বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত তবুও নেই সরকারী সহযোগীতা

২৭ বার পঠিত

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ) # সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত তবুও হাওরের ছেলে-মেয়েদের মাঝে জ্ঞানের আলো বিতরন করছে বিদ্যালয় শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর শতভাগ সফলতা অর্জন করলেও সরকারী সহযোগীতা না পাওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিবাবকদের মাঝে ক্ষোব বিরাজ করছে। উপজেলার দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের একমাত্র উন্নয়ন বঞ্চিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাওরের মধ্যে অবস্থিত বিদ্যালয়টি। বর্ষায় স্কুলের চারপাশে খেলা করে অথৈই পানি আর শুষ্ক মৌসুমে স্কুলের চার পাশে ফসলী জমির সবুজের সমারোহ।

 

হাওর বাসীর শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৯৯৭ সালে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ হারিস উদ্দিনের একান্ত চেষ্টা ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় প্রথমে একটি দু-চালা তিন রুমের টিন শেটের ঘড় তৈরি করে নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে চালু করা হয়। এর পর থেকেই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে বড়দল, কাউকান্দি সহ ৫টি গ্রামের অনাদর,অবহেলিত সুবিধা বঞ্চিত হাজার হাজার পরিবারের ছেলে-মেয়েদের। গরীব শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে স্কুলে নিয়মিত আসা-যাওয়া,পরীক্ষার ফিস,বেতন ও সামলাতে হয় স্কুল কতৃপক্ষ কেই। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব, শিক্ষক সংকট, স্যানিটেশন, টিউইবওয়েল, বিদ্যূৎ, জরার্জিন ভবন, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব কারনে দিন দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অবিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় টি হাওরের মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারনে বর্ষায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে এক প্রকার বন্ধ করে দেয় ঝড়, তুফান ও হাওরের বড় বড় ঢেউয়ের ভয়ের কারনে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, মেনেজিং কমিটির সভাপতি ও এলাকাবাসীর একান্ত প্রচেষ্টায় সকল সমস্যা সমাধন করে ধুকে ধুকে চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। জানাযায়-১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে প্রতিষ্টা  লগ্নে ৩০জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে পাঠদান শুরু করেন ৩জন শিক্ষক দিয়ে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা দু-শতাধিক। ২০০৭-৮ইং অর্থ বছরে বিদ্যালয়ের জন্য একটি দ্বিতল ভবন নিমার্ন করা হয়। সেই দ্বিতল ভবনে ভূ-কম্পনে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা, ফ্লোরের প্লাষ্টার উঠে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীরা ও অভিবাবকগন। ২০১২সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নতি লাভ করে ২০০৪ সালে এমপিও ভুক্ত হয় কিন্তু এই পর্যন্ত কোন ধরনের সাহায্য সহযোগীতা পাওয়া যায় নি। বার বার লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কে জানানোর পরও কোন কাজ হচ্ছে না। বিদ্যালয়টির অবস্থা এখন নুন আন্তে পান্তা ফুরায়। বিদ্যালয়ে নেই ইংরেজী, বাংলা, শরীর চর্চা শিক্ষক। Sunamgonj.Educationএকজন শিক্ষক কে একাধিক ক্লাস নিতে হয় এবং যে বিষয়ে কোন অভিজ্ঞতা নেই সেই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞানের শাখা না থাকায় অনেকেই বিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে উপজেলা পাশ্বভর্তি উচ্চ বিদ্যালয় ও সদরের সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। সকল বাধা অতিক্রম করে প্রতি বছর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শত ভাগ সফলাতা অর্জন করায় আনন্দিত এলাকাবাসী, অবিভাবক ও শিক্ষকগণ। বিদ্যালয়টিতে ৫জন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক, ২জন খন্ড খালিন শিক্ষক দিয়ে কোন রখমে পাঠদান চালাতে ও শিক্ষককের বেতন ভাতা দেওয়া কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। দু জন খন্ড খালিন শিক্ষক ও একজন নাইট গার্ডের বেতন বহন করছেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্টাতার ছেলে ও ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ডাঃ সালেহ আহমেদ আলমগীর।

 

৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মায়েশা আক্তার, আবুল হোসেন এবং ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী শেহেনা আক্তার বলেন-বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট, স্যানিটেশন, টিউইবওয়লে না থাকায় খুব কষ্ট করতে হচ্ছে। সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে বর্ষায় স্কুলে আসার ইচ্ছা থাকলেও ঢেউ, তুফানের ভয়ে আসি না। বিজ্ঞান শাখা না থাকায় বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হতে না পারায় অন্য স্কুলে গিয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে। বড়দল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ উদ্দিন জানান-আমার ছেলে, মেয়েরা এই বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করছে শিক্ষক সংকট থাকার পরও ভাল ফলাফল অর্জন করেছে সরকার যদি এই হাওর বেষ্টিত বিদ্যালয়টির দিকে একটু সু-নজর দেয় তাহলে বিদ্যালয়টি আরো উন্নতি করবে। বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞানের শাখা দেওয়া প্রয়োজন। বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান-আমি ২০১০সালে যোগদান করার পর থেকে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সরকারী সহযোগীতা না পাওয়ায় অনেক কষ্ট করে চালিয়ে যাচ্ছি।

 

অনেক সময় নিজের পকেটের টাকা দিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হচ্ছে। বিদ্যালয় ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ডাঃ সালেহ আহমেদ আলমগীর জানান-আমার বাবা ও এলাকাবাসীর সহযোগীতা নিয়ে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিল বাবা মারা যাবার পর এই পর্যন্ত কষ্ট করে এনেছি আমি যত টুকু পারছি অর্থ দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি। বর্তমান সরকার ও এমপি মহোদয় যদি এই বিদ্যালয়টির দিকে একটু সু-নজর দেন তাহলে এই অবহেলিত এলাকার ছেলে মেয়েরা শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ ও শিক্ষার মান আরো ভাল করতে পারবে। তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমা কান্ত জানান-বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান সঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন-বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়টি হাওরের মাঝে থাকায় শিক্ষার্থীর বর্ষায় অনেক কষ্ট করতে হয়। তার জন্য ৫০হাজার টাকা নৌকা ক্রয় কারার জন্য দেওয়া হয়েছে। এছারাও বিদ্যালয়টির উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-হাওর বেষ্টিত উপজেলার বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি ব্যাতিক্রম হাওরের মাঝে তৈরি করা হয়েছে তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ শিক্ষার প্রসারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি #

মোবাইল-০১৭১৪৬৭৪৭৮১

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com