দিন দিন ফাকা হয়ে যাচ্ছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো!

এই সংবাদ ৪৯ বার পঠিত

উদয় জুয়েল, সিলেট #  সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর প্রকৃতির কাছাকাছি ছুটে আসছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্র গুলো। বিশেষ করে এবার ও পর্যটকদের প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ছিলো সিলেটের সুন্দরবন বলে খ্যাত রাতারগুল। পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দিতেও পর্যটকের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। তবে রাতারগুল ও বিছনাকান্দি পর্যটকের পদচারণায় মূখর থাকলেও প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ের চিত্র ছিল ভিন্ন। এই পর্যটন কেন্দ্রের যাতায়তের রাস্তার বেহাল দশার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। দিনের পর দিন পর্যটক বিমূখ হয়ে পড়ছে প্রকৃতি কন্যা জাফলং।

সিলেটের সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো তাদের স্ব-স্ব সৌন্দর্য্যে খুব সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের। এর মধ্যে অন্যতম ভারতের মেঘালয় পর্বতের পাদদেশে নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি প্রকৃতি কন্যা জাফলং। জাফলং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশে বেশ পরিচিত। প্রকৃতি এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাহাড় টিলা আর সমতল ভূমিতে সারী-সারী চা বাগানে সবুজের সমারোহ। অপরূপ রূপের চাদর মোড়ানো পাহাড় আর সেই পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে নদী এবং পাহাড়ের গাঁ থেকে অবিরাম ঝর্ণাধারা প্রকৃতির সবটুকুই যেন লুটুপটি খাচ্ছে এখানে। বিশেষ করে বলাঘাটের জিরো পয়েন্টে ডাউকী নদীর উপড় ঝুলন্ত ব্রীজ আরো বেশী আকৃষ্ট করে পর্যটকদের।Ratargulআর তাইতো প্রকুতির ঢেলে সাজানো এসব দৃশ্যাবলী দেখতে ঈদ পরবর্তী ছুটির দিন গুলোসহ বাংলাদেশের সব ঋতুতেই এই পর্যটন কেন্দ্রে থাকে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে সরজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায় যেখানে পর্যটকদের উপস্থিতি খুবই কম থাকতো, সেখানে হাজারো পর্যটকের উপস্থিতি। স্থানীয় এলাকাবাসি, পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও জাফলংয়ে আগত পর্যটকরা জানিয়েছেন বিছনাকান্দি ও রাতারগুল পর্যটন কেন্দ্রে দিন দিন পর্যটক কমে যাচ্ছেন। তারা জানান, রাস্তার বেহাল দশার কারণে দিন দিন পর্যটক বিমুখ হয়ে পড়ছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। এতে আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন এই এলাকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট সহস্রাধিক ব্যবসায়ী। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার না করলে অদূর ভবিষ্যতে পর্যটক শূন্য হয়ে যাবে এলাকাগুলো। এতে করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীরা বড় ধরণের আর্থিক লোকসানের সম্মূখীন হয়ে পড়বে।Bichanakandiটাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা পর্যটক দেলোয়ার হোসেন জানান জাফলংয়ে বেড়াতে এসে খুব ভালো লাগছে। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট দেখে আমি ও আমার পরিবারের সবাই মুগ্ধ। তবে রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে একটু খারাপ লাগছে। মনের মাঝে ঘুরে ফিরে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এতো সুন্দর একটা যায়গার যোগাযোগ ব্যবস্থা এত নাজুক কেন.? জাফলং পিকনিক সেন্টারের কর্ণধার মরম আলী জানান, রাস্তার বেহাল দশার কারণে জাফলংয়ে পর্যটকের সমাগম নেই বললেই চলে। আমরা ধার দেনা করে দোকানে মাল পত্র তুলে ছিলাম। কিন্তু পর্যটকের সমাগম না থাকায় আমাদের তেমন বেচা কেনা নেই। আমরা আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হয়ে পড়েছি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com