ইসরাইলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ বৃদ্ধি

এই সংবাদ ৩৫ বার পঠিত

ইহুদিবাদী ইসরাইলের ওপর চাপ বৃদ্ধির ঘটনায় সন্ত্রস্ত ও বিব্রত হয়ে পড়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাইল ইহুদি বসতি নির্মাণ আরও বাড়িয়ে দেয়ার কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো তেলাবিবের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। ওই চাপ বৃদ্ধির সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেছেন বন্ধু প্রতীম দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ মোটেই কাম্য নয়। এ ধরনের আচরণকে মিত্রতার পরিপন্থি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যে ধরনের উগ্র এবং হিংস্র আচরণ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা মেনে নিতে পারে নি এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে সে কারণেই ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

 

ওই চাপের মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি বন্ধে সেসব পণ্যে লেবেল লাগানোর ইউরোপীয় পরিকল্পনা। ওই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য ইসরাইলি কর্মকর্তারা তাদের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সাম্প্রতিক সহিংস পদক্ষেপের ব্যাপারে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সুইডেন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা তেলাবিবের আঞ্চলিক নীতি এবং তাদের অবস্থান উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা করেন।

 

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত মঙ্গলবার কুদস ইন্তিফাদা ঘটনায় ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সহিংসতা তদন্তের দাবি জানান। ইসরাইলি সেনারা ২০১৫ সালের অক্টোবরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জন ফিলিস্তিনীকে শহীদ করেছে। সেইসঙ্গে অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণের লক্ষ্যে আরও অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। এইসব ঘটনায় বিশ্ব সমাজ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নও রয়েছে।

 

তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় কমিশন গত নভেম্বরে একটি সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তটি হলো ই.ইউর সদস্যদেশগুলোকে ইসরাইল অধিকৃত জর্দান নদীর পশ্চিম তীর, গোলান মালভূমি এবং পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাসে তৈরি পণ্য সামগ্রির গায়ে লাগানো লেবেলে অবশ্যই উৎপন্ন স্থানের নাম উল্লেখ করতে হবে। এরফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অধিকৃত ভূখণ্ডের ইহুদি উপশহরে উৎপন্ন পণ্যসামগ্রী বর্জন করতে সুবিধা হবে। আন্তর্জাতিক বিরোধিতা এবং অসংখ্য প্রস্তাব পাশের পরও ইহুদিবাদি ইসরাইল সেই ১৯৬৭ সাল থেকে অর্থাৎ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখলের সময় থেকেই শতাধিক ইহুদি উপশহর নির্মাণ করেছে এবং করে যাচ্ছে।

 

এ কারণেই বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন আগের যে-কোনো সময়ের তুলনায় ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতি নিবদ্ধ হয়েছে এবং ফিলিস্তিনী জনগণের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে তারা অনেক বেশি এগিয়ে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোও এখন ফিলিস্তিনীদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও এখন ইসরাইলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে। এসব ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইহুদিবাদী ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগের তুলনায় অনেক বেশি কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।

তেহরান রেডিও

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com