আন্দোলনের মুখে রাবির হল খোলা রাখার সিন্ধান্ত

৩৮ বার পঠিত

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি #  অবশেষে দীর্ঘ পাচ ঘন্টা আন্দোলনের মুখে শীতকালীন ছুটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকও বন্ধ করে রাখায় বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ফটকের বাইরে রাখা ছিল। পরে ফটক খুলে দেওয়া হলে বাস ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

শীতকালীন অবকাশের জন্য আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে ২-৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। গতকাল বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক শিউলি শামিম শান্তা সাংবাদিকদের জানান, প্রাধ্যক্ষ পরিষদের পক্ষ থেকে আবাসিক হলগুলো ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু আগামী ৮ জানুয়ারি বিসিএস পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ জানুয়ারি হল খুলে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির কথা চিন্তা করে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ সভা করে শীতকালীন ছুটিতে হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।RUএদিন বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয়। এরপর সাড়ে ১১টা থেকে প্রশাসন ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাইদুল ইসলামসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন এবং হল খোলা রাখার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলন চলাচালে জরুরি প্রয়োজনেও প্রশাসন ভবনে কেউ প্রবেশ বা বের হতে পারেননি। বেলা দুইটার দিকে দাপ্তরিক সময় শেষ হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন। হল খোলা রাখার দাবিতে বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সোয়া দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বের হয়ে এসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানায়। তবে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতারা ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তালা খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন। এরপর দুপুর আড়াইটার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা প্রশাসন ভবনে ঢুকে আলোচনা করে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনন্দ কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এসে আলোচনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ইলিয়াছ হোসেন জানান, প্রশাসন ভবনে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সব প্রাধ্যক্ষরা হল খোলা রাখার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন এবং সেই অনুযায়ী উপাচার্যের কাছে সুপারিশ করেন। উপাচার্য সেই সুপারিশ অনুমোদন করেন। এরপর প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক শিউলি শামিম শান্তা আন্দোলনকারীদের সামনে এসে হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি #

গাউছুল আজম মিল্টন শহীদ হবিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী - ৬২০৫ ০১৭৬৩-২৩৭৭৭৬

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com