ভোটের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

১৮ বার পঠিত

ইতিহাসে নজিরবিহীন বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা শেষে আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা তাদের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি একটি নতুন কংগ্রেস ও সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচন করবেন তারা। প্রায় ১৫ মাস স্থায়ী নির্বাচনী প্রচার শেষে যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রবলভাবে বিভক্ত এক দেশ। ট্রাম্প ও হিলারি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র তুলে ধরেছেন প্রচারণায়। তবে দেশের সমস্যার সমাধানে তাদের প্রস্তাবও শুধু দলীয় সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

প্রচারণার শেষ দিনে ফ্লোরিডায় ট্রাম্প বলেছেন, তাকে ভোট দিয়ে একটি দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক চক্রকে প্রত্যাখ্যানের এটিই শেষ সুযোগ। আর পিটসবুর্গে হিলারির আহ্বান বিভাজন ঘুচিয়ে ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র গড়ার। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আজকের যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত, হতোদ্যম ও আশাহীন এক দেশ। মেক্সিকো থেকে চীন, পৃথিবীর ছোট-বড় সব দেশের ব্যবসায়িক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ। অব্যাহত অভিবাসন, অসম বাণিজ্য চুক্তি ও দুর্বল সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে নতজানু এক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

প্রচারণায় নিজের প্রার্থিতার সপক্ষে হিলারি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। ট্রাম্প বলেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের সাফল্য ও প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থানের কথা। ভাবা হয়েছিল যে হিলারি অনায়াসেই আনাড়ি ট্রাম্পকে ধরাশায়ী করবেন। কিন্তু সে কথা সত্য প্রমাণিত হয়নি। প্রথম দিকে পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে ট্রাম্প তাকে কার্যত ছুঁয়ে ফেলেছেন। বিবিসি’র শেষ মুহূর্তের জরিপে হিলারি ক্লিনটন ৪ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে।

বিভিন্ন নীতিগত প্রশ্নে কিছু মতভেদ থাকলেও বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একমাত্র যোগ্য ও সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্রার্থী হিসেবে হিলারিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জুলাই মাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশনে ওবামা বলেছিলেন, দেশকে বিভক্ত করার বদলে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম এমন একমাত্র প্রার্থী হলেন হিলারি। হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে যোগ্য, ওবামার এই যুক্তির সঙ্গে একমত দেশের অধিকাংশ পত্রপত্রিকা। নিউইয়র্ক টাইমস তার প্রার্থিতা অনুমোদন করে লিখেছে, ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে হিলারি জনসেবার সঙ্গে জড়িত। নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা গভীরভাবে অধ্যয়নের সুযোগ তার হয়েছে, সেসবের সমাধানের পক্ষে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজ দলেই একা হয়ে পড়েছেন। তিন সপ্তাহ আগে ফাঁস হওয়া এক ভিডিও টেপে ট্রাম্প নিজে স্বীকার করেন, বিখ্যাত তারকা হওয়ায় যেকোনো নারীর সঙ্গে যৌন আগ্রাসনমূলক ব্যবহার করেও তিনি পার পেয়ে যান। এই টেপ ফাঁস হওয়ার পর থেকে রিপাবলিকান দলের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নেতা- নেত্রী তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। দেশের অধিকাংশ পত্রপত্রিকাও তার প্রার্থিতার তীব্র বিরোধিতা করছে।

বিবিসি জানায়, হিলারি ক্লিনটনের মেইলে বেআইনি কিছু নেই রোববার এফবিআই এর এমন ঘোষণার পর নানা দেশের স্টক মার্কেটের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারগুলো দুই শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা নয় দিন পড়তির দিকে থাকার পর ইউরোপ ও এশিয়ার মার্কেটগুলো শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি অবস্থা থেকেই সাপ্তাহিক বন্ধে গেছে। ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ইমেইল করার ক্ষেত্রে হিলারি ক্লিনটন অসাবধান ছিলেন কিন্তু তাতে অপরাধমূলক কিছু পাইনি এফবিআই। আর এতেই মিসেস ক্লিনটনের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করছে তার বিরুদ্ধে কারচুপি করা হচ্ছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com