আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সকাল ৭:৪২ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

রাজধানীর কল্যাণপুরের পোড়াবস্তির মানুষের স্থায়ী পুর্নবাসন দাবিতে মানববন্ধন

পুনর্বাসন ছাড়া রাজধানীর কল্যাণপুরের পোড়াবস্তি উচ্ছেদ না করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বস্তিবাসীরা। আজ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হাজারের অধিক বস্তিবাসী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৮৯ সালে ১৩ অক্টোবর ষড়যন্ত্র করে কল্যাণপুর বস্তিতে আগুন লাগিয়ে শিশু-বৃদ্ধসহ ৯ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আমরা কাছে পেয়েছিলাম এবং তখন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, আপনারা এখানেই থাকবেন।

 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তারা বলেন, নদীভাঙা অসহায় ছিন্নমূল মানুষগুলো আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। যে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র চলছে এই উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে এই পোড়া বস্তির গরীব দুঃখী মানুষের স্থায়ী পুর্নবাসন করে মাথা গোজার ঠাঁই করে দেবেন। ছিন্নমূল বস্তিবাসীদের নিয়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ বস্তিবাসী ইউনিয়ন, বস্তিবাসী অধিকার সুরক্ষা কমিটি, এনবাস ও এনডিবাস। গত ২১ জানুয়ারি কল্যাণপুরে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বেদখল জমি উদ্ধারে এই বস্তির একটি অংশে উচ্ছেদ অভিযান চালায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ওই সময় বস্তিবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

বস্তির এক-চতুর্থাংশ উচ্ছেদের পর ওইদিন দুপুরেই হাইকোর্ট ওই বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলে আংশিক উচ্ছেদ করে ফিরে যায় ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও পুলিশ। এর পরদিন বস্তিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মালিকানায় থাকা প্রায় ৫০ একর ওই জমির মধ্যে ১৫ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বস্তি। ১৯৮৯ সালে আগুন লাগায় এর নাম হয়ে যায় পোড়া বস্তি। সেখানে কয়েক হাজার ঘরে অন্তত ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে আসছিলেন।

 

২০০৩ সালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ওই জমি থেকে বস্তি উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের স্থগিতাদেশ আসে। এরপর আরও কয়েক দফায় উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়। আসকের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো রকম পুনর্বাসন ছাড়া বস্তি উচ্ছেদের ঘটনা নির্মম। বস্তি উচ্ছেদে আদালতের স্থগিতাদেশ ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বস্তি উচ্ছেদ শুরুর ঘটনা উদ্বেগজনক।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com