মিথ্যা জরিপে কাজ হবে না, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে: খালেদা জিয়া

পৌর নির্বাচনে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) কাউন্সিল অনুষ্ঠানে রবিবার দুপুরে তিনি এ আহবান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সারাদেশে এখন দখল উৎসব চলছে। মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার দখল হয়ে গেছে। এখন কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া লাগে না। এর আগেই বাক্স ভরে দেওয়া হয়। কত সহজ করে দিয়েছে সরকারি দল। এই হলো দেশের সত্যিকারের অবস্থা।’

 

তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ ডিসেম্বর পৌর সভা নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে এরইমধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রমনা। প্রতিটি মানুষ অপেক্ষায় বসে আছে তারা ভোট দেবে বলে। আওয়ামী লীগ যতই মিথ্যা জরিপ করুক লাভ হবে না। আমার কাছে সঠিক জরিপ আছে তাদের ভড়াডুবি হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘রকিব-হাসিনার অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না এবং রকিব-হাসিনা মার্কা নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করে তা আপনারা সঠিক সংবাদের মাধ্যমে তুলে ধরুন।’

 

তিনি বলেন, ‘ধানের শীষের বিজয় হবে। এ জন্যই বিএনপিকে নিয়ে তাদের ভয়। বার বার কৌশল নেয় বিএনপি যাতে নির্বাচনে না আসতে পারে। কিন্তু এবার তারা (আওয়ামী লীগ) কৌশলে একটু ভুল করে ফেলেছে। প্রতীক দিয়ে নির্বাচন দিয়ে তারা মনে করেছিল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছে, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে, একদলীয় নির্বাচনে নয়।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে নিকৃষ্ট স্বৈরশাসন জগদ্দল পাথরের মতো বাংলাদেশের মানুষের ওপর চেপে বসেছে। স্বাধীনতার চেতনা ও গণতন্ত্র গলা টিপে হত্যা করেছে। সুশাসন নির্বাসনে চলে গেছে। মৌলিক মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ভুলণ্ঠিত করা হয়েছে। সমাজের কোথাও ন্যায় বিচার নেই। প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। গুম, খুন মামলা, হামলা, নির্যাতনের মাধ্যমে কায়েম হয়েছে ত্রাসের রাজত্ব।’

 

গণমাধ্যমকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে উল্লেখ করে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গণমাধ্যমের ওপর নেমে এসেছে তোড়জোড়। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর গণমাধ্যমের ওপর আরও দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার প্রেস ক্লাবকেও ন্যক্কারজনকভাবে দখল করে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের অপশাসনের সমালোচনা করলেই রোষানলে পড়তে হয়। সত্য তুলে ধরার অপরাধে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে তিন বছর কারাগারে রাখা হয়েছে। সরকারের অপকর্ম প্রকাশের কারণে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভিসহ অনেক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে গেছেন। তারা দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘ঘরে বাইরে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ ২৪ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, ‘অনলাইন গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের নামে কালাকানুন করে সরকার গণমাধ্যমে বন্ধ করার পয়তারা করছে। খালেদা জিয়া সব বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া এরবং কারাগারে আটক সব সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানান। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখে আসছি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে যেত। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে সাংবাদিকরা নাকি ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না। অবশ্যই সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কী হচ্ছে, না হচ্ছে সব আপনারা তুলে ধরবেন।’

 

বিএফইউজের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, রুহুল আমিন গাজী, কবি আব্দুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধানসহ সংগঠনের সারাদেশের সাংবাদিক নেতারা। এ ছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন,যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২৩ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com