সাতকানিয়ায় গুলিতে নিহত ১, ভোট গ্রহণ বন্ধ

এই সংবাদ ২১ বার পঠিত

পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, বরগুনা, জামালপুর, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুলুস খান পাঠান জানান, আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়া কলেজ কেন্দ্রের বাইরে দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের এ সংঘর্ষ হয়। এসময় গোলাগুলির মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন নুরুল আমিন (২৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এসআই আরো জানান, নুরুল আমিন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী মো. জোবায়েরের সমর্থক। তবে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন জানান, নিহত নুরুল আমিন যুবদলের কর্মী ছিলেন। বরগুনায় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ৫০। বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গগন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ সংঘর্ষে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পরেই সকাল ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের পক্ষে একদল সন্ত্রাসী কেন্দ্রটি দখল করে ভোট কারচুপির চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে পুলিশ। ভোট দিতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাধারণ ভোটাররা। উত্তেজিত জনতা ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে আহত হন সদর থানার ওসি রিয়াজ হোসেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির ক্যামেরাম্যান এস এম সিফাতসহ অন্তত ৫০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়তে হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে বিজিবি, এপিবিএন ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জামালপুরে সংঘর্ষ

জামালপুরে সকাল ১০টার দিকে জামালপুর সদরের সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী ও বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের ব্যাপক টিয়ার সেল ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আজাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ছনকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বানিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জোর করে ব্যালটে সিল মারার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে রিটানিং কর্মকর্তা এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন।

 

জামালপুর সদরের বিএনপি মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা জোর করে সিল মারছে। এ ছাড়া জামালপুর সদরের জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজুর রহমান বাদশা ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

দেওয়ানগঞ্জে গুলিবিদ্ধ ৩

জাপালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়রপ্রার্থী নুরুন্নবী অপুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫ রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এতে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মতলবে ভোটকেন্দ্রে ১৫ রাউন্ড গুলি, আহত ১০। চাঁদপুরে ৫টি পৌরসভায় সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনার সৃষ্টি হয়। মতলব পৌরসভার দক্ষিণ বাইশপুর ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইকালে পুলিশ ১৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে ১০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সেখানে পুনরায় ভোট শুরু হয়।

 

চন্দনাইশে সংঘর্ষে আহত ২০। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ জোয়ারা আল মদিনা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাল ভোট দেয়া ও কেন্দ্র দখল করার চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আধাঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com