আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ দুপুর ২:৪৭ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

বরিশালে আভাস’র উদ্যোগে নারী কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মতবিনিময় সভা

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বাজারে নারী কৃষকের উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য অবাধে বিক্রি, নারী খুচরা কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কোঠাভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবিতে নারী কৃষক ফোরামের সাথে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ জানুয়ারি বুধবার দাতা সংস্থা গ্রো এবং অক্সফ্যাম এর আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাস বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচাপুল বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং এলাকার নারী কৃষক ফোরামের সাথে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

গত ৩০ ডিসেম্বর বরিশাল সদর উপজেলার কাগাশুরা বাজার, ৩১ ডিসেম্বর গৌরনদী উপজেলাধীন বাটাজোর দেওপাড়া শাহী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে ও অনুরূপ দু’টি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল সদর উপজেলা নারী কৃষক ফোরামের সাথে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কাগাশুরা বাজার কমিটির সভাপতি এমডি শাহআলম দিদার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার মনির সরদার। দেওপাড়া শাহী বাজারে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দেওপারা শাহী বাজার কমিটির সভাপতি মো. মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মায়া বেগম, খোকন শিকদার এবং শহিদুল ইসলাম। ইচাপুল বাজারের সভায় সভাপতিত্ব করেন মো: ইয়াকুব মৃধা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুরষ্কারপ্রাপ্ত নারী কৃষক পারুল বেগম এবং আভাস’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সিরাজুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন আভাস’র প্রজেক্ট অফিসার খায়রুল ইসলাম সুমন।

বক্তাগণ বলেন, নারী কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, খাদ্য নিরাপত্তায় তাদের অবদানের স্বীকৃতি আদায় এবং নারী কৃষকবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন এবং নারী বান্ধব বাজার ব্যবস্থা করার দাবিতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় নারী কৃষকদের অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় প্রচারাভিযান’ কার্যক্রম ২০১৪ সাল থেকে বরিশাল জেলায় নারী কৃষক ফোরামের সদস্য, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, গণমাধ্যম, সিএসআরএল’র মেম্বার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করে আসছে। বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের নারী কৃষকগণ তাদের অধিকার এবং দাবি-দাওয়া বিষয়ে সোচ্চার হতে পারে, কিন্তু সরাসরি নীতি নির্ধারক এবং সাংসদদের কাছে তাদের বক্তব্য জানাতে ও তাদের বিষয়গুলি সাংসদদের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুূক্ত করাতে পারেনা। নারী কৃষক প্রচারাভিযান কার্যক্রম নীতি নির্ধারক, সাংসদ ও নাগরিক সমাজের মধ্যে একটি যোগাযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে যাতে নারী কৃষকের প্রয়োজনগুলো নীতি আকারে নিয়ে আসা যায় এবং তা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে নেয়া সম্ভব হয়।

সভায় নিন্মলিখিত দাবিসমুহ তুলে ধরা হয়:

০১. নারী বান্ধব বাজার অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

০২. বাজারের নারী ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের জন্য আলাদা স্পেস রাখতে হবে এবং বাজারের দোকান বরাদ্দের সময় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।

০৩. বাজারে বাধ্যতামূলক টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

০৪. বাজার কমিটিতে নারী ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

০৫. বাজার থেকে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম দূর করতে হবে।

০৬. বাজার লিংকেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অনলাইন/ই-মার্কেট ব্যবস্থা গ্রামের বাজারগুলোতে চালু করতে হবে।

০৭. যে সকল বাজারে নারী ব্যবসায়ীদের দোকান আছে সে সকল বাজারগুলোতে সরকারি সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

০৮. দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী নারীদের জামানত পুরুষদের চেয়ে কম করতে হবে এবং ব্যাংকিং সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।

০৯. নারী কৃষকরা যাতে বিনা বাঁধায় অর্থাৎ সরাসরি বাজারে উৎপাদিত পণ্য এনে বিক্রি করতে পারে তার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. প্রতিটি বাজারে মালামাল রাখার জন্য হিমাগারসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. সরকারি-বেসরকারি সংস্থা যারা নারী উন্নয়ন এবং নারী কৃষকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে তাদেরকে গ্রামপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে এবং নারীদের সংগঠিত করতে হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com