,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বইমেলায় রুদ্র আমিনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “আমি ও আমার কবিতা”

লাইক এবং শেয়ার করুন

কবি ও অনলাইন সাংবাদিক রুদ্র আমিন’র দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ আমি ও আমার কবিতা আসছে অমর একুশে বইমেলায় -২০১৬ তে। শব্দকোষ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটি সর্বমহলে সমাদৃত হবে বলে দাবি করছে প্রকাশনা সংস্থা। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন কবি নিজেই। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৫২৫ নম্বার স্টলে বইটি ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে পাওয়া যাবে। ৬৪ টি কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে কবির দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। বইটির সার্বিক সফলতা নিয়ে বেশ আশাবাদী প্রকাশক আবু তাহের মিয়া। তিনি বলেন ‘ওর কবিতা যথেষ্ট মানসম্পন্ন, এছাড়া এই তরুণ কবির দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি বেশ আশাবদী।’ নিজের প্রতিটি কাব্যগ্রন্থকে এক একটি সন্তানের মতো মনে করেন কবি। কবি নিজেও বেশ আশাবদী এই কাব্যগ্রন্থ নিয়ে।

 

কবি রুদ্র আমিন নামটি লেখালেখি এবং অনলাইন ভার্সন। কবি’র সনদের নাম মোঃ আমিনুল ইসলাম। কবি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে ১৯৮১ সালের ১৪ ই জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়ার শুরু সবুজে ঘেরা নিজ গ্রামেই। স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ২০০৩ সালে নিট থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন শেষ করেন। এরপর জীবন শুরু করেন আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং এর কাজ (Aotucad)। এরপর তিনি গ্লাস পার্ক লিমিটেড কোম্পানীতে কাজ করেছেন চার বছর বর্তমানে ইন্টিরিওরের কাজে জড়িত রেখেছেন। কবিতা দিয়েই লেখালেখির শুরু। নক্ষত্র প্রোটালের সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনি চার চার টি পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।

 

এছাড়াও ব্লগিং জগতে লিখে চলছেন ২০১০ সাল থেকে, তিনি www.nobobarta.com এর প্রকাশ এবং www.bondhublog.com এর স্বত্বাধিকারী। তিনি বিডিনিউজ২৪ব্লগেও সমসাময়িক লেখা প্রকাশ করেন। কবিতা-গল্প ছাড়াও সমসাময়িক বিষয়ের উপর মতামত বিশ্লেষণধর্মী লেখায় রয়েছে কবির হৃদয়ে তারুণ্যের ছাপ। কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তিনি লিখে যাচ্ছেন।

 

ভূমিকা লিখছেন নওয়াব হাবিবুল্লাহ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক কবি রকিব লিখন। তিনি বলেছেন, কবি রুদ্র আমিন নানন্দিক শব্দ ব্যবসায়ী। শব্দের সাথেই যেন তার আজন্ম প্রেম। শব্দ প্রেমিক কবি তার কাব্যে প্রকাশ করেছেন একদিকে আশার আলোকবর্তিকা অন্যদিকে যুগ যন্ত্রণার অস্থির চিত্র তোলে এনেছেন। ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের চিত্র, ধ্বজা ধরা নোংরা রাজনৈতিক চর্চা, সংস্কৃতি চর্চার নামে অপসংস্কৃতির আপাদমস্তকে অস্থিরতা, শাশ্বত স্বর্গীয় প্রেমের অমিয় সুধা, শৃঙ্খলাবদ্ধ মানব জীবনের যন্ত্রণা, দেশাত্মবোধে আবারও যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা তথা মানব জীবনের এমন কোন দিক নেই যেখানে তার কবিতা স্পর্শ করেনি। তাই আমার বিশ্বাস পাঠকগণ তার কবিতায় পাবে নতুন আলোকের সন্ধান। আশাবাদী কবি তার কবিতায় সুন্দরের প্রকাশে বদ্ধ পরিকর।

যদি শিশিরস্নাত সকাল আঁধারে ঘিরে ফেলে এ হৃদয়
অজানা কাঙ্খিত ফেরারি সময়,
জেনে রেখো,
আঁধারের মাঝে আধার করে
সাজিয়ে রাখব কাব্যিক প্রতিটি ভোর।

কবি কবিতার ফ্রেম থেকে বেড়িয়ে এসে যেন প্রেমের তরী নিয়ে হাজির হলেন আমাদের সামনে। তার কবিতায় দেখতে পাই প্রেমের অমিয় বাণী,

নিজের অজান্তেই কেন ভালবেসে ফেলি
ছায়ার মতো ছায়া থেকে প্রতিচ্ছায়ায়
তাকালেই দেখি আকাশের জলে তোমার ছবি।

তার প্রেমের ধরন যেন একটু ব্যতিক্রম,

 শয়নে এসো তুমি বাস্তবতায় খুঁজে নেব তোমায়
আগ্নেয়গিরির জলন্ত লাভার গর্ভ থেকে
নগ্নতার জগতে শালীন প্রেম দেব উপহার
পরাজিত হবে লাইলি মজনু, শিরিন ফরহাদ
দূরাকাশে বসে আফসোস করবে দেখে
তোমার আমার ভালবাসার স্বীকৃতি কৃত্রিম ধরায়।

সমাজের অসংগতি এসেছে কবিতার মাঝে তীব্র প্রতিবাদে। পোশাকী আবরণের মাঝে বর্তমান সময়ের মানুষের নোংরামী কবির বিবেককে করেছে বিদ্ধ। তাই তো তার কবিতায় দেখতে পাই,

রেশমী নেকাবে আবৃত দেহ
এখন আর বস্ত্র খুঁজে না
দুরন্তপনা শুধু নিজেকে মেলে ধরতে চায়।

কবি তার কবিতায় প্রতিবাদী চেতনায় আরেকটি যুদ্ধ চায়, কবি তার কবিতার মানসে সেই ছবিই স্পষ্ট করে এঁকেছেন। যুদ্ধের আয়োজনে মগ্ন কবি, তবুও ফ্যাসীবিরোধী তার মনোভাবে ফুসে উঠেছে। কারণ, যুদ্ধ মানেই রক্তক্ষয়। তারপরও কবি যুগের হাল ধরতে চান যুদ্ধের মাধ্যমেই,

স্বাধীনতা তুমি মরে গেছ
ইহুদীবাদী ইসরাইল আর হিটলারের কথা ভুলে গেছ
সেই পশুত্বের কাল ধোঁয়া আজও মরেনি, মরেছে স্বাধীনতা
ইতিহাসের পাতায় কাড়াকাড়ির চিহ্ন রাজতন্ত্রের নখের আঁচড়
রাজাকার, আলবদর আজ ঘরের ভাসুর।

নব্য রাজনীতির অসভ্যতাও তার কবিতা থেকে বাদ পড়েনি। তাই তার বলিষ্ঠ উচ্চারণ,

মিডিয়া, সেমিনার আর টক শো-তে হয় রাজ্য উদ্ধার
আমন্ত্রণে নামী-দামি সার্কাস আর যাত্রা পালার দল।

তারপরও কবি বাঁচতে চায় সুন্দর এই পৃথিবীর আলো বাতাসে। তাই তার কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে,

এ পৃথিবীতে আলোর মুখ থুবড়ে পড়েছে
আলোকে বলি আঁধার, আঁধারে দেখি আলো
কতদিন থাকা যায় ভালো; নিত্যদিনের রুটিন বেঁধে
বিষপান করেছি বিষক্রিয়া বুঝে নিতে
দেহের বিষে বিষক্রিয়ার বিষ আজ ক্ষমা প্রার্থনা করে
হাত জোর করে বলে, আমি বাঁচতে চাই।

আবহমান কালের সময়ের অভিব্যক্তি তার কবিতার মাধ্যমেই তোলে ধরেছেন,

পূর্ণ জীবন ব্যঞ্জনায়
শহরের বিবর্ণ গলি
আমি ও আমার কবিতায়।

সময়ের দর্পণে প্রকাশিত কবি রুদ্র আমিন-এর আমি ও আমার কবিতা কাব্য জগতে স্থান করে নিবে আমরা আশা রাখি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ