পাকিস্তানকে কড়া প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ

২০ বার পঠিত

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি দেয়ার ঘটনায় দেশটির হাইকমিশনারকে তলব করে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে আজ সোমবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়  হাজির হন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলম। তিনি ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে হাইকমিশনারকে বলা হয়, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিচার নিয়ে মন্তব্য করা নাক গলানোর শামিল। এটা দুঃখজনক।

 

পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলবের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আমরা অত্যন্ত হতাশ। আগের বারও ভেবেছি, বিচারের রায় নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না। এবারও ভেবেছিলাম, তারা কোনো মন্তব্য করবে না। কিন্তু লক্ষ্য করলাম, একমাত্র তারাই বিচারের রায় নিয়ে মন্তব্য করল। অন্য কোনো দেশ এ নিয়ে মন্তব্য করেনি।’

 

এর আগে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব নজরুল ইসলামকে পাকিস্তানের বিবৃতির একটি কড়া প্রতিবাদ পাঠাতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সচিবকে উদ্দেশ করে বলেন, তারা কিভাবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালো তার ব্যাখ্যা চাইতে হবে এবং এর প্রতিবাদ করতে হবে। মন্ত্রী পরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এমন সুত্র উল্লেখ করে আজ গণমাধ্যমে এ মর্মে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া এ দু’নেতার ফাঁসি গত শনিবার মধ্যরাতে কার্যকর করা হয়। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তান হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে রোববার এক বিবৃতি প্রকাশ করে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছ, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা এর আগেও দেখেছি, বাংলাদেশে ত্রুটিপূর্ণ বিচারের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিবৃতির দেয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত সুজা আলমকে আজ দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে এ ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব নজরুল ইসলাম। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, এটা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপের সামিল।

 

আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেইদিন (শনিবার) ফাঁসির আগে সালাউদ্দিন ও মুজাহিদের পরিবারের কান্নাকাটি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমগুলোতে বারবার দেখানো হয়েছে কিন্তু একাত্তর সালে এসব ঘৃণিত অপরাধীরা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মতো যে মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো করেছে সেগুলোর ফাইল ফুটেজ তো কোনও চ্যানেলকে দেখাতে দেখা যায়নি’। তিনি বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর উদ্দেশে বলেন, ‘এসব কি তারা ইচ্ছা করে করেছে?’

 

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসিকে একটি মহল ‘জোড়াখুন’ হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেছে এমন তথ্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে একাধিক মন্ত্রী এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে বলেন, ‘এখন তারা এ ঘটনাকে জোড়া খুন বলতে চায় কিন্তু জিয়াউর রহমানের শাসনামলে যে প্রতি রাতে ২০ থেকে ৪০ জনকে ফাঁসি দেয়া হতো তার কথা তারা বলেন না কেন?’

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com