার অস্থিতিশীল থাকবে।’ মোহাম্মদ পুর টাউন হল কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদি চাউল ভাণ্ডার এর মালিক নুরুল ইসলাম যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানান, ‘এ বছর চালের দাম আরো বাড়বে। প্রতিদিনই মোকামে ফোন দিলে শুনি ২ থেকে ৪ টাকা বেশি । তাই যে দামে আনি তার ওপর ভিত্তি করেই তো আমাদের বিক্রি করতে হবে।’

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে ২ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজার ভেদে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৪ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৭২-৭৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বাজারে সাধারণত সরকারি মিলের লালচে দানার চিনি ও বেসরকারি মিলের সাদা দানার চিনি পাওয়া যায়। বর্তমানে শুধু সাদা দানার চিনির দাম বেড়েছে।

রাজধানীর কাওরানা বাজারের ইব্রাহিম জেনারেল স্টোর এর প্রোপাইটার ইব্রাহিম যমুনা নিউজ টোযেন্টিফোর ডটকমকে জানান, ‘রমজান আসলে নিত্যপণ্যের বাজারের চাহিদা বেড়ে যায়, তবে চিনির দামটা গত বছরের চাইতে এবছর অনেক বেশি। মিল মালিকদের কারসাজির জন্য হতে পারে তবে আমরা আগের দামে চিনি বিক্রি করি।’ অপরদিকে মোহাম্মদপুর মুদি পণ্যের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা বস্তায় ৪ হাজার ৭৫০ টাকা। মুগ ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা দরে। দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা ও ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৭২-৭৩ টাকা দরে চিনি; ১৩০ টাকায় দেশি রসুন; ২৩০ টাকায় ভারতীয় রসুন বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোজ্য তেলও আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের দাম রাখা হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৬ টাকা। লবণের কেজি ৩৮ টাকা; দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৫০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ১৮০, দেশি মুরগি ৪০০, পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৬৫ বার পঠিত

Leave a Reply