,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বামফ্রন্টকে উপেক্ষাস করে কেন কংগ্রেসের হাত ধরতে সিপিএম মরিয়া

লাইক এবং শেয়ার করুন

সুকুমার মিত্র # রাজ্যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে দিশাহীন মরিয়া প্রয়াসে নেমেছে কংগ্রেস ও সিপিএম। যদিও এ ব্যাপারে সিপিএম দীর্ঘ চার দশক যাদের নিয়ে ঘর করেছে সেই শরিক দলগুলির মতামত নেওয়ার কোনও প্রয়োজন মনে করেনি। এখন পর্যন্ত সিপিএম কংগ্রেসকে নিয়ে জোট করে তৃণমূলকে অপসারণের লাইনর কথা মুখে বলে চলেছেন দলের নেতারা। ভাবটা এমন এ ব্যাপারে তাঁদের মতের ওপর নির্ভর করবে কংগ্রেসের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ সিপিএম দল চাইলে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে জোটে যেতে বাধ্য। যেন প্রদেশ কংগ্রেস বন্ধক হয়ে গিয়েছে আলিমুদ্দিনওয়ালাদের হাতে। আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআই এই রাজ্যে কংগ্রেসকে নিয়ে বামফ্রন্ট-এর জোটে তাদের আপত্তির কথা বারবার জানিয়ে দিয়েছে।

 

এমনকী যাদের নিয়ে সিপিএম সম্প্রতি বিহারে নির্বাচনে বামফ্রন্ট গড়েছিল সেই সিপিআইএম-এল(লিবারেশন) সাফ জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস-এর সঙ্গে জোটে তাদের আপত্তির কথা। তাহলে বামফ্রন্টকে উপেক্ষাা করে সিপিএম কংগ্রেস-এর সঙ্গে জোট করতে মরিয়া প্রয়াস কেন নিতে চায়? রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম ক্ষ‌মতার অলিন্দের বাইরে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষ‌ম হচ্ছে না। নীচে তলায় শুধু নয়, দলের জেলা, জোনাল, লোকাল স্তরের নেতারা পার্টি থেকে দূরত্ব তৈরি করে সংসার-ধর্মে মন দিয়েছেন। এমন অবস্থায় ক্ষ‌মতায় ফের ফিরতে পারে এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করে কর্মীদের ভোট ময়দানে নামাতেই কংগ্রেস-এর সঙ্গে জোট-এর পথে হাঁটতে চাইছেন সিপিএম নেতারা।

 

সিপিএম নেতাদের ধারনা, বাম শরিকরা যদি শেষ পর্যন্ত নাও থাকে তাতে কংগ্রেসকে অধিক সংখ্যক আসন ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে তৃণমূলের বঞ্চিত প্রার্থীদের কংগ্রেস বিধানসভার টিকিট দিয়ে তৃণমূলের ঘরের ভোট ভাঙ্গাতেও সক্ষ‌ম হবে। পাশাপাশি বাম শরিকদের নীচুতলার ভোট ত্রিমুখী লড়াই-এ শেষ পর্যন্ত সিপিএম প্রার্থীদের অনুকুলে আসা ছাড়া কোনও পথ থাকবে না। এর পাশাপাশি বিজেপির সঙ্গে গোপনে শিলিগুড়ি মডেল বলে খ্যাত বিরোধী ভোটকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটা আপসের পথ খোলা থাকছে। যা কিনা নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে তৃণমূলকে হঠাতে যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দাও-এর ডাক দেওয়া হবে। তাতে বিজেপি-র আসন এক থেকে ১০-এ বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ দেখিয়ে বাকি ২৮৪টি আসনে বিজেপির ভোটের ৩-৪ শতাংশ ভোট সিপিএম নিজের অনুকুলে টানার পথও খোলা রাখতে চায়।

 

সেক্ষেভত্রে কংগ্রেস-এর কয়েকটি আসনে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার গোপন পথের সম্ভাবনাও রাজনৈতিক মহল উড়িয়ে দিচ্ছে না। সিপিএম নেতাদের ধারনা, কংগ্রেস-এর সঙ্গে জোট হলে পরিবর্তনের একটা হাওয়া তৈরি করে তৃণমূলকে হটানোর একটা পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিজেপিকে শিলিগুড়ি মডেল দেখিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়িয়ে তৃণমূলের মনোবল কিছুটা হলেও প্রতিহত করতে সক্ষ‌ম হবেন তারা। এসবই সিপিএম-কংগ্রেস জোট-এর পক্ষের সিপিএম মহলের পাটিগণিত। এই গণিত যদি সফল না হয়, তাহলে সিপিএম কংগ্রেসকে নিয়ে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্য থেকে তাদের দুটি আসনের পরিবর্তে ১০টি আসন পেতে সক্ষ‌ম হবে। পাশাপাশি কংগ্রেসও তার আসন সংখ্যা দ্বিগুণ করতে পারে এমনটাও দিল্লির কংগ্রেসকে আভাস দেওয়ার চেষ্টা করছে।

 

যাতে রাজ্যে কংগ্রেস-সিপিএম-এর জোটের পথে দিল্লির হাইকমান্ড অন্তরায় না হয়। বাস্তব পরিস্থিতি কিন্তু অন্য কথা বলছে, রাজ্যে বিক্ষি্প্ত কিছু অশান্তিতে শাসক দলের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ছাড়া আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে, পরিকাঠামো উন্নয়নে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার আশাতীত সাফল্য লাভ করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, কন্যাশ্রী, শিক্ষারশ্রী, সবুজসাথী প্রকল্প, ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প, পানীয় জল, বৈদ্যুতীকীকরণ, শিক্ষাক সম্প্রসারের মত কাজে। জঙ্গলমহল, পাহাড়ে একটা সুস্থিতি পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। প্রশাসনিক কাজে সুবিধার জন্য নতুন চারটি জেলা ঘোষণা করেছেন। যা দক্ষি্ণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের উন্নতির সোপান বলা চলে।

 

সাইকেল বিতরণ নিয়ে বিরোধীরা যত মজা করবেন, গ্রামীণ ৪০ লক্ষ‌ পরিবার যেখানে প্রত্যক্ষ‌ প্রায় দেড় কোটি ভোট রয়েছে তা সংহত হবে তৃণমূলের অনুকুলে। গ্রামীণ সাধারণ মানুষ, তপশীলী জাতি উপজাতি, সংখ্যালঘু, খেটেখাওয়া মানুষের অধিক সমর্থনে তৃণমূল শুধু অধিক ভোট নয়, অধিক আসন নিয়ে ২০১৬-এ ফের রাজ্য ক্ষ‌মতায় আসছে একথা হলফ করেই বলা যায়। তামিলনাড়ুর বন্যা ও রাজ্যের বন্যায় কেন্দ্রের বঞ্চনার চিত্রটা আক্ষ‌রিক অর্থে উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে। এসব প্রচারে তুলে ধরার অপেক্ষা রাখে না। এই বাস্তব সত্যকে অস্বীকার বা উপেক্ষাপ করে কোনও জোটই এই মুহুর্তে ক্ষ‌মতায় রাজ্যে আসতে পারবে না, কারণ মানুষের মন পরিবর্তনের জন্য তৈরি নয়। তাঁরা মমতা ব্যানার্জিকে আবারও সুযোগ দিতে চান রাজ্যে উন্নয়নের স্বার্থেই। 


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ