,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বেগম খালেদা জিয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক প্রশ্ন তুললেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

লাইক এবং শেয়ার করুন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পর এবার প্রশ্ন তুললেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার শহীদ পরিবারের তালিকা আছে। তাহলে বাকি ২৭ লক্ষ কোথায় গেল?’ আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রিজভী আহমেদ’- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। সভার আয়োজন করে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

 

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো রেকর্ড নাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষ প্রমাণিত হয় না। এর সংখ্যা বেশি বা কম হতে পারে। সঠিক সংখ্যা নিরূপনে একটি গণজরিপ দরকার।‘ কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি আরও বলেন, ‘গলার জোরে কথা না বলে প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। সেক্ষেত্রে সংখ্যা ৩০ লক্ষের জায়গায় ৬০ লক্ষ হলে ক্ষতি কোথায়? ৩ লক্ষ হলেও তো সমস্যা নেই। দেশ তো স্বাধীন হয়েছে। এটি বিতর্কের বিষয় নয়।‘

 

গত ২১ ডিসেম্বর এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।‘তার ওই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। বক্তব্য প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এক আওয়ামীপন্থি আইনজীবী উকিল নোটিশ পাঠিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে বলেন এবং নড়াইলে খালেদার নামে একটি মামলাও করা হয়। 

 

এর জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘এখন আধুনিক প্রযুক্তি আছে। আমরা ইচ্ছা করলে সাত দিনের মধ্যে পরিসংখ্যানটা বের করতে পারি। সে কারণে আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীরা আহম্মক কি না জানি না। তাদের বলব- প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এর একটা জরিপ করে ফেলেন। প্রকৃত ইতিহাসটা চলে আসুক।’ একাত্তরের নিহতের সংখ্যা বহু বাড়িয়ে বলা হয় বলে মনে করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি কমও বলেননি, বেশিও বলেননি। এই বিতর্ক কিন্তু ’৯১ সালে সংসদে উঠেছিলো। প্রয়াত (অব.) কর্নেল আকবর হোসেন এই প্রশ্নটি করেছিলেন। শেখ সাহেব থিব্রো এয়ারপোর্টে যেটি বলেছেন সেটি তো আর বাণী না, যে পরিবর্তন করা যাবে না। অজ্ঞতাবশত তিন লাখের জায়গায় তিন মিলিয়ন/৩০ লাখ হয়ে গেছে। এটা তাড়াহুড়া করতে গিয়ে পেছনে কানে কানে বলছেন আর উনি শুনছেন তাড়াহুড়ায় একটা কথা উনি বলছেন। আমরা এটাকে টার্ম হিসেবে নিয়েছি ৩০ লক্ষ।’

 

গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আমি সাংবাদিক ভাইদের বলব, কেউ কথা বললে তার বক্তব্যের লাইনটা দিয়ে মতামত জরিপ করেন… যাদের গ্রামে যতজন একাত্তর সালে মারা গেছেন, শুধু পাকিস্তানিদের গুলিতে নয়, সাধারণ মৃত্যুও তো আছে- এগুলোর ঠিকানা পাঠাতে, মেসেজ করে দিতে বলেন। দেখেন তারপর পরিসংখ্যানটা চলে আসবে।’

 

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর নিহত বিভিন্ন পেশার খ্যাতিমানদের স্মরণে ওই দিনটিকে বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালনের সমালোচনা করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ওই সময়ে (একাত্তরে) ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন ভাতা খেয়েছে তারা নির্বোধের মতো মারা গেল। আর আমাদের মতো নির্বোধেরা শহীদ বুদ্ধিজীবি হিসেবে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি এতো বুদ্ধিমান হয়, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকেন কিভাবে?’

 

তিনি বলেন, ‘নেতৃত্বের অজ্ঞতা এবং আগাম সতর্কতার অভাবে ২৫ মার্চ যারা মারা গেছে, তারা না জানার কারণে মারা গেছে। কিন্তু ১৪ ডিসেম্বর যারা মারা গেছেন, তারা অজ্ঞতার কারণে মারা যায়নি। তারা জ্ঞাতসারেই ছিলেন। কারণ তখনও তারা প্রতিদিনই তাদের কর্মস্থলে যেতেন এবং পাকিস্তানের বেতন খেয়েছেন। যারা পকিস্তানের বেতন খাইল তারা হয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা, আর যারা পালিয়ে, না খেয়ে বেড়াল, তারা হয়ে গেলো রাজাকার। এই বিষয়গুলো পরিস্কার করা দরকার। কারণ এগুলো এখন ডাবল স্ট্রান্টার্ড হয়ে গেছে।’

 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী,বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আশিফা আশরাফি পাপিয়া প্রমুখ।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ