ফেসবুকসহ বন্ধ করা সব অ্যাপস খুলে দেয়ার দাবি জানালেন : সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী

১৫ বার পঠিত

নাশকতার আশঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বন্ধ করা সব অ্যাপস খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী। গতকাল(সোমবার) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব যোগাযোগ মাধ্যমে অপব্যবহার রোধ করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি জানান  এবং  অবিলম্বে এসব মাধ্যম জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। এর আগে সোমবার দুপুরে তার সচিবালয়ের দপ্তরে  সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ফেসবুক বন্ধ করায় একজন মানুষও বিরক্তি পোষণ করেননি। আইন অনুযায়ী, সরকার জননিরাপত্তার স্বার্থে এগুলো বন্ধ রাখার অধিকার রাখে।’

 

সংসদের আলোচনায় তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেন, যে কোন প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দু’টি দিকই আছে। প্রযুক্তির কুফল চিন্তা করে যদি আমরা প্রযুক্তির ব্যবহারই বন্ধ করে দিতাম, তাহলে হয়তো মানব সভ্যতার এই অকল্পনীয় উৎকর্ষতা লাভ হতো না। সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী আরো উল্লেখ করেন, সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে যদি ভেবে নেয়, ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ একদম বন্ধ হয়ে গেছে, তা মোটেই সঠিক নয়। অনেকেই বিকল্প অ্যাপস ব্যবহার করে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং নাশকতাবাদীরাও চাইলে সেটি করতে পারবে না-তা আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

 

তিনি  মনে করেন, সরকারের যে মূল উদ্দেশ্য-সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার রোধ-  এগুলো বন্ধ করে দিয়ে সরকারের তেমন কোন উপকার হয়নি। বরং এই সিদ্ধান্ত জনমনে অযাচিত আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে সরকারের অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রাকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি সুবিধা বন্ধ রাখার পক্ষে যুক্তি  দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম  গতকালই  বলেছেন,‘ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকায় দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পর দেশে কোনো নাশকতা হয়নি। এসব সাময়িক বন্ধ রাখায় আজ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।’ তিনি বলেন, ‘ফেসবুকসহ অন্য যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ থাকায় প্রোপাগান্ডা ছড়ানো এবং নাশকতা রোধ করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়ে আমাদের কাছে মানুষের জীবন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

 

প্রতিমন্ত্রীর যুক্তি খণ্ডন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড: সুরাইয়া পারভিন রেডিও তেহরানকে বলেন, এ সব প্রযুক্তি যখন ছিল না তখনো অপরাধ হয়েছে। এখন প্রযুক্তির সুবিধা সমাজ যেমন পাচ্ছে তেমনি অপরাধীরাও এ সুযোগ নেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এখন কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ সুবিধা বন্ধ থাকলেও লোকজন বিকল্প পথে তা ব্যবহার করতে পারছে।  তাই এটা বন্ধ রাখা  নারাখার মধ্যে কিছু আসে যায় না।

 

এ প্রসঙ্গে ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকের সিনিয়ার সিস্টেম সাপোর্ট ইন্জিনিয়ার ইম্মানুয়েল সন্তোষ চৌধুরী জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞার  কারণে এসব যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার হয়ত কিছুটা কমেছে, তবে যারা জানেন তারা প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এসব বন্ধ সুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন।  এ গুলো বন্ধ না রেখে  বরং খুলে দিয়ে তা মনিটরিং করা যায়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ সাইট বন্ধ করে দিয়ে সরকার বরং তার অস্থিরতাই প্রকাশ করেছে। যে কোন সাধারণ  নাগরিকই এটা বোঝেন যে চাকু ছুরি দিয়ে মানুষ খুন করা যায় বলে  রান্না ঘরে তা ব্যবহার করা নিষেধ করা যায় না। তেমনি মাথা ধরা রোগ হলে মাথাটাই কেটে বাদ দিতে হবে- এমন দাওয়াই  বোধহয় কোন সুস্থ লোকই গ্রহণ করবে না।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com