,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সিলেট সব অপরাধেই সক্রিয় ছাত্রলীগ ক্যাডার জাকারিয়া

লাইক এবং শেয়ার করুন

নানা রকম অপকর্মের অভিযোগ উঠা জেলা ছাত্রলীগের ক্যাডার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শাহপরাণ থানায় ১১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে ৪টির। সাম্প্রতি নগরীর উপশহর মসজিদ মার্কেটের আল বারাকা টেলিকমে চাঁদা না পেয়ে সহযোগিদের নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন ফের আলোচনায় এসেছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।

আর গোটা জেলা ছাত্রলীগকে একাই দূর্নামের ভাগিদার করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সমাজ সেবা সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ। জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেয়ে যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি ও নানা ধরণের অপকর্মের অভিযোগ উঠা ছাত্রলীগ ক্যাডার জাকারিয়া।

গত কয়েকদিন থেকে মসজিদ মার্কেটের আল বারাকা টেলিকমের স্বত্তাধিকারী জাকির আহমদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন জাকারিয়া মাহমুদ। আল বারাকা টেলিকমের স্বত্তাধিকারী চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বেপরোয়া হয়ে উঠেন জাকারিয়া। ফোনে হুমকি ধামকি দেওয়ার পর গতকাল তার অনুসারি ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে হামলা চালান ওই ব্যবসা প্রতিষ্টানে। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোব্দ হয়ে উঠেন উপশহরস্থ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও ব্যবসায়ীদের দমাতে পারেননি, ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তিনি। সর্বশেষ সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার জেদান আল মুসা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পাঁচ ঘন্টার মধ্যে জাকারিয়া মাহমুদকে আটকের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন ব্যবসায়ীরা। জাকারিয়া মাহমুদকে আটক করতে পুলিশ শিবগঞ্জ সোনারপাড়া নবারুণ ৪৪১ নম্বর জ্যোস্না ভিলায় অভিযান চালায় তবে এসময় বাসায় ছিলেন না জাকারিয়া মাহমুদ।

সূত্রে আরো জানা যায়, গত এক বছর ধরে নানা কুকর্ম করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে। পূর্বে চাঁদাবাজির অভিযোগে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন ব্যাবসায়িরা। তবে এব্যাপারে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর কোর্টপয়েন্ট এলাকায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের উপর হামলার আসামীও ওই ছাত্রলীগ ক্যাডার জাকারিয়া। একাধিক মামলার আসামী হওয়া স্বত্তেও নবগঠিত কমিটিতে জাকারিয়া পেয়ে যান সমাজসেবা সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ।

জানা যায়, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীর অনুসারি হওয়ায় এ গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে থাকে। এমনকি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামাদ-রায়হানের নেতৃত্বে সসস্ত্র অস্ত্রের মহড়ায় সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে দেখা যায় জাকারিয়া মাহমুদকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, কমিটিতে হামলাকারী, চাঁদাবাজ, অছাত্র ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের পদ না দেওয়ার কথা থাকলেও এবারের কমিটিতে এমন অনেককেই রাখা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের অপর এক নেতা বললেন, গৌরবোজ্জ্বল ছাত্রলীগের রাজনীতি বর্তমান ছাত্র রাজনীতির কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর আগে তাদের বিবৃতিতে বলেছিলেন জেলা ছাত্রলীগের কোনও নেতা-কর্মী যদি সংগঠন বহিঃর্ভূত কোনও কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ জানান, অভিযুক্ত জাকারিয়া মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও আটক করা যায়নি নানা রকম অপকর্মের অভিযোগ উঠা জেলা ছাত্রলীগের ক্যাডার জাকারিয়া মাহমুদকে। জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শাহপরাণ থানায় ১১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে ৪টির। শাহপরান থানার ওসি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জাকারিয়া মাহমুদকে ধরতে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ