আমাদের শীতকাল ।। সফিউল্লাহ আনসারী

৩৫ বার পঠিত

ষড়ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ।বাংলাদেশের পরিবেশ প্রকৃতি বৈচিত্র্যময়।নানা বৈচিত্রে ভরপুর ঋতুতে রয়েছে পরিবেশের ভিন্নতা।হেমন্তের শেষে শীতের প্রভাব পড়া শুরু করে। হেমন্তে তোলা হয় কৃষকের ঘরে নতুন ফসল।আর ঘরে ঘরে চলে নবান্ন উৎসব।বাংলাদেশে শীতের প্রধান উৎসব হল নবান্ন। উৎসবের রেশ ধরেই আমাদের দেশে এখন চলছে শীতকাল। সবাই যেনো একটু উষ্ণতার জন্যই অধীর আগ্রহী।প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশায় বাঙালীর জীবন কাবু না হলেও উত্তরাঞ্চলের মানুষগুলো ভোগান্তিতে পড়েছে একটু বেশী। বৈচিত্রময় ঋতু পরিবর্তনের কারনেই বাড়তি ঠাণ্ডা হানা দিচ্ছে আমাদের দেশে ।প্রচন্ড শীত বাড়তি কষ্ট নিয়ে তাতে সন্দেহ নেই তবে শীতকালে অসুবিধার মধ্যেও রয়েছে অনেক সুবিধা।

 

সব দেশেই শীত মানেই কনকনে ঠাণ্ডা আর হিমহিম অনুভূতি। শীতপ্রধান দেশগুলোতে শীতকালে বরফ পড়ে, অনেক দেশে তাপমাত্রা নেমে যায় হিমাঙ্কের অনেক নিচে। সর্বসাধানের জীবনযাত্রা হয়ে পড়ে স্থবির, দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের রোগ, পচন্ড ঠান্ডায় মারা যায় অনেক লোক। ইউরোপ-আমেরিকা,বা শীতপ্রধান দেশগুলোর মতো আমাদের এই এশিয়ার অনেক দেশেই অনুভূত হয় হাড়-কাঁপানো শীত। দাপট চলে শীতের । আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কৃষি নির্ভর এলাকাতে শীতের তীব্রতা জনসাধারনের জন্য তাদের মাঠে-ময়দানে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। শত ব্যাঘাতেও আমাদের শীতকাল উৎসবমুখর পরিবেশেই পার হয়ে যায়। নানান স্বাদের পিঠা-পুলি আর ভোরে কাঁচা খেজুর রসের স্বাদ যেনো লেগেই থাকে প্রতিটা ঘরে ঘরে। গ্রাম কিংবা শহরের মানুষগুলো নির্মল আনন্দকে জীবন যুদ্ধের পাশাপাশি উপভোগ করে বর্ণীল লোক উৎসবে আমেজে। 

 

দেশের সব খানে ঠাণ্ডা এক রকম অনুভূত না হলেও সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে। হিমালয়ের খুব কাছে পাহাড়ি এলাকা হওয়াতে ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় এলাকায় ঠাণ্ডার প্রকোপ থাকে খুব বেশি। দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসরত এ দেশের জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ শীতের মধ্যে কষ্টকর জীবন পার করে কারন অর্থনৈতিক দৈন্যতা।গ্রামের গরীব শ্রেণীর পাশাপাশি শহরের বস্তি ও রাস্তার ধারে উদ্বাস্ত জনগন অতি কষ্টে এইকাল পার করে থাকে।অনেকে শীত নিবারনে বিভিন্ন খড়কুটোতে আগুন ধরিয়ে উঞ্চতার খোঁজ করে।শীতকালে আরেক যন্ত্রনার নাম কোয়াশা। প্রায়ই দেশ কোয়াশার চাঁদরে ঢাকা থাকে। মাঝে মধ্যে সুর্যের দেখা পাওয়া যায়না। এতে বিড়ম্বনার স্বীকার হয় রাস্তায় চলাচলরত যানবাহন ও খেটে খাওয়া মানুষ।

 

বাংলাদেশে শীতকাল মানেই পিঠা উৎসবের মৌসুম,চলে অন্যান্য উৎসবও। আমাদের দেশে শীতকালে সবচেয়ে বেশী বিয়ে-সাদী হয়ে থাকে।সুন্নতে খাৎনাসহ নানা ধরনের পালাগান, বৈঠকি-বাউল গান, গ্রামাঞ্চলে প্রায়েই সামাজিক নাট্যনুষ্ঠানের আয়োজন চলে উৎসব আমেজে। এছাড়াও এ সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা-সফর ও  স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা অফিস-আদালতে কর্মরত লোকজন কর্মস্থল থেকে দল বেঁধে পিকনিকে যায়। অনেক এলাকায় যাত্রা পালা বা সার্কাস বা মেলার আয়োজন করা হয়। গ্রামে গ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় ওয়াজ মাহফিলের। দলে-দলে অংশগ্রহন করা লোকজনের পদচারনায় রাতভর এই সব অনুষ্ঠান চলে। এলাকাভেদে নিজেদের রেওয়াজ এবং সাধ্য অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের লোকাচার পালন করে থাকে। শীতের পরিবেশকে অন্যরকম সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বরফে আচ্ছন্ন দেশ থেকে আগত হরেক রঙের, বিভিন্ন জাতের অতিথি পাখি ।

 

শীতের আগমনের সাথে সাথেই গ্রামের খেজুর গাছ কাটায় ব্যাস্ত সময় পার করেন গাছিরা। খেজুর রস সংগ্রহ ও সংরক্ষনের জন্য গাছিদের বাড়ীতে গন্ধে মাতোয়ারা থাকে পুরো শীতকাল। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে ঋতুর সাথেই চলে ফসল ও সবজি চাষের ভিন্নতা।শীতকালে সবচেয়ে বেশী সবজি-তরি তরকারি চাষ হয়ে থাকে। তবে মনকাড়া হলদে রঙের সরষে ফুলের সমারোহ বিস্তৃর্ন মাঠ ও গ্রামের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলে। শীতকাল স্বল্প সময়েই বাংলাদেশ ও বাঙালির জীবনে বয়ে আনে বৈচিত্র্যময় ক্ষন আর বর্ণময়-আনন্দঘন কিছু মুহূর্ত যেখানে থাকে হাসি খুশিতে ভরপুর দিন। ফুল ও ফসলের দেশ,নদী-বনের দেশ,সবুজ অভয়ান্যের দেশ, পাখ-পাখালির দেশ সর্বোপরি উৎসবের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। আমোদ–আহ্লাদে ভরপুর উৎসবের যেমন নেই কোন শেষ তেমনি আন্তরিকতারও শেষ নেই আমাদের শীতকাল জুড়ে।বাঙালীর অতিথিপরায়ণতা আর সার্বজনিন উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে সারা বছর কেটে যায়।অন্যন্য ঋতুর তুলনায় শীতকাল কম নয়, বেশীই থাকে উৎসবের আমেজ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com