,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

নামিদামি হাসপাতালগুলোতে পরিবেশের ছাড়পত্র নেই !!!

লাইক এবং শেয়ার করুন

অভিজাত হাসপাতাল হিসেবে সুনামও কুড়িয়েছে ঢের। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে তাদের সেবা। তারপরও এসব হাসপাতালগুলো মানছে না সরকারি নিয়ম। বাইরে ঝকঝকে হলেও ভেতরটা ভরে আছে নানা অসঙ্গতিতে। রাজধানীর অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা ক্লিনিকের মতো নামকরা হাসপাতালগুলোও চলছে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বড় বড় হাসপাতাল গুলোকে যে পরিবেশ অধিদফতর যে ছোটখাটো কারণে জরিমানা করছে, এখন যদি আমি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাই তাহলে চারদিকে রব পড়ে যাবে।

গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৫টি হাসপাতাল ক্লিনিককে ছাড়পত্রের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী যে কোনও ধরনের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এ আইন কেবল কাগজেই বন্দি, হাসপাতালগুলো মোটেই তোয়াক্কা করছে না আইনের। পরিবেশ অধিদফতরের নোটিশ পাওয়া হাসপাতালগুলোর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ স্কয়ার, ইউনাইটেড, অ্যাপোলো, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ল্যাবএইড, পপুলারসহ আরও নামিদামি হাসপাতাল রয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ঢাকা মেট্রো অফিসের তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল আশ্রাব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকার প্রায় ৬০টির মতো হাসপাতালকে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।

 

এ তালিকায় রয়েছে শহরের অলিগলিতে গড়ে ওঠা ক্লিনিকও। পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তারা সেটা নেয়নি। সাইফুল আশ্রাবের মতে, ঢাকার এমন কোনও হাসপাতাল-ক্লিনিক নেই যেটা পুরোপুরি আইন মেনে চলছে। পরিবেশ অধিদফতর প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ক্লিনিক-হাসপাতালে নোটিশ পাঠায়। তিনি আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে মেডিক্যাল বর্জ ব্যবস্থাপনা মেনে চলে এমন কোনও হাসপাতাল নেই। কোনও না কোনও ত্রুটি থাকবেই। সাইফুল আশ্রাব বলেন, আমরা তাদেরকে চাপে রাখছি যেন একসময় পুরোপুরি নিয়ম মেনে চলে। আশা করি আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে সবাই নিয়ম মানবে। স্কয়ার হাসপাতালের কিছু ত্রুটি আছে, অ্যাপোলো ইউনাইটেডেরও রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, স্কয়ারের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার আছে কিন্তু পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগার নেই। আবার অ্যাপোলোতে পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগার থাকলেও মেডিক্যাল বর্জ ট্রিটমন্ট নেই। এটা নিয়ে তাদের গত মাসে শর্ত দিয়েছি। তারা কাজ শুরু করেছে। চলতি মাসেই আমরা পরিদর্শন করে অগ্রগতি দেখবো। ইউনাইটেড হাসপাতাল তাদের লন্ড্রি সার্ভিসের পানি ট্রিটমেন্ট করলেও ল্যাব, অপারেশন থিয়েটারের তরল বর্জ্য ট্রিটমেন্ট করে না। এই ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য গতবছর তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি, এবার আবার বলবো। এরপরও না করলে আইনগত পদক্ষেপ নেব। ইউনাইটেড হাসপাতালের অ্যাসিসটেন্ট অ্যাডমিন ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে তাদের হাসপাতালের সবকিছু ঠিক আছে বলে জানান।

 

এদিকে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের এজিএম, করপোরেট কমিউনিকেশন সাইফুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র সংক্রান্ত কোনও চিঠি আমাদের কাছে আসেনি, বরং আমরা পরিবেশের ছাড়পত্র নবায়ন করেছি গত ১৭ ডিসেম্বর। আমরা আবেদন করেছিলাম আগেই, তারপর পরিবেশ অধিদফতর থেকে পুননিরীক্ষণ করে তারা নবায়নের ছাড়পত্র দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল আশ্রাব বলেন, ল্যাব এইডের তিনটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কার্ডিয়াক কাজ শুরু করেছে। দুটো প্রতিষ্ঠানের কাগজ ঘাটতি রয়েছে, এখনও এগুলো দেয়নি তারা।তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। তারা আবেদন করার পর কিছু কাগজ এখনও বাকি রয়েছে। সেগুলো দেওয়ার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে।  

 

পরিবেশ অধিদফতরের তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া চিঠির কথা সাইফুর রহমানকে জানালে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদফতর থেকে ল্যাবএইড হাসপাতাল কখনোই কোনও চিঠি পায়নি। অপরদিকে স্কয়ার হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পরিবেশ অধিদফতর থেকে নোটিশ পাওয়ার পর তারা সে অনুযায়ী কাজ করছেন। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালকে পরিবেশ অধিদফতরের দেওয়া চিঠি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোল্লা সালাউদ্দিন আহমেদ পরিবেশ অধিদফতরের কোনও চিঠি পাননি বলে জানান। এমনকি তিনি চিঠি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলেও জানান।

 

পরিবেশ অধিদফতর থেকে হাসপাতালের সব ধরনের ছাড়পত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অথচ পরিবেশ অধিদফতরের তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল আশ্রাব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেড় মাস হলো তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাড়পত্রের ব্যাপারে অধিদফতর নড়েচড়ে বসতেই হাসপাতালগুলো এ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন হয়েছে, উদ্যোগীও হয়েছে। আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে বৈঠক করছি।’


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ