এক বছর থেকে জনপ্রতিনিধিত্ব শূণ্য সিলেট নগর ভবন

৩৬ বার পঠিত

দীর্ঘ এক বছর থেকে সিলেট নগর ভবনের শীর্ষ চেয়ার রয়েছে জনপ্রতিনিধি শূণ্য। আর তাই নগরবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন কাংখিত সেবা থেকে। একজন নির্বাচিত মেয়র নগর ভবনে থাকলে যেসব সেবা পাওয়া যেত তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী। আর মেয়রের দ্বায়িত্ব পালন নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত না হওয়ায় পরবর্তি প্রদক্ষেপে যেতে পারছেননা মেয়র পদের দাবিদাররা।

জানা যায়, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশিটে নাম থাকায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

ঐদিন মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বরজ কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক পত্রে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) ২০০৯ এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধূরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্যানেল মেয়র (১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে অনতিবিলম্বে মেয়রের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করতে অনুরোধ করে একটি চিঠি দেন। পাশাপাশি বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে তিন দিনের মধ্যে জৈষ্ট প্যানেল মেয়রের নিকট দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করে আরেকটি চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। এবং মেয়র আরিফ সেই চিঠি রিসিভও করেন। কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করে জৈষ্ট প্যানেল মেয়র (১) কয়েস লোদীর নিকট তিনি দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মেয়রের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য চিঠি পাওয়ার পর ৪দিন পর ১১ জানুয়ারি সকালে মেয়রের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করতে নগর ভবনে যান প্যানেল মেয়র (১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। কিন্তু সকাল থেকেই প্যানেল মেয়র (২) এ্যডভোকেট সালেহ আহমদ চৌধূরী নগর ভবনের মেয়রের চেয়ারে বসে থালেও রহস্যজনক কারনে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব অফিসে ছিলেননা। এমনকি তার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। আর এনিয়ে মূহুর্তের মধ্যেই সেখানে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও এ্যডভোকেট সালেহ আহমদ চৌধুরীর সমর্থক কাউন্সিলরদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন উভয় পক্ষের কাউন্সিলররা। আর বৈঠক শেষে নিয়ম অনুযায়ী মেয়রই গ্রেফতারের তিন দিনের মধ্যে জৈষ্টতার ক্রম অনুযায়ী মেয়রের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন উপস্থিত সকল কাউন্সিলরবৃন্দ। আর এমন সিদ্ধান্তে দ্বায়িত্ব না নিয়েই নগর ভবন ছাড়তে হয় কয়েস লোদীকে। আর আজ পর্যন্তই কাউন্সিলরদের সেই আশা আলোরমূখ দেখেনি।

বরং এর পর পরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন সিসিকের প্যানেল (২) ও ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদ চৌধূরী। আর এই রীট চলাকালিন সময়েই গত ২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বরাজ কুমান নাথ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক দিকগুলো দেখাশুনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিবকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেয়া দ্বায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আরেকটি আবেদণ করেন তিনি।

এর কিছু দিন সালেহ আহমদ চৌধুরীর রীট পিটিশনের নিষ্পত্তি করে একটি রায় দেন উচ্চ আদালত। কিন্তু এই রায়ের কপি আজো প্রকাশিত না হওয়ায় জনপ্রতিনিধির নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছেনা নগর ভবন। ফলে সিসিকের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

সিসিকের প্যানেল মেয়র (১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, নগরবাসীর সেবা কেন্দ্র সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আজকের এই পরিস্থিতি খুবই দুঃখ জনক। আর আজকের এই পিরিস্থতির জন্য আমরা নিজেরাই (কাউন্সিলররা) দায়ি। সিটি কর্পোরেশন তার নিজস্ব আইন মোতাবেক পরিচালিত হয়। আর যদি সিলেট সিটি কর্পোরেশন সেই আইন মোতাবেক চলতো তবে আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

আর আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলেই এই পরিস্থিতির হয়তোবা উত্তোরণ ঘটবে এমনটাই আশা করেন পর পর তিনবারের নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি।

সিসিকের প্যানেল মেয়র (২) সালেহ আহমদ চৌধুরী বলেন, কয়েস লোদীর সাথে আমার ব্যাক্তিগত কোন শত্রুতা নেই। মেয়র সাহেব আমাকে দ্বায়িত্ব দিয়ে যাওয়ায় আমি আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছি। আদালত একটি রায়ও দিয়েছেন। যেহেতু সেই রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি সেহেতু বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছেনা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। এর পর ২২ ডিসেম্বর আদালত মেয়র আরিফসহ ওই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা জারির পর আরিফ আত্মগোপনে চলে যান।

২৮ ডিসেম্বর একই মামলায় হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জি কে গউছ একই মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। এর পর ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ আদালতে হাজির হন আরিফুল হক চৌধুরী। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার জামিন প্রার্থনা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে থেকে এখনো কারাগারে রয়েছেন সিসিকের এই নির্বাচিত মেয়র (সাময়ীক বহিস্কৃত)।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com