প্রাণের বর্ণমালা : আজকের বর্ণ ‘অ’

এই সংবাদ ২৯ বার পঠিত


অশান্ত তনু-মন দেখি সময়ও অর্বাচীন,
অসময়ের দাগটানা জীবনটা সাধনাহীন।
অস্থির সময় জানে মহাকালের ছলাকলা,
অন্য অধ্যায় পাঠ্য, ভুল ফুলে গাঁথা মালা।

অলীক নেশায় মগ্নমন, ভগ্ন দশাও চলে,
অন্তহীন সম্ভাবনায় জীবন কথা বলে।
অদৃশ্য বলয়ে বিলীন, স্থির ভাবনা সকল-
অস্পৃশ্যতা ক্রমান্বয়ে পোহাচ্ছে শুধু ধকল।

অমানুষের দাপট বেশি দেখি চারিপাশে,
অকালের ফল পেকে উঠে লুব্ধ সন্ত্রাসে।
অকথিত কথার আবাদ মগ্নবিবাদ লুকায়-
অগ্রন্থিত বেদনা কাব্য কেটেছে মন পোকায়।

অকাট্য নয় কোন কথা, তবুও মুখ চলে-
অকম্পিত সকল বাক্য সময়ের কথাই বলে।

প্রাণের বর্ণমালা লেখা সম্পর্কে
প্রাণের বর্ণমালা নিয়ে লেখা মূলত বাংলা বর্ণের খেলা। প্রতিটি বর্ণের প্রতি আলাদা মমত্ববোধ লালন করেই কালের লিখন কর্তৃক রচিত হয়েছে এ ধারাবাহিক লেখাগুলো। মূল বর্ণকে উপজীব্য করে এক একটি কবিতার শরীর গড়ে উঠেছে। ১৪ লাইনের প্রতিটি কবিতার প্রতিটি লাইন শুরু হয়েছে একটি নির্দিষ্ট বর্ণকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি লাইনের শুরুর শব্দ গঠিত হয়েছে মূলবর্ণকে কেন্দ্র করে। 

কিছু কবিতা অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা, কিছু কবিতায় কবির নিজস্ব নির্মাণশৈলী বিদ্যমান। প্রতিটি কবিতায় আ কার, ই কার, ঈ কার, ও কার সহ সকল কার বর্জন করা হয়েছে মূলবর্ণকে প্রাধান্য দিয়ে। এজন্য সৃষ্টি হয়েছে- মূলবর্ণ কেন্দ্রিক শব্দসংকট এবং কিছু অপ্রচলিত শব্দের বাধ্যতামূলক ব্যাবহার। শব্দের আদিতে বসে শব্দ গঠন করতে না পারায়, কিছু কিছু বর্ণ বাদ দিতে হয়েছে। যেমন- ঋ ঙ, ঞ ইত্যাদি। শব্দের আদিতে বসে অর্থপূর্ণ শব্দ গঠনে সক্ষম এরকম ৩৮ টা বর্ণ দিয়ে ৩৮ টা কবিতার সমন্বয়ে রচিত হয়েছে বর্ণমালা সিরিজ। সবগুলো কবিতার জন্মকাল সেপ্টেম্বর- ২০১৫।

কবিতাগুলো শিশুপাঠ্য হিসেবে লেখা হয়নি। সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বর্ণপ্রেমে উজ্জীবিত করতেই এই প্রয়াস। তাছাড়া শব্দপ্রেমী কবির অক্ষরের দায়শোধও আছে কিছুটা। শুধুমাত্র বর্ণের দিকে দৃষ্টি না দিলেও প্রতিটি কবিতা আলাদা আলাদা সময়, ঘটনা, ভাব, বিষয় আর অনুভব ধারণ করেছে, যা পাঠকের মনে কাব্যিক দোলা দিতে সক্ষম বলে কবির আশাবাদ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com