নাগরিকত্বে মিথ্যা তথ্য দিলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

এই সংবাদ ৩৫ বার পঠিত

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্বের পরিসর সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন, ২০১৬ চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে আমেরিকা ও ব্রিটেন এই দুটি দেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ ছিল। নতুন আইনে বলা হয়েছে- সার্কভুক্ত দেশ, মিয়ানমার এবং সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত রাষ্ট্র ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে-এমন যেকোনো রাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন বাংলাদেশিরা।

 

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, তবে কেউ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, এমপি বা সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে বা প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক পদে নিয়োজিত থাকাকালে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারসহ সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকেরা বৈবাহিক বা অন্য কোনো সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হলে তাঁরা একসঙ্গে দুই দেশের নাগরিক অর্থাৎ দ্বৈত নাগরিক থাকতে পারবেন না। তাদের এক দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিকও মিয়ানমারসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোতে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবেন না।

 

প্রস্তাবিত আইনে ভুয়া নাগরিক প্রমাণিত হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে মামলা করা যাবে। এতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ বা বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস বা জাহাজ কিংবা বিমানে জন্মগ্রহণ, বাংলাদেশি নাগরিকদের সন্তান ও তাঁদের সন্তান, দ্বৈত নাগরিক, অর্জিত নাগরিকত্ব, বৈবাহিক সূত্র, নতুন সংযুক্ত ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ চেয়ে আবেদন করা ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এ ছাড়া বিশেষ অবদানের জন্য সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়ার বিধানও রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।

 

বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব লাভের বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি বাংলাদেশি কোনো নাগরিককে বিয়ে করে বসবাসের অনুমতি নিয়েছেন বা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, তাঁরা নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য যোগ্যযোগ্য বিবেচিত হবেন। প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা মিশনের কার্যালয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে। আর তা না হলে ওই সন্তান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে না। তবে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তান এ দেশে জন্ম নিলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে না।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com