আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ দুপুর ১:০১ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

জাহেদুর রহমান রবিনের চিত্রকর্ম অবলম্বনে আইবিএন শামস এর ছোট গল্প “মা”

তরু। অসম্ভব সুন্দর রমনী। মাটিকে সে ভালবেসে বিয়ে করেছে। সে কি আনন্দ তার। স্বামীর সাথে সুন্দর সংসার সাঁঝাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দেখেতে দেখতে তার বিয়ের পাঁচ-ছয়েক বছর কেটে গেলো। একদিন সে জননী বনে গেছে কাবিলের। দুনিয়ার চিরায়ত নিয়ম মেনে তার সংসারে দারিদ্রতা নেমে এসেছে। দরিদ্রতার ভেতরে বেড়ে উঠেছে কাবিল। থাকার অভাব, খাওয়ার অভাব। এতো সব অভাবের যাতনায় কাবিলের ভেতর থেকে জানোয়ারী ভাব জেগে উঠেছে।

অভাবের তারনায় নিজেকে মানুষ আর ভাবতে পারেনা কাবিল। মানুষ যখন অমানুষ হয়ে উঠে তখন সে জানোয়ার থেকে হিংস্র হয়ে উঠে। আর সেই অমানুষী মন নিয়ে মাকে বাজারে বেঁচে আসলো আজ। অথচ তার চোখ থেকে একফোটা জলও আসেনি! তার এমন দৃশ্য দেখে মনে হয় ফেরাউন কাবিলের জানের দোস্ত। সেও ভুগছে অর্থাভাবে। মা তোমার রক্ত পান করা ছাড়া আমার গতি নেই।

আসে সে কি করবে ? কেউ যে চায়না মরতে সুন্দর ভুবনে। সে তার মাসিকে কেটে মনের ক্ষিধে মিটাচ্ছে। দিন দিন মানুষগুলোর কি যে হচ্ছে? ভোর ফুটলে বীটপি জেগে উঠে। নিজের গলায় দড়ি দিতে মরিয়া হয়ে উঠে সে। পৃথিবীর সব মানুষ যে তারই মতো অগণিত মায়ের রক্ত নিয়ে হোলী খেলায় মেতেছে। এসব ভাবতে ভাবতে সে যখন পেছন ফিরে থাকায়। অবাক না হয়ে পারলোনা বেচারী স্বীয় সন্তানের উদ্ভট আর ভয়ঙ্কর চেহারা দেখে।

বত্রিশ দন্ত বিকশিত করে সে চিৎকার করে বলে উঠে, মা তোমার রক্ত পান করা ছাড়া আমার গতি নেই ? জননী তো জননীই। পু্ত্রের সুখের কথা ভেবে বিনা বাক্য ব্যয়ে বিলিয়ে দিলো নিজের জীবন, নিজেরই রক্ত পান করে তার এই ছোট্ট শিশু এমন দানব হয়ে উঠেছে। এক সময় এদের বেঁচে থাকা হুমকির মুখে দাড়ায়। মায়ের আদর, যত্ন আর ভালবাসা ছাড়া মানুষ কেন পশুও যে বাঁচেনা। মাতৃদুগ্ধ ছাড়া কে বাঁচে ? কেউ বাঁচতে পারে না। একদা সমগ্র জনগোষ্ঠী মরেছে। তবু কে সইতে পারে মায়ের উপর অত্যাচার ?

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com