যশোরে ছাত্রলীগের হামলায় ২ শিবিরকর্মী নিহত

যশোরে ছাত্রলীগের হামলায় দুই শিবিরকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রশিবির। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮ টায় রাজধানীর বাড্ডায় ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এ বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত বলেন, “সরকার বিরোধী মতের কোনো পক্ষকেই সহ্য করতে পারছে না।  অন্যায় অপকর্ম করে ভীত সরকার ক্ষমতার মসনদ হারানোর ভয়ে কম্পমান। এজন্য তারা বিরোধী নেতাকর্মী এবং ইসলামী আন্দোলনের দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে খুন করে নিঃশেষ করে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের যতই খুন করা হোক কিংবা ফাঁসি দেয়া হোক, বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত তারা কখনো পিছপা হবে না।”

তিনি বলেন, “অবিলম্বে যশোরে বিনা অপরাধে দুই শিবিরকর্মী হত্যাকারী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
এছাড়া, ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা, ঢাকা কলেজ শাখাও বিক্ষোভ মিছিল করছে। রাজধানীর বাইরে নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, মৌলভীবাজার, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বিকেলে যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসুধন কলেজের পূর্ব পাশে নির্ঝর একটি ছাত্রাবাসে তিন শিবিরকর্মীকে ‘গণপিটুনি’ দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগকর্মীরা। গণপিটুনিতে গতকালই মো: হাবিবুল্লাহ হোসাইন (২২) মারা যান। পরে গুরুতর আহত কামরুল আহসান ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে (২২) যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কামরুল মারা যান। এ ঘটনায় অপর আহত শিবিরকর্মী আল-মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি মাগুরার শালিখা উপজেলার আতিয়ার রহমানের ছেলে। হতাহতরা সবাই যশোর মাইকেল মধুসুধন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

 

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আককাস আলী বলেন, সোমবার বিকেলে এমএম কলেজ সংলগ্ন এলাকার একটি মেসে শিবিরকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে-এমন সংবাদে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ডেকে আনেন। পরে স্থানীয় ছাত্রদের পিটুনিতে তারা আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় হাবিবুল্লাহ এবং ঢাকায় নেয়ার পথে কামরুল হাসানের মৃত্যু হয়।

 

কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর আলী জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় কামরুল যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান।  কামরুলের মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২৬ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com