,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

তেঁতুলিয়া হাসপাতালে ডাক্তারদের উপস্থিতি নেই, রোগীদের দুর্ভোগ

লাইক এবং শেয়ার করুন

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা # তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময় মতো অফিস করছেন না চিকিৎসকরা। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী সকাল নয়টা হতে অফিস করার নিয়ম থাকলেও কোন নিয়ম মানছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎকরা। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এ বেহাল দশায় চিকিৎসা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আসা রোগীরা হরহামেশায় পড়ছেন চিকিৎসাবিহীন দুর্ভোগে। সেবা নিতে আসা রোগীরা বহির্বিভাগে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে-বসে থেকেও পাচ্ছেন না ডাক্তারদের দেখা। শনিবার সকাল ১০ থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর ও জরুরি বিভাগের সরকারি মেডিকেল অফিসারদের কাউকে তাদের চেম্বারে দায়িত্বপালন করতে দেখা যায়নি।

 

ওইসময় অনেক রোগীদের সারিবদ্ধ অপেক্ষাধীন থাকতে দেখা গেছে। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগীদের সাথে কথা বললে তারা এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, সেই কখন থেকে হাসপাতালে দাঁড়িয়ে আছি, ডাক্তার নাই। তারা রোগী দেখছেন নিজেদের খেয়ালখুশির মতো। আউটডোরে ৩ টাকায় ফটোকপি ¯িপ ক্রয় করেও মিলছে না কাংখিত চিকিৎসাসেবা। অথচ সরকার জনগণের দোর গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে গড়ে তুলছেন হাসপাতালসহ কমিউনিটি ক্লিনিক। জনগণের মাঝে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার খুবই বদ্ধপরিকর। উপজেলার এ হাসপাতালটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর এখানে চিকিৎসক রয়েছেন ২৭ জনের স্থলে ১৪ জন। অথচ ১৪ জন মেডিকেল অফিসার থাকার সত্ত্বেও জনসাধারণের ভাগ্যে তেমন একটা চিকিৎসা সেবা মিলছে না।

 

অপরদিকে সরকারের নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে না থাকায় তারা নিজ ইচ্ছানুযায়ী অফিসে এসে দু-একজন রোগী দেখে আবার চলে যান, নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে। সরকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রামপর্যায়ে পৌছে দিতে প্রয়োজনীয় নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর মেডিকেল অফিসাররা অফিসের সময়সীমা মানছেন না। তবে হাসপাতালের সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবায় উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডা.নজরুল ইসলাম যেন একমাত্র ভরসা। তিনি হাসপাতালে ইনডোর ও আউটডোর সেবার মনোভাব নিয়ে নিরলসভাবে রোগীদেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে আউটডোরে হঠাৎ ডাক্তারদের দেখা মিললেও রোগীর সেবা না দিয়ে সময় পার করেন বিভিন্ন ফার্মাসিউটিকেল কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে। এতে করে হাসপাতালের ভেতরে ফার্মাসিটিকেল প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য দিন দিনে বেড়েই চলছে।

 

ফলে গ্রাম থেকে আসা রোগীদের ভাগ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা মিলছে না মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে গত ২ ডিসেম্বর/১৬ দুদক ও জনগণের উপস্থিতিতে গণশুনানী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে জনগণের করা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন সরকারি মেডিকেল অফিসারবৃন্দ। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিকার মিলেনি। এ দুর্ভোগ নিরসনে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছেন অত্র উপজেলার সচেতন নাগরিকমহল। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডা.ইসাহাক কার্যালয়ে গেলে তাকেও পাওয়া যায়নি। পরে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ