বরিশালে আভাস’র উদ্যোগে ভূমিনীতির দুর্বলতা এবং নারী কৃষক বান্ধব ভূমিনীতি প্রণয়নের দাবিতে আলোচনা সভা

এই সংবাদ ৪০ বার পঠিত

অপূর্ব লাল সরকার, বরিশাল # নারী কৃষকের স্বীকৃতির যৌক্তিকতা ও বিদ্যমান ভূমিনীতির দুর্বলতা এবং নারী কৃষক বান্ধব ভূমিনীতি প্রণয়নের দাবিতে উপজেলা পর্যায়ে নারী কৃষক ফোরামের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর সোমবার বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘আভাস’  দাতা সংস্থা  গ্রো এবং অক্সফ্যাম এর আর্থিক সহায়তায়  বরিশাল সদর উপজেলার নারী কৃষক ফোরামের সাথে এবং এলাকার পোটেনশিয়াল নারী কৃষকেদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর দক্ষিণ উজিরপুর এবং ২৬ ডিসেম্বর বাবুগঞ্জ উপজেলা নারী কৃষক ফোরামের সাথে ও অনুরূপ দু’টি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বরিশাল সদর উপজেলা নারী কৃষক ফোরামের সাথে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের আহ্বায়ক নারী কৃষক জান্নাতুল ফেরদাউস এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আভাস’র প্রোাগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এসএম সিরাজুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার খায়রুল ইসলাম সুমন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য। বক্তাগণ বলেন, নারী কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, খাদ্য নিরাপত্তায় তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি আদায় এবং নারী কৃষকবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়নের দাবিতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় নারী কৃষকদের অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় প্রচারাভিযান’ কার্যক্রম ২০১৪ সাল থেকে বরিশাল জেলায় নারী কৃষক ফোরামের সদস্য, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, গণমাধ্যম, সিএসআরএল’র মেম্বার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করে আসছে। বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের নারী কৃষকগণ তাদের অধিকার এবং দাবি-দাওয়া বিষয়ে সোচ্চার হতে পারে, কিন্তু সরাসরি নীতি নির্ধারক এবং সাংসদদের কাছে তাদের বক্তব্য জানাতে ও তাদের বিষয়গুলি সাংসদদের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেনা।Avash. Agoljhara .1নারী কৃষক প্রচারাভিযান কার্যক্রম নীতি নির্ধারক, সাংসদ ও নাগরিক সমাজের মধ্যে একটি যোগাযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে, যাতে নারী কৃষকের প্রয়োজনগুলো নীতি আকারে নিয়ে আসা যায় এবং তা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে নেয়া সম্ভব হয়। সভায় নিন্মলিখিত দাবিসমুহ তুলে ধরা হয়:

  • সক্ষম কন্যাসন্তানসহ বিধবা নারীদের খাসজমিতে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে নীতিমালা পরিবর্তন করা জরুরী।
  • পাঠ্য পুস্তকে ভূমি সংশ্লিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সকলের জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করার ব্যবস্থা করা;
  • উত্তরাধিকার আইনে নারী-পুরুষের সম অধিকারের ব্যবস্থাসহ খাসজমিতে নারী প্রধান পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে পূর্বের আইন ফিরিয়ে আনা।
    জাতীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের খাসজমি বিতরণ কমিটিতে নারী প্রতিনিধি রাখার বিধান করা।
  • ভূমিতে নারী পুরুষের সমান অধিকার দেবার ব্যবস্থাসহ খাসজমিতে নারী প্রধান পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে পূর্বের আইন ফিরিয়ে আনা।
    পিতা-মাতার সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের একই রকম অংশগ্রহণ থাকবে।
  • সেচযোগ্য কৃষি জমির অধিগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। অকৃষিখাতে উন্নয়নমূলক কাজে ভূমির প্রয়োজন হলে এবং তার জন্য অকৃষি খাসজমি পাওয়া গেলে খাস জমি ব্যবহারকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রয়োজনে নতুন নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
  • খাসজমি বন্টনের জন্য শুধু ভূমিহীন নয়, শিক্ষিত বেকার, রিকশা-ভ্যানচালক ও ভূমিহীন স্বেচ্ছাসেবকদেরও অগ্রাধিকার দেয়া উচিৎ এই শর্তে যে সে কৃষিকাজ করবে।
  • প্রকৃত নারী এবং পুরুষ কৃষকদের কার্ড দিয়ে আলাদা করা এবং ভূমিতে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা।
  • খাসজমি প্রাপ্তিতে হাত উত্তোলন করে সমর্থন দেয়ার ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে অথবা যারা হাত তুলে সমর্থন দেন তাদের নৈতিকতার বিষয়টি পরিষ্কার হতে হবে।
  • তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ভূমি অফিসগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে।
  • বাজার ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারী কৃষকদের অর্ন্তভুক্ত করার বিধান করা;
  • কৃষিযোগ্য জমিতে ঘরবাড়ি ও শিল্প-কলকারখানা নির্মাণ বন্ধ করা।
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com