মেয়র হয়েই ধনবান জাকারিয়া আহমদ পাপলু!

২২ বার পঠিত

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি # সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুর বার্ষিক আয় ছিল ৯৪ হাজার টাকা। মেয়র হওয়ার পর তাঁর আয় প্রায় ১৪ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা। আগে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল। এটি বেড়ে ৩২ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৪ টাকা হয়েছে। ২০০৮ সালে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল। এরপর গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আর যাতে নির্বাচন না হয় সেজন্য মেয়র পাপলু নিজেই নানা ধরনের পায়তারা শুরু করেন। ২০০৮ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

 

এ বছরও দলীয় মনোয়ন পেয়ে তিনি এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত সাত বছরে তাঁর আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।হলফনামা সূত্রে জানা যায়, পাপলু ২০০৮ সালে ছিলেন ‘রেন্ট-এ-কার’ ব্যবসায়ী। এর বাইরে যৌথ মালিকানায় তাঁর স্টেশনারি ব্যবসাও ছিল। ২০১৫ সালে এসে তাঁর পুরোনো ব্যবসা বদলে দাঁড়িয়েছে ‘রড়, সিমেন্ট, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, বিটুমিন বিক্রেতা এবং বালু পাথর সরবরাহকারী’। ২০০৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা বিচারাধীনন থাকলেও ২০১৫-তে এসব মামলায় তিনি অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ২০০৮ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল ৯৪ হাজার টাকা, ২০১৫ সালে এসে সে আয়বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ২৩৬ টাকা। ২০০৮ সালে পাপলু দোকান ভাড়া হতে ৪৮ হাজার, চেয়ারম্যানের সম্মানী ভাতা হতে ৩৬ হাজার ও ব্যবসা হতে ১০ হাজার টাকা আয় করতেন। ২০১৫ সালে তিনি দোকানভাড়া বাবদ ৮৬ হাজার টাকা ৯৪০ টাকা,ব্যবসা থেকে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬২ টাকা, মেয়রহিসেবে প্রাপ্ত সম্মানীভাতা ২ লাখ ৪০ হাজারও ডিপিএস-এর সুদবাবদ ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩৪ টাকা বার্ষিক আয় করতেন।

 

২০০৮ সালে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল এবং ২০১৫ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদ হয়েছে ৩২ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৪ টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ২০০৮ সালে না থাকলেও এবার একটি শর্টগান ও একটি পিস্তলের মালিক হয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ টাকার। এরমধ্যে ৯ শতক কৃষি জমি, পাঁচদশমিক ৩১ শতক অকৃষি জমি ও চারটি দোকান রয়েছে। ২০১৫ সালে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নয় শতক কৃষি জমি, ১৩ দশমিক ৮৮ শতক অকৃষি জমি ও চারটি দোকান রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালে পাপলুর ১৯ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ থাকলেও ২০১৫ সালে এসে সেই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ টাকায়। তবে ২০০৮ সালে সেই ঋণ অপরিশোধিত ছিল ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৮৯ টাকার এবং ২০১৫ সালে সেই অপরিশোধিত ঋণ রয়েছে ২ লাখ ৭২হাজার ৯১১ টাকার।

 

মেয়র হওয়ার পর ব্যবসার প্রসারে আয়ও বেড়েছে বলে জানান পাপলু। তিনি বলেন, ব্যাংকে আমার সিসি লোন রয়েছে। লোনের সে টাকা খাটিয়ে আমি ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছি। এছাড়াও পারবিারিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের কারণেই আমার সম্পদের প্রসার হয়েছে। তাই আয়ও বেড়েছে।পাপলু ব্যবসার প্রসার থেকে আয় বাড়ার কথা জানালেও পৌর এলাকার বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, মেয়র থাকাকালে বিভিন্ন কমিশন থেকে তিনি ধনবান হয়েছে। হলফনামায় তার ধনী হওয়ার খুব কম অংশ বর্ণিত হয়েছে বলে তাঁর ঘনিষ্টজনরা জানান। এমনটিন হলে পাপলু তার হলফনামায় দেওয়া তথ্যও গোপন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।এ ব্যাপারে তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে মেয়র হওয়ার পর পাপলুর দিনবদলের প্রকৃত চিত্র।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাকারিয়া মোহাম্মদ, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি #

Correspondent at Nobobarta.com, Founding Member at গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি । 01778-893010

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com