,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বিদায়ী বছরজুড়ে ২০১৫ সালে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনা

লাইক এবং শেয়ার করুন

বিদায়ী বছরজুড়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ছিল শরণার্থী ইস্যু, জিহাদিগোষ্ঠী আইএস এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন-দৌড়ে প্রার্থীদের বাৎচিত। বছরের শেষে ভয়াবহ জিহাদি হামলার ঘটনা ঘটে প্রেমের শহর প্যারিসে। সন্ত্রাসী হামলা ছাড়াও এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগও বারবার আঘাত হেনেছে বিশ্ব মানচিত্রে। নেপালে যেমন ঘটেছে প্রকৃতিসৃষ্ট ভূমিকম্পে প্রাণহানি, তেমনি মক্কায় হজ চলাকালে মানবসৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় প্রাণহানি হয়েছে হাজারো মানুষের।

প্যারিস হামলা
১৩ নভেম্বর জিহাদি সংগঠন আইএসের বন্দুকধারীরা প্যারিসের বিভিন্ন বার, রেস্তোরাঁ ও বাতাক্লঁ কনসার্ট হলে হামলা চালিয়ে ১৩০ জনকে হত্যা করে।  ১৯৪৫ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা।  প্যারিস হামলার পর ইরাক ও সিরিয়াতে আইএসবিরোধী হামলা জোরদার করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।

শরণার্থী ইস্যু
সাগরসৈকতে তিন বছরের শিশু আয়লান কুর্দির মৃতদেহের সেই ছবি বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সিরিয়া ও ইরাকে গৃহযুদ্ধে বাস্তুহারা শরণার্থীদের দুর্দশা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিত্র। স্রোতের মতো ইউরোপগামী এসব শরণার্থীদের কয়েকটি দেশ আশ্রয় দিলেও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো তাদের প্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়াসহ নানা ব্যবস্থা নেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো একাধিক বৈঠকে বসেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি।

আইএসের দৌরাত্ম্য
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জিহাদিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস)বিরুদ্ধে সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানের মধ্য দিয়ে আইএসবিরোধী যুদ্ধ শুরু হয়।  প্রথম দিকে আইএসকে কোবেন শহর থেকে হটাতে সফল হলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই আইএস ফিরে আসে দ্বিগুণ শক্তিতে।  এমনকি ইরাকেও ছড়িয়ে পড়ে তারা। প্রথমে ইরাকে ৩৭টি আত্মঘাতী সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে কেন্দ্রীয় ইরাক দখল করে আইএস।  এরপর সিরিয়ার পালমিরা থেকে আসাদ সরকারের বাহিনীকে হটা্য় তারা।  দেশগুলোর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ধ্বংস করতে থাকে। আইএস নির্মূলে মার্কিন সেনা ছাড়াও মাঠে নামে ব্রিটিশ ও রুশ সামরিক বাহিনী। হামলা চালায় একের পর এক।  আইএসের হাত থেকে বেশ কয়েকটি শহরের পুনর্দখল নিলেও এখনো সমান তালে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিদার গোষ্ঠীটি। বছরের শেষ দিকে ২৮ ডিসেম্বর ইরাকি বাহিনী রামাদি শহর থেকে আইএসকে হটিয়ে শহরটির পুনর্দখল নেয় সেনাবাহিনী।

নেপালে ভূমিকম্প
২৫ এপ্রিল দুপুরে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে হিমালয়কন্যা নেপালে। এটি ছিল গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।  প্রলয়ংকারী এ ভূমিকম্পে নয় হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। আহত হয় আরো ২৩ হাজার।  ভূমিকম্প এবং পরবর্তী কয়েক দফা আফটারশকের প্রভাবে হিমালয়ে বেশ কয়েকটি তুষারধসের ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্প, ভূমিধস ও তুষারধসের ঘটনায় বহু প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয় নেপালে।

মক্কা দুর্ঘটনা
সেপ্টেম্বরে মক্কায় হজ পালনের সময় দুটি পৃথক ঘটনায়্- মিনায় পদদলিত হয়ে এবং কাবা শরিফ এলাকায় নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ে- প্রায় আড়াই হাজার হজব্রত পালনকারী নিহত হন।  হজের সময় প্রায় বছরই এমন দু-একটা ঘটনা ঘটলেও এবারের মতো এতটা ভয়াবহ মাত্রায় নিহতের ঘটনা এই প্রথম।

আলোচনায় সৌদি রাজপরিবার
সারা বছর ধরেই আলোচনায় ছিল সৌদি রাজপরিবার এবং বাদশা। ইয়েমেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তেলের মূল্য হ্রাস বাদশা সালমানের দূরদর্শিতাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সৌদি রাজপরিবারে বিদ্রোহের সুরও ছিল আলোচিত। বছর শেষে দেয়া দেশটির বাজেটেও দেখা গেছে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি। ফলে পানির দাম বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে দেশটিকে।

কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা
এ বছর মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। বছরের সবচেয়ে আলোচিত ছিল ফ্রেডি গ্রের মৃত্যু। ছুরি সঙ্গে রাখার অপরাধে ২৫ বছর বয়সী ফ্রেডি বাল্টিমোর থেকে গ্রেফতার হন এবং পুলিশের ভ্যানে থাকা অবস্থায়ই কোমায় চলে যান। মারা যান এক সপ্তাহ বাদে। এ ঘটনায় বাল্টিমোর, ফার্গুসন ও মিসৌরিতে তীব্র প্রতিবাদ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ১৭ জুন সাউথ ক্যারোলাইনার একটি আফ্রিকান চার্চে এক শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারীর গুলিতে ১৭ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ মারা গেলে আবার প্রতিবাদ শুরু হয়। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও পরে এ নিয়ে আর কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট  নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দেশটির প্রধান দুই দল ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারণা ও বিতর্ক সারা বছরই ছিল আলোচনায়। তাদের মধ্যে নানা বিতর্কিত ও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করে সমালোচনার জন্ম দেন রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে জিহাদিহামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্রভাবে সমালোচিত হন তিনি।  এ ছাড়া মেক্সিকান ও কৃষ্ণাঙ্গ এমনকি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে নিয়ে বিভিন্ন বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য তার সমালোচনা হয় বিশ্বজুড়ে।

সু চির ফিরে আসা
দীর্ঘ ২৫ বছর পর  মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয় পায় সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। এবার সংসদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসন নিজেদের অধীনে রাখার শর্তে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন জান্তা সরকার। এ যেন সু চির পুনর্জন্ম।

সিরিজার উত্থান-পতন, ফের উত্থান
গ্রিসের বামপন্থী রাজনৈতিক দল সিরিজা বছরের শুরুতে ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদ করে কর্মজীবী শ্রেণীর অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে ইউরোপিয়ান রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু জুলাইতে দলটি থেকে নির্বাচিত গ্রিক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস এবং তার অর্থমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দেশটির ঋণ-সংকট এবং জার্মান সরকারের কঠোর শর্তের চাপে ভেঙে পড়ে। গ্রিস সরকার বাধ্য হয় ব্যয়-সংকোচন নীতিসহ ঋণদাতাদের বিভিন্ন শর্ত মেনে চুক্তিতে আসতে। সেপ্টেম্বরে আবারও সিপ্রাস সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হন। নতুন সরকার নিয়ে গ্রিস তৈরি হচ্ছে নতুন বছরে তার ঋণ সহায়তার প্রথম কিস্তি নিতে।

বিমান দুর্ঘটনা
মার্চে  দেড় শ যাত্রী নিয়ে জার্মানউইংসের পাইলটের আত্মহত্যার ঘটনা কাঁপিয়ে দেয় পুরো বিশ্বকে। আল্পস থেকে সেই বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করতে করতেই ২০১৪ সালে হারিয়ে যাওয়া এমএইচ ৩৭০ বিমানের ডানার অংশ ভেসে আসে ফরাসি দ্বীপ রিইউনিয়নের সৈকতে। নভেম্বরে ২২৪ যাত্রী নিয়ে সিনাই মরুভূমির ওপর বিস্ফোরিত হয় একটি রুশ বিমান। এরপর আবার সিরিয়া সীমান্তে তুরস্কের গোলায় রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়।  জরুরি অবতরণের সময় গুলি করে হত্যা করা হয় এক পাইলটকে।

শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা
নতুন বছর শুরুর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ফ্রান্সের রম্য সাপ্তাহিক শার্লি হেবদোর অফিসে হামলা করে এক পুলিশসহ ১১ জনকে হত্যা করে ফরাসি দুই ভাই সাইদ ও শেরিফ কুয়াচি।  এ ধরনের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ৪০ বিশ্বনেতাসহ প্রায় ২০ লাখ ফরাসি নাগরিক বিশাল এক প্রতিবাদ র‌্যালিতে অংশ নেয় যার স্লোগান ছিল ‘জে সুই শার্লি’ (আমি শার্লি নই)।

আফ্রিকায় নৃশংসতা
ছোট-বড় হামলার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালটি আফ্রিকার জন্য কেটেছে সন্ত্রাসের বছর হিসেবে। একদিকে উত্তর নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম হত্যাযজ্ঞ চালায়, অন্যদিকে সোমালিয়া আর কেনিয়ায় একই কাজ করে আল-শাবাব। ২ এপ্রিল আল-শাবাব জঙ্গিরা কেনিয়ার গ্যারিসা ইউনিভার্সিটি দখল করে ঠাণ্ডা মাথায় ১৪৮ কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে হত্যা করে।

যমুনা নিউজ২৪


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ