,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ফের গোলাপগঞ্জ সুুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলনে, উপজেলায় উত্তেজনা তুঙ্গে

লাইক এবং শেয়ার করুন

জাকারিয়া মোহাম্মদ, গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা: ফের গোলাপগঞ্জে সুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে  এসে এলাবাসীর তাড়া খেয়ে দলবলসহ বালু তোলার সরঞ্জাম নিয়ে পালিয়েছে উপজেলায় আলোচিত আফতাব। গত রোববার সকাল থেকে হাঠৎ করেই আফতাব উদ্দিন লোকজন নিয়ে বাঘা আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার খেয়াঘাট সংলগ্নে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করলে নদীর তীরবর্তী স্বরসতী এলাবাসীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে রাতে এলাকাবাসী স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে তাৎক্ষণিক আলোচনা শেষে উত্তেজিত হয়ে বাঘা খেয়াঘাটের দিকে মিছিল নিয়ে ছুটে যায়। এ সময় গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায় আফতাব ও তার বাহিনী। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর ফজলুল আলম মঙ্গলবার গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরীর কাছে এলাকাবাসী পক্ষ থেকে  একটি লিখিত আবেদন করবেন বলে এলাকাবাসীকে আশ্বস্থ করলে এলাকার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে।

এর আগেও বাঘা ইউনিয়নের লালনগর এলাকা সীমান্তবর্তী সুরমা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আফতাব ও তার লাটিয়াল বাহিনী। এনিয়ে গত ৫ অক্টোবর বালু তুলতে বাঁধা দেওয়ার  কারণে  ধারালো অস্ত্রের কোপে এ এলাকার ইসমাঈল আলী (৫০)’র শরীরে বিভিন্ন জায়গায় দা’য়ের একাধিক কোপ ও হাতের আটটি আঙ্গুল এবং তার স্ত্রী নেহার বেগম (৩৫)’র ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় আফতাবের লাঠিয়াল বাহিনী।  এছাড়া আফতাব বাহিনীর হামলায় এ পরিবারের বেশ ক’জন সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তখন ভর্তি হন। এ ঘটনার পর  ১০জনকে আসামী করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে পুণরায় আফতাব ও বাহিনী আবারও অবৈধভাবে বেপরোয়া হয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে।

গোলাপগঞ্জে সুরমা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ইজারাদারের হিংস্র বাহিনী কর্তৃক নিরীহ লোকজনের উপর হামলা-মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনের পক্ষ থেকে অভিযোগ উত্থাপন করে বলা হয়, বালু মহালের নামমাত্র অংশ ইজারা নিয়ে ব্যাপক অংশে বালু উত্তোলন করে একদিকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করা হচ্ছে, অন্যদিকে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য হাতিমনগর বালু মহাল ইজারা নেন সিলেট ইসলামপুর এলাকার মৃত রস্তুম আলী পুত্র আফতাব উদ্দিন। পরে তিনি তার বাহিনী তৈরী করে অবৈধভাবে উক্ত বালু মহাল থেকে গোলাপগঞ্জের বাঘা ইউনিয়নের বাঘা মৌজার ২ একর ৭৫ শতক ভূমি অন্তর্ভক্ত করা হয়। যেখানে এক বা দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কথা, সেখানে বিগত সাড়ে চার মাস থেকে ইজারাদার আফতাব উদ্দিন ও তার পক্ষের লোকজন ইজারার নির্ধারিত এলাকা ছেড়ে প্রায় কয়েক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে। এখন তার চোখ পড়েছে গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাঘা আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার সীমানা। যা ইজারা বর্হিভূত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ