আ.লীগ খালেদাকে ভয় পায় বলেই মিথ্যা মামলা : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

২৬ বার পঠিত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের একটি ক্ষুদ্র অংশের বিকৃত ব্যাখ্যা করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বিএনপির নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ২১শে ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন যে বক্তব্য দিয়েছেন তার একটি ক্ষুদ্র অংশের বিকৃত ব্যাখ্যা করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

এই বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন মহলের কিছু সংখ্যক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও নেতৃবৃন্দ যখন বক্তব্যের অপব্যাখা করে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছিলাম পরপরই। সেই বিবৃতিতে আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছিলাম- তার বক্তব্যের উদ্ধৃত অংশটি ছিল-মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণের জন্য যাতে করে শহীদদের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করা যায়।”

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। নিজে দীর্ঘদিন পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কারাবন্দি ছিলেন। বাংলাদেশে তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, গণমানুষের নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শুধু শ্রদ্ধাশীলই নন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মর্যাদা সংরক্ষণ এবং তাদের পরিবারবর্গ ও সন্তানদের সার্বিক কল্যাণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন যা অতীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেও করেননি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস রচনার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন।

 

বেগম জিয়ার সরকার সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সংরক্ষণ করার জন্য স্মৃতিস্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন। তার ২১শে ডিসেম্বর প্রদত্ত বক্তব্যের কোথাও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতে পারে এমন কোনও বক্তব্যের লেশমাত্র নেই। কিন্তু গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেছেন।” তিনি বলেন, দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা বলেছেন, তার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতে পারে এমন কোনও অংশ নেই। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার জন্য হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ১০টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্নীতির মামলা, নাশকতা মামলা সর্বশেষে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে প্রমাণ করেছে যে, আওয়ামী লীগ দেশনেত্রীকে ভয় পায় এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। একই কারণে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের গুম, খুন, হত্যা ও গ্রেফতার করছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

 

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও মার্চে বিএনপির কাউন্সিলের সঙ্গে কোনো প্রতিবন্ধকতার যোগসূত্র আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা অমূলক আশংকা নয়। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। অন্যথায় দেশে অরাজনৈতিক শক্তি, চরম উগ্রবাদ প্রাধান্য বিস্তার করবে – যা কারও জন্য কল্যান বয়ে আনবে না। জোর করে হত্যা, গুম, খুন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতায় চিরদিনের জন্য টিকে থাকা যায়না। বাংলাদেশের মানুষ তা বারবার প্রমাণ করেছে। জনগণই তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের দাবি আদায় করবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদ, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com