আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সকাল ৭:৪০ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

স্কটিশদের ১১৪ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত

নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য শতকে ভর করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৬ উইকেট হারিয়ে স্কটিশদের ২৫৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে। শান্ত অপরাজিত থেকে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ ৫১ ও ওপেনার সাইফ হাসান ৪৯ রান করে দলের স্কোরে ভূমিকা রাখেন। যুব বিশ্বকাপের একাদশতম আসরের ১৪তম ম্যাচে সকাল নয়টায় মাঠে নামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও স্কটল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের যুবারা। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্কটিশরা। টাইগার যুবাদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন সাইফ হাসান ও পিনাক ঘোষ।

তবে, ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বিদায় নেন পিনাক ঘোষ। মোহাম্মদ গাফফারের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে শূন্য রানেই ফেরেন তিনি। অষ্টম ওভারের শেষ বলে গাফফারের দ্বিতীয় শিকারে ফেরেন ১৩ রান করা জয়রাজ শেখ। দলীয় ১৭ রানের মাথায় দুই উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দুই টাইগার ব্যাটসম্যান স্কোরবোর্ডে আরও ১০১ রান যোগ করেন। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় মিচেল রাওয়ের বলে বোল্ড হন সাইফ হাসান। টাইগার এ ওপেনার অর্ধশতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে বিদায় নেন। বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতকের দেখা পান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শান্ত। ৭১ বলে অর্ধশতকের দেখা পান তিনি। আর ১১১ বলে সেই অর্ধশতককে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে নিয়ে যান তিনি। ক্যারিয়ারে ১৭০০ রানের পাশাপাশি যুবাদের ওয়ানডেতে এখন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী শান্ত।

যুবাদের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার হাতছানি নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান ছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটার সামি আসলামের। ৪০ ম্যাচে পাকিস্তানের ওপেনার করেন ১৬৯৫ রান। ঠিক দ্বিতীয় অবস্থানেই ছিলেন নাজমুল। ৫৩ ম্যাচে তার ছিল ১৬৩৪ রান। সামিকে ছাড়িয়ে যেতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এ ব্যাটসম্যানের প্রয়োজন হয় ৬২ রানের। ৩৮তম ওভারে চার হাঁকিয়ে তিনি এই রেকর্ডের মাইলফলক স্পর্শ করেন। শান্তর দিনে অর্ধশতকের দেখা পান টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। ৪৮ বলে ৫১ রান করে মোহাম্মদ গাফফারের তৃতীয় শিকারে বিদায় নেন মেহেদি। ইনিংসের ৪৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে মেহেদি চারটি বাউন্ডারি হাঁকান। শান্তর সঙ্গে ১০০ রানের জুটিও গড়েন টাইগার দলপতি।

দারুণ একটি শতক হাঁকিয়ে শান্ত ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১১৭ বলে সাজানো ইনিংস তার ব্যাট থেকে আসে ১০টি বাউন্ডারি। শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ৩ রান করে বিদায় নিলেও সাঈদ সরকার ১৬ রান করেন। তার ৬ বলের ইনিংসে ছিল একটি করে চার ও ছক্কা। এ ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে নেই স্পিনার সঞ্জিত সাহা। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির আপত্তির কারণে তাকে এ ম্যাচে খেলাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তার বদলি হিসেবে দলে এসেছেন আরিফুল হক।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছে টাইগার যুবারা। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ৪৩ রানে প্রোটিয়াদের হারায় নাজমুল হোসেন শান্ত, পিনাক ঘোষ, সাঈদ সরকার, জয়রাজ শেখরা। অপরদিকে, স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয়েছে নামিবিয়ার বিপক্ষে। শক্তির বিচারে এগিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ফলে, এ ম্যাচেও জয় ছাড়া কিছু ভাবছে না টাইগার যুবারা।

বল হাতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মেহেদি। আজকের ম্যাচে তিন উইকেট নিলেই যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়ে যাবেন মেহেদি হাসান। যুব ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে ৭৩ উইকেট নিয়ে সবার উপরে পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম। ৭১ উইকেট নিয়ে ইমাদের পরই মিরাজের অবস্থান। পাকিস্তানি বাঁহাতি স্পিনারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক।

 

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলো টাইগার যুবারা। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্কটিশদের ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার নিশ্চিত করলো মেহেদী হাসান মিরাজরা। বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ২৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং সালেহ আহমেদ শাওনের তোপের মুখে পড়ে ১৪২ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্কটল্যান্ড।

বাংলাদেশের দেয়া ২৫৬ রান তারা করে স্কডল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ১৪২ রানে। বাংলাদেশ যুবাদের দেয়া ২৫৭  রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলো স্কটল্যান্ড। দুই ওপেনার ১২ বলে তুলে নেন ৪৮ রান। এরপরই ঘটে ছন্দ পতন। ১৩ তম ওভারে দলের হয়ে ফ্ল্যাককে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ওই  ওভারের শেষ বলে রান আউট হন  ওয়াইজ শাহ।

এরপর ররি জনস্টোন আর জ্যাক ওয়ালারকে সাজঘরে ফিরিয়ে জোড়া আঘাত হানেন সঞ্জিত শাহার পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া আরিফুল হক। দলীয় ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে স্কটল্যান্ড। এরপর শাওন আরো দুই উইকেট তুলে নিলে বিপদ বাড়ে স্কটল্যান্ডের।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com