পৌরসভা নির্বাচনে শতকরা ৩৫ ভাগ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

এই সংবাদ ২৭ বার পঠিত

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্টেয় পৌরসভা নির্বাচনে শতকরা ৩৫ ভাগ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক গোপন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আজ(বৃহষ্পতিবার) এমন তথ্যই প্রকাশ পেয়েছে একটি আনলাইন গনমাধ্যমে। প্রতিবেদনে বিএনপি-জামায়াতকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করাতে এবং নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে চেষ্টা করছেন এ দুটি দল। এর ফলে নির্বাচনে ব্যাপক নাশকতা ও গোলাযোগ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।

 

এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগে আন্তঃকোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তারাও বিভিন্ন ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পুলিশের এ প্রতিবেদনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় । প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিতব্য ২৩৩ পৌরসভায় মোট ৩ হাজার ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৮৪টি।

 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে খুলনা বিভাগ। যেখানে ৪৭১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরেই ঝুঁকি বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রংপুর বিভাগ। সেখানে ৩০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। তৃতীয় অবস্থানে বরিশাল বিভাগ। বরিশালের ১৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের ৪৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকা বিভাগের ৯৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪৮টি। রাজশাহী বিভাগের ৮০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।  তবে সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে থাকা সিলেট বিভাগের ১৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পৌর নির্বচনে ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বলতে কিছু নেই। এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি। এগুলোতে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা প্রদানের চেষ্টা করবো। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৮ জন অস্ত্রধারীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে।’

 

এছাড়া পৌর নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জন্য র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। এছাড়া জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন বলেও জানান তিনি। পৌরসভা নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য জোরদার করার পাশাপাশি ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ থেকে নির্বাচন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রাখা যেতে পারে বলেও পুলিশের প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com