মেহেরপুর সদরে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামায়াত কর্মী নিহত

মেহেরপুর সদরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর রুকন রমজান আলী (৪২) নিহত হয়েছেন। নিহত রমজান আলী রাজনগর গ্রামের মৃত আমির শেখের ছেলে। তার নামে ২০১৩ সালে নাশকতায় ঘটনার সাতটি মামলা রয়েছে। সদর থানা পুলিশের একটি দল সোমবার রাত আড়াইটার দিকে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে বন্দর শ্মশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। আহতরা হলেন—সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেজবাহুল, এএসআই আব্দুল হক, কনস্টেবল শাহীন ও আশরাফুল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবীব এ সম্পর্কে জানান, নাশকতা দমনে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল  রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের একটি দল অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে জামায়াত সদস্য রমজানকে নিয়ে বন্দর শ্মশানঘাট এলাকায় যায়। এ সময় তার সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে তারা পিছু হটে। এর মধ্যে রমজান আলীকে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবু এহসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি শাটারগান, দুই রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রমজানের সহযোগীদের হটাতে শর্টগানের ১১ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। রমজান আলীর নামে সদর থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার নেতৃত্বে ২০১৩ সালে রাজনগরে র‌্যাব সদস্যদের মারধর করে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। নাশকতা প্রতিরোধের অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে আটকের পর তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য ও অস্ত্রের সন্ধান দেয় রমজান। লাশ রাতেই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

এ ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি। পুলিশ রমজানকে ‘জামায়াতের অস্ত্রবাজ’ হিসেবে দাবি করলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে তিনি জামায়াতের রুকন ছিলেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ বলেন, রমজান বিএনপির কর্মী ছিলেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৮১ বার পঠিত

Leave a Reply