গত এক বছরে ৬৫৮১ সড়ক দুর্ঘটনা, আজ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত, এর দায় কার ?

২৩ বার পঠিত

দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে আজ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত আলাদা দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং আরো অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের ছেলে শরিফ রানা (৪১)। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধূ সেতুতে শরিফ রানাকে বহনকারী পাজেরো জিপ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আজ (শনিবার) ভোর থেকে বেলা ১টার মধ্যে ঢাকা, টাঙ্গাইল, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, পাবনায় ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ভোর রাত থেকে ঘন কুয়াশা ও বেপরোয়া গতিই এসব দুর্ঘটনার কারণ বলে পুলিশ ও যাত্রীরা জানিয়েছেন।

 

প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, কেবল ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পৃথক ৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন। এদিকে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকায় দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বাসের চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আজ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ছোট বড় ৬ হাজার ৫৮১ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৬৪২ জনের প্রাণহানি হয়েছে; আহত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৫ জন।

 

আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবদেন-২০১৫’ উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি জানান, ২০১৫ সালের এ সব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, ৫৩৫ জন পরিবহন শ্রমিক ও ৫১৯ জন চালকসহ ২৮০ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ১ হাজার ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৩০৫ জন শিক্ষক, ১৩৩ জন সাংবাদিক, ১০৯ জন ডাক্তার, ১২৪ জন আইনজীবী ও ১০৬ জন প্রকৌশলী।

 

২০১৫ সালের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ১৮৫টি বাস, ১ হাজার ৫৬ টি ট্রাক-কার্ভার্ড ভ্যান, ১ হাজার ৩৩টি নসিমন-করিমন, ১ হাজার ৭১ টি ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ১ হাজার ৬৭৮টি অটোরিকশা, ১ হাজার ৭৭১টি মোটরসাইকেল, ৮৭২টি হিউম্যান হলার এবং ৮৫২টি প্রাইভেট কার- মাইক্রোবাস।

 

এ প্রসঙ্গে “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলনের সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব আনুযায়ী- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সড়ক পথে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম। তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরো কমিয়ে আনা যেত যদি আইনের কার্যকর প্রয়োগ ঘটতে এবং চালকরা সতর্ক হতো। দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থাপনা, অনুপযুক্ত যানবাহন, অদক্ষ চালক ও যাত্রীদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম-এর সভাপতি জনাব হাফিজুর রহমান ময়না।

 

তিনি মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারের কার্যকর ভূমিকা থাকা দরকার। আজকের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৫ সালে সড়ক দৃর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে হাত পা হারিয়ে বা অন্য কোনো অঙ্গ হারিয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে- এসব দুর্ঘটনার বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দারিদ্র্যের কাতারে নেমেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com