আজ বুধবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সন্ধ্যা ৬:৫৮ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

ঐতিহ্য আর ইতিহাসের সেই “ধানসিঁড়ি” নদী মৃতখালে পরিনত দখল হয়ে যাচ্ছে অনেক জায়গা!!

মো.অহিদ সাইফুল,রাজাপুর প্রতিনিধি ঃ “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়” রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের যে কবিতার মাধ্যমে ঝালকাঠির রাজাপুরের “ধানসিঁড়ি” নদী বিশ্বব্যাপি পরিচিতি পেয়েছে সেই ধানসিঁড়ি নদী নিজেই আজ বিপন্নপ্রায়। ঐতিহ্য আর ইতিহাসের ধানসিঁড়ি আজ মৃতখালে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শীত মৌসুমে পানিপ্রবাহও বন্ধ রয়েছে এই নদীতে। দূর-দুরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থীরাও আজ ধানসিঁড়ি নদী দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজাপুর থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ ঝালকাঠির সাথে এক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক যাতায়াত হিসেবে এই নদীপথটিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। মাত্র দুই যুগ আগেও “ধানসিঁড়ি” নদী থেকে লঞ্চ ও কার্গো চলাচল করতো। এই নদী হয়েই সহজ ও কম সময়ে ঝালকাঠি থেকে ব্যবসায়ীরা মালামাল দক্ষিনাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় নিয়ে যেত। নদীর তলদেশে পলিভরাট ও স্থানীয় দখলদারিত্বের ছোবলে আস্থে আস্থে সেই নদী ভরাট হয়ে এখন খালে পরিণত হয়েছে।
এই খাল থেকে এখন নৌকা চলাচলেরও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছোট নৌকা চলাচল করলেও শীত মৌসুমে তা শুকনো খালে পরিণত হয়।এক সময় ঝালকাঠি থেকে রাজাপুরের সাথে সহজ যোগাযোগ পথ ছিল এই “ধানসিঁড়ি” নদী। যেখানে পানি থাকে সেখানেও কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ থাকে। গত দুই বছর আগে এই খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য খাল খননে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। লোক দেখানো নদী খননের কাজ শুরু করলেও পানী উন্নয়ন বোডের্র যোগ সাজসে ঠিকাদার খাল খননের নামে বরদ্ধকৃত টাকা লোপাট করে। খালের পাড় পরিস্কার ছাড়া আর কোন কাজে আসেনি সেই বরাদ্ধ।
ধানসিঁড়ি পাড়ের বাসিন্দা তমিজউদ্দিন হাওলাদার বলেন আমাদের ছোট বেলায় এই খালে আমরা স্টিমার চলতে দেখেছি। এখন আর নৌকাও চলাচল করেনা । খাল এখন ধানক্ষেতে পরিনত হয়েছে। তারপরও যতটুকু আছে তা টিকিয়ে রাখতে হলে ভালভাবে খনন ছাড়া এখন আর কোন উপায় নেই।স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হাওলাদার বলেন, আমরা এই খালের পানি থেকেই হাজার হাজার কৃষকরা মাঠের ফসল ফলাই। শীতকালে নদীতে পানিও থাকেনা। ফলে আমাদের চাষাবাদ অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, “ধানসিঁড়ি” নদীর সাথে বহু ইতিহাস আর ঐতিহ্য সম্পৃক্ত। তাই ধানসিঁড়ি পুনঃখননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর সুপারিশ পত্র দেয়া হবে।

বার্তা প্রেরকঃ
মো.অহিদ সাইফুল
রাজাপুর(ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

ধানসিঁড়ি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কচুরীপানায় বন্ধ ।

ধানসিঁড়ি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কচুরীপানায় বন্ধ ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com