গোলাপঞ্জে কে হচ্ছেন পৌর পিতা ?

এই সংবাদ ২৫ বার পঠিত
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : রাত পোহালেই শুরু হবে ভোট। বেলা শেষে আসবে কাংখিত ফলাফল। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন চায়ের কাপে ঝড় উঠছে নির্বাচনী উৎসব আমেজের। মানুষজনের মুখে মুখে এখন শুধু একটাই প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে ৩০ ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচনে গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় কে হচ্ছেন পৌর পিতা! অতীতের কষ্ট বেদনার কথা মনে পড়তেই আতকে উঠে পৌরবাসী। নাম মাত্র প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা! বাস্তবে বর্জ্য গর্ত আর দূর্ভোগের শহর।

 
বর্তমান মেয়র একাই এক”শ। নিজেই নিজের ঢোল পিঠাচ্ছেন। উন্নয়নের ফিরিস্তি দেখাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে পৌর শহরের অলি গলি যেন অবহেলিত জনপদের আখড়া। রাস্তাঘাট, কালবার্ড, বিদ্যুত, হাট-বাজারসহ কোথাও উন্নয়নের কোন লেশ নেই। অথচ মুখে মুখে খই ফুটাচ্ছেন বর্তমান মেয়র। এ পৌরসভার অন্যতম চিহ্নিত একটি সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। শুধু বর্ষাকাল নয় দীর্ঘ দিন ধরে বিশেষ করে ১ ও ৪ নং ওয়ার্ডবাসী জলাবদ্ধতার কষ্ঠে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া এখনো বিদ্যুত বঞ্চিত রয়েছেন ৩,৭,৯ ও ৫ নং ওয়ার্ডের শতাধিক পরিবার।তার সাথে এ ওয়ার্ডগুলিতে রয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা। ৯ নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তার বেহাল দশা। কাচা রাস্তাও রয়েছে অনেক। ৩ নং ওয়ার্ডে কোন বিদ্যালয় নেই।বিশুদ্ধ পানির অভাব।বেশীরভাগ পরিবার নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। ৪,৫,২ ও ৮ নং ওয়ার্ডের প্রধান ও দীর্ঘদিনের সমস্যা হলো রাস্তাঘাট, কালবার্ট, বিদ্যুত। বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সাথে আলাপ করলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এ পৌরসভা শুধু নামেই যেন এ গ্রেডের। অসহায় দরিদ্র এতিম মানুষ,আর অনিয়ম দূর্নিতি আর বঞ্চনার দিকে তাকালে যেন মনে হয় অজোপাড়া একটা গ্রাম। নেই উন্নয়নের লেশ, আছে শুধু হাহাকারের চিত্র। তবুও বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুর বক্তব্যের খই ফুটানো দেখলে বুঝা যায় পরিকল্পিত একটি পৌর নগরী। দুর্নিতির বেড়াজালে বন্দি এ শহর।
তারা আরো বলেন, ঘরের চালে টিন নেই। বিশুদ্ধ পানির জন্য নেই টিউবওয়েল। স্থাপন করতে গেলে মেয়র হয়ে যান প্রধান বাঁধা। কিছু হাদিয়া তার হাতে তুলে দিতে হয়। না হলে কাজ হবে না। রাস্তাঘাট কালবার্ট ভেঙ্গে চুরমার। তবুও মেয়রের কাছে এ গ্রেডের পৌরসভা। বর্জ্র গর্ত আবর্জনার শহরে পরিণত এ শহরে দুর্ভোগের শেষ নেই। রাস্তাঘাটে গাড়ির ঝাকুনিতে গালি দিয়ে গোষ্টি উদ্ধার করে যাত্রীরা। একেরপর এক মামলার বেড়াজালে বন্ধি হতে হচ্ছে আওয়ামীলীগ বিএনপি সহ সর্বস্থরের জনগনকে। স্বার্থ একটাই। নিজের ফায়দা হাসিল করা। কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, অতিরিক্ত হোল্ডিং টেক্স আদায়, এ পৌরসভার উন্নয়নে গুরুত্ব পুর্ণ রাজস্ব খাত হোল্ডিং ট্যাক্স এ নানা অনিয়ম,পৌরশহরের বিভিন্ন বাসা,মার্কেট মালিক,ব্যাবসায়ীরা হোল্ডিং ট্যাক্সের নানা অনিয়মে অতিষ্ঠ আমরা। হোল্ডিং ট্যাক্সের অজুহাতে ট্রেড লাইসেন্স না দেয়ার অভিযোগ করে তারা বলেন যার কারণে ব্যাবসায়িক স্বার্থে ব্যাংক একাউন্ড করতে পারছি না। আমরা বিল্ডিং মালিক, ব্যাবসায়ী, বিভিন্ন ব্যাক্তিমালিকাধিন ও বেসরকারী অফিস এমনকি দরিদ্র রিক্সাচালক কেউই আজ শান্তিতে নেই। পৌর এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রশ্ন আমরা কি আমাদের দু:খ কষ্ট মোচনে উদার মহত একজন পৌর পিতা পাবো। আমরা জুলুমবাজ দুর্নিতীবাজদের কাছ থেকে মুক্তি চাই। কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বললে তারা জানায়, যোগ্য প্রার্থীকে আমরা ভোট দেবো। যে জনগণের দু;খ-দুর্দশায় পাশে থাকবে। এবারের নির্বাচনে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসাবে সতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী এগিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে এ পৌরসভায় মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী প্রতিন্দ্বীতা করছেন। রাত পোহালেই শুরু হবে হিসাব নিকাশের পালা। বেলা শেষে আসবে কাংখিত ফল। তবে কার ভাগ্যে কি আছে জনগণ তার প্রমাণ দেবে কাল ৩০ ডিসেম্বর। সকাল সন্ধা রাত প্রচার প্রচারণায় ব্যস্থ সময় পার করেছেন। উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। আশা নিরাশার  দোলাচলে একেক প্রার্থী একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। বাস্তবে তার প্রমাণ মিলবে আগামী নির্বাচিত পৌর পরিষদে। 
 
 
 
 
 
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com