,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত অবেহেলিত শিক্ষক কর্মচারীদের অপমান করা হয়েছে

লাইক এবং শেয়ার করুন

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত অবেহেলিত শিক্ষক কর্মচারীদের অপমান করা হয়েছে – অধ্যাপক আজিজুর রহমান আযম।   দেশের সব সরকারী ও বেসরকারী হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা একই শিক্ষাক্রমে  পরিচালিত হলেও আর্থিক দিক থেকে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাপক বেতন বৈষম্য বিরাজমান। অথচ দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে নিয়োজিত রয়েছেন এমপিওভুক্ত প্রায় পাঁচ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী। এই এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই অর্ন্তভুক্ত হন। ১৯৮০ সাল থেকেই বেসরকারী শিক্ষকেরা পে- স্কেলে অর্ন্তভুক্ত হয়ে আসছে কিন্তু এবারই প্রথম অষ্টম বেতন স্কেলের গেজেটে  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সম্পর্কে একটি শব্দও উল্লেখ ছিলো না।

 

ফলে সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র  প্রতিক্রিয়া  সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০ ডিসেম্বর’ ১৫ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শর্ত সাপেক্ষে পে-স্কেলে অর্ন্তভুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়। এই নিয়েই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে তীব্র ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে। সবকয়টি শিক্ষক সংগঠন ২০ ডিসেম্বর’ ১৫ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেÑতা প্রত্যাহারের দাবি  করেন। তাঁরা অষ্টম জাতীয় পেÑস্কেলে কার্যকরের দিন থেকেই শর্তহীন ভাবে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের তাতে অর্ন্তভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য যে বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা সব সময় শিক্ষকদের সোনার মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন, তা ছাড়া শিক্ষকতা একটি মহান পেশা।

 

সারা দুনিয়াতে এমন আর একটি পেশাও নেই যা সম্মানের দিক থেকে শিক্ষকতা পেশার সমান। কিন্তুু বর্তমানে সারা দেশের মানুষ কী দেখতে পেল? যে দেশের ৯৮ শতাংশ নিরবিছিন্ন  ভাবে শিক্ষাদানকারী অবেহেলিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদেরকে যে গত ১৫ ডিসেম্বরে প্রকাশিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেটে অর্šÍভুক্ত করা হয়নি। এটি চরম হতাশা জনকই শুধু নয়। শিক্ষককেরা বর্তমান সরকারের এই কর্মকান্ডে তীব্র ভাবে  ক্ষুদ্ব ও বিক্ষুদ্ব। এখানে উল্লেখ্য যে সরকার বার বার শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন যে প্রজাতন্ত্রের কর্মকতাদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন প্রদান করা হবে। সারা দেশের শিক্ষক সমাজ যে আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করেছেন।

 

কিন্তু নতুন নতুন পরিপএ জারি করে সরকারের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রণালায় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করছে। গত ২০ ডিসেম্বর জারি করা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষর কর্মচারীদের অপমান করা হয়েছে। দেশের সব কয়টি শিক্ষক সংগঠন ২০ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী  করেন। সরকারের এই অদূরদর্শী, অযৌক্তিক ও হঠকারী সিদ্বান্তের ফলে এ দেশের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত প্রায় ৫ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী দেরকে চরম ভাবে হতাশ করেছে ও তারা অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে এবং তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। এতে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি দারুনভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। শিক্ষক নেতারা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, বর্তমান সরকার তার আমলাতন্ত্র দ্বারা অবেহেলিত শিক্ষকদের কে নিয়ে যে ধরনের কানামাছি খেলছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়।

 

শিক্ষক নেতারা বলেন আসন্ন এস.এস.সি পরীক্ষার আগে নতুন স্কেলে বেতন প্রদান করে পরীক্ষা বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত রাখার  পদক্ষেপ নেয়া হবে।  এটাই শিক্ষকদের প্রত্যাশ্যা। এর পরও যদি দাবী মানা না হয় তাহলে আগামী মার্চ মাস থেকে স্কুল, কলেজে তালা ঝুলিয়ে অবিরাম ধর্মঘট পালনে শিক্ষক কর্মচারীদেরকে বাধ্য করা হবে। এমনিতেই দেশে সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষক সমাজের মধ্যে বেতন ও পদোন্নতি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। যা এক দিক থেকে অনৈতিক ও অযৌক্তিক এবং অন্য দিক থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের হতোদ্যম করে রেখেছে, যা সুষ্ঠ পাঠদানের জন্য একটি বড় বাঁধা। উদাহরণ স্বরুপ দেখা যায় বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা বাড়ি ভাড়া পান ৫০০ টাকা।

 

অন্য দিকে সরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা বাড়ি ভাড়া পান  মূল বেতন বা ব্যসিকের ৫০ শতাংশ। শহর এবং নগর এলাকায় তারও বেশী। প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি চাকুরী জীবীরা চিকিৎসা ভাতা পান ৭০০ টাকা, পক্ষান্তরে বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরা চিকিৎসা ভাতা পান ৩০০ টাকা। আবার সরকারী স্কুল, কলেজে উৎসব ভাতা মূল বেতনের ১০০ শতাংশ অন্য দিকে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। আবার সরকারী চাকরী জীবীরা উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা বাদেও টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা, ঘর গেরস্থালির সহায়তা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, প্রেষণ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, অনেকে পাহাড়ি ভাতা পেয়ে থাকেন। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুরুপ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে এই ভাতাগুলো দেয়া উচিত।

 

সরকারী সব চাকরি জীবীর অভিজ্ঞতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি হয়ে থাকে এবং তাদের চাকরি বদলিযোগ্য। অন্য দিকে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোন বিধান নেই। যেমন বেসরকারী কলেজে এমন অনেক মেধাবী শিক্ষক শিক্ষিকা আছেন যাদের এস.এস.সি থেকে অনার্স মাষ্টার্স পর্যন্ত অনেক বিষয়ে প্রথম শ্রেণী প্রাপ্ত এবং তাদের অনেকেই আবার এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রীর অধিকারী হয়েও পদোন্নতিতে অনুপাত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক হতে পারেন না। তাদের এত উচ্চ মানের ডিগ্রী থাকার পরও ট্র্যাজিডিটা হলো তাঁদের অনেক হতভাগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাকে পুরো চাকুরী জীবনে প্রভাষক হিসেবে জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির কোন সুব্যবস্থা না থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন এই সম্মানিত পেশায় আসতে চরম অনীহা প্রকাশ করেন।

 

পৃথিবীর কোন উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে এমন তুঘলকী প্রথা আছে বলে আমাদের জানা নেই। উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের কথা হয়তো নাই বললাম। আমাদের সার্কভূক্ত পার্শ্ববর্তী ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ তাদের শিক্ষাকদের যে বেতনসহ অন্যান্য  আনুষঙ্গিক ভাতা দেন তা আমাদের দেশ থেকে কয়েকগুণ বেশী। তাই অনতিবিলম্বে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের অভিক্ষতা, যোগ্যতা ও মেধার সমণ¦য়ে বিভাগীয় ভাবে পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ ও চাকরি বদলি যোগ্য করা প্রয়োজন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আর এস দেবনাথ দেশের একটি বিশিষ্ট দৈনিকে তাঁর এক নিবন্ধে লিখেছেন- ভারতের একজন হাইস্কুলের শিক্ষক তাকে জানালেন নির্দিষ্ট ডিগ্রী নিয়ে হাইস্কুলে একজন শিক্ষক সেইখানে যোগদান করলেই ২০-২৫ হাজার ভারতীয় রুপি পান।

 

যা চাকুরীতে যোগাদান করলে বাংলাদেশের একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকও পান না। তাই এই স্বাধীন দেশের একজন শিক্ষক যখন তার জন্য নির্ধারিত বেতনের মাধ্যমে পরিবারের ভরণ পোষণ ব্যবস্থা না পেয়ে হতাশায় আত্মহত্যা করেন। কিংবা এই মহান পেশা ছেড়ে দিয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে অন্য কোন অসম্মানের পেশায় জড়িয়ে যান। তখন স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জিত হওয়ার কথা। বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের নিকট বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি দেশের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী করতে তাদের রাষ্ট্রীয় ভাবে অবশ্যই সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্ত নিশ্চিত করতে হবে। তবেই দেশে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী হবে এবং যোগ্য সুনাগরিক প্রত্যাশা করা যায়।

 

বর্তমান সরকারকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে একটি দেশ, জাতি ও সমাজ তার ভবিষ্যত প্রজন্মকে যে বিশ্বাস, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, দক্ষতা ও নৈতিকতা বোধ নিয়ে গড়ে তুলতে চান সেই কাজটা সম্পন্ন করেন সম্মানিত শিক্ষক বৃন্দরা। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার ও জাতীয় উন্নয়নের মূল চাবি-কাঠি। শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন ব্যতিরেকে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যেম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে দেশে দক্ষ মানব সম্পদ অবশ্যই সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষার গুনগত উন্নয়ন ব্যতিরেকে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্থনৈতিক  সামাজিক উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার অধিকার পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হলে জনসাধারণের অন্যান্য অধিকার আদায়ের পথ সুগম হবে।

 

অথচ স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও আমাদের সংবিধানে শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়নি। শিক্ষা মৌলিক অধিকার না হওয়ার কারণে মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে রাষ্ট্র বা সরকারকে আইনগত বাধ্য করা যায় না বা তার বিরদ্ধে মামলা করা যায় না। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ অর্থাৎ- হেফাজত করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের, যা সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে এবং এই মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১০২ (১) বিধান মোতাবেক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করতে পারবে।

 

আইনগত অধিকার না থাকায় বেসরকারী শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য অষ্টম পে-স্কেলে শর্তহীন ভাবে অন্তর্ভুক্তির জন্য রাষ্ট্রের করুণার ওপর নির্ভর করতে হয়। অষ্টম পে-স্কেলের গেজেটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সম্পর্কে একটি শব্দও উল্লেখ না থাকায় এবং পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে শিক্ষকদের শর্ত সাপেক্ষে পেÑস্কেলে অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ করায় তাঁদের রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার, অভিভাবক সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের নিকট চরম হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এবং এতে শিক্ষক সমাজ খুবই অপমানিত বোধ করছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কণ্যা দেশ নেত্রী শেখ হাসিনার নিকট পুরো শিক্ষক সমাজ কখনোই প্রত্যাশা করেনি যে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্তির জন্য আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

 

এখানে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষ ও সফল শিক্ষান্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্তমান সরকার সমাজের সকল স্তর ও চিন্তার মানুষের মতামত গ্রহণ করে জাতির প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গী আকাংখা ও লক্ষ্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি -২০১০ মহান জাতীয় সংসদে পাশ করেছেন। কিন্তু একই সরকার কেন তা দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারছেন না তা অবশ্যই গুরত্ত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আমলা তন্ত্রের মারপ্যাঁচে দেশের বৃহৎ পেশাজীবী প্রায় ৫ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কে ইচ্ছাকৃত ভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী সহ কিছু আমলা ষড়যন্ত্র করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেদের শর্ত সাপেক্ষে পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ করে। এতে করে নতুন বেতন স্কেলে বেসরকারী শিক্ষকদের কবে নাগাদ বেতন দেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তার প্রমান এমপিওভুক্তি শিক্ষক কর্মচারীরা আগের বেতন ক্রম অনুসারে ডিসেম্বর মাসের বেতন জানুয়ারী মাসে পেয়েছেন। আর সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা দুই মাসের এরিয়ার সহ ডিসেম্বরের বেতন জানুয়ারীতে পেয়েছেন নতুন বেতন স্কেল অনুসারে। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রনালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে এমপিওভুক্ত বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রনালয় পর্যালোচনা করে সিদ্বান্ত নিবে এর পর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে  প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

 

বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ দেশের ৯৮ শতাংশ শিক্ষা দানকারী বেসরকারী শিক্ষক সমাজকে কোন শর্তের বেড়াজালে ফেলে পে-স্কেলে বাইরে রাখার  কোন অশুভ পদক্ষেপ নিবেন না। অবিলম্বে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদেরকে শর্তহীন ভাবে জাতীয় পেÑস্কেলে অন্তর্ভুক্তি করে বকেয়া সহ জানয়ারী মাসের এমপিওর সাথে দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে মড়ার ওপর খাড়ার ঘায়ের মত হবে। শিক্ষকরা নিজের আতœ সম্মানের প্রশ্নে আপোসহীন এ আত্মসম্মানে যখন আঘাত আসে, তখন তার রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকে কি? সারা দেশের প্রায় ৫ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক তখন তাঁদের ন্যায্য  অধিকারের জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে রাস্তায় নেমে আসবে এবং বর্তমান সরকারের এই অযৌক্তিক ও হটকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রবল জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

বর্তমান চলমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যৌক্তিক কঠোর আন্দলোন থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে পারে। কারণ মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে তাঁরা কিছুতেই পিছু হটবে না। সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করবে। এই আন্দোলনের সাথে থাকবে লক্ষ লক্ষ প্রিয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ শিক্ষকদেরকে মৌন সমর্থন দিবে। তা বর্তমান সরকারের জন্য কখনোই সুখকর হবে না। তার জন্য সরকারকে পুরো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সংকট নিরসনের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং আমলাতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত সিদ্ধান্ত আদৌ কোন সুষ্ঠ সমাধান বয়ে আনবে বলে মনে হয় না। প্রয়োজন সরকারের সুবিবেচনা প্রসূত নিজেস্ব সিদ্ধান্ত। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষদেরকে আন্দোলনের পথে না ঠেলে দিয়ে তা নিরসন করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

লেখক – আজিজুর রহমান আযম
সভাপতি বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ, লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ