সাকিব নৈপুণ্যে উড়ছে রংপুর, আফসোস কাটছেই না মুশফিকের

এই সংবাদ ৫৫ বার পঠিত

বিপিএলের এবারের আসরে দুয়ারের কাদা সরাতে পারছে না মুশফিক বাহিনী। নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে মাত্র ১ রানে হেরেছিলো সিলেট। দ্বিতীয় ম্যাচেও বরিশাল বুলসের বিপক্ষে ১০৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সেই ১ রানের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিলো সুপার স্টারসদের। টানা দুই ম্যাচে ১ রানের ব্যবধানে পরাজয়টা নিশ্চত ভাবেই মুশফিককে পীড়া দিয়েছিলো। সেই যাতনার যাত্রা সমাপ্ত করতে বৃহস্পতিবার রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলো সিলেট সুপার স্টারস। সহজ সুযোগও ছিলো হাতের কাছে। মাত্র ১০৯ রানেই রংপুরকে বেঁধে ফেলেছিলো সিলেটের বোলারা।

তখন সিলেটের দরকার ছিলো মাত্র ১১০ রান। কিন্তু কথায় আছে- বিপদের পথ ক্রমশই দীর্ঘায়িত হয়। বরিশালের বিপক্ষেও ১০৯ রানই দরকার ছিলো। সেটা করতে পারেননি মুশফিকরা। তবে আজও যে সেই পুরোনো দৃশ্যেরই অবতারণা হবে তা কি একবারের জন্যও ভেবেছিলেন মুশফিক। হয়তো না!
কিন্তু শেষ পর্যন্তু তাই হলো। রংপুর রাইডার্সের দেয়া ১১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৯.২ ওভারে ১০৩ রানে অলআউট হয় সিলেট সুপার স্টারস। দলের পক্ষে মুমিনুল সর্বোচ্চ ২৯ ও মুশফিক ২৫ রান করেন।

অবশ্য বিপর্যয়ের শুরুটা হয়েছিলো প্রথম ওভারেই। শুণ্য রানে অপেনার জসুয়া কবকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়েছিলেন সাকিব। দলীয় ৩১ রানে মুনায়ুয়ারাকে সাজঘরে পাঠিয়ে সিলেট শিবিরে দ্বিতীয় আঘাতটাও হানেন সাকিব। এবপর কেবই যাওয়া-আসার পালা। রংপুরের বোলিং তোপে একে একে সাজঘরে ফিরেন- মুমিনুল, নাজমুল, বোপারা, নাসুম, মিলন, নুরুল, শহীদ ও মেন্ডিসরা। শেষ পর্যন্ত মুশফিক ২৫ রানে অপরাজিত থাকলেও দলকে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারেননি তিনি।

রংপুরের পক্ষে সাকিব সর্বোচ্চ ৩টি এবং আবু জাঈদ ২টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া আরাফাত সানি, সেনানায়েকে, পেরেরা ও ড্যারেন সামি ১টি করে উইকেট দখল করেন। এর আগে ‍বৃহস্পতিবার দুপুরে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর রাইডার্স। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সাকিব। এছাড়া সিমন্স ১৩ ও পেরেরা ২১ রান করেন।

ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। দলীয় ১৯ রানে রানে ব্যক্তিগত ৭ রান করে মোহাম্মদ শহীদের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন সৌম্য। ব্যক্তিগত ১৩ রানে মুনায়ুয়ারার হাতে রান আউটের শিকার হন সিমন্স। এর পর মিঠুনকে নিজে জুটি গড়তে ক্রিজে আসেন সাকিব। কিন্তু মিঠুনও সাকিবকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৪ রান করে নাসুম আহমেদের বলে মুশফিকের তালুবন্দি হন তিনি। দলের পক্ষে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে, সৌম্য ৭, মিঠুন ৪, জহিরুল ৮, ড্যারেন সামি ৫, সেনানায়েক ৭ ও আরাফাত সানি ৩ রান করেন। এছাড়া সাকলাইন সজীব ও আবু জাঈদ শুণ্য রানে অপরাজিত থাকেন।

অপরদিকে সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ শহীদ। পাশাপাশি ১টি করে উইকেট পান নাসুম আহমেদ, রবি বোপারা ও নাহমুল ইসলাম। এদিকে দলের পক্ষে ৩৩ রান সহ ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com